Print Date & Time : 9 May 2021 Sunday 2:07 pm

শীতার্তদের সহায়তায় বরাদ্দ বাড়ানো হোক

প্রকাশ: February 3, 2021 সময়- 01:00 am

গত কয়েকদিন ধরে দেশব্যাপী প্রবাহিত হচ্ছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। ঢাকা শহরেই তাপমাত্রা নেমে গেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। আর দেশের নানা এলাকায় এ তাপমাত্রা ৫-৬ ডিগ্রির কাছাকাছি। এমন পরিস্থিতিতে দেশে শীতার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও। ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অনেকেই কর্মহীনতায় ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে শীতের প্রকোপ মোকাবিলায় বরাদ্দ বাড়ানো উচিত বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ’ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, সারাদেশেই এখন হাড় কাঁপানো শীত জেঁকে বসেছে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা, উত্তরের জনপদ সৈয়দপুর, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা ছিল ৬ ডিগ্রির কাছাকাছি। এতে সহজেই অনুমান করা যায় যে, ওইসব স্থানে কেমন শীত পড়ছে। কেবল উল্লিখিত স্থানগুলোতেই নয়, বর্তমানে সারা দেশের মানুষ শীতের কারণে কষ্ট পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও বেসরকারি খাতের উচিত দরিদ্র শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

সাধারণত মাঠ প্রশাসনে নানা দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি নির্দিষ্ট বরাদ্দ দেয়া হয়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ বরাদ্দ বাড়ানো উচিত বলে মনে করি। এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তৎপরতা আরও বাড়ানো উচিত। এক্ষেত্রে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেয়া এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি সহায়তা বিতরণের জন্য প্রয়োজনে স্কাউটসের সদস্যদের কাজে লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি বর্তমানে সব শিক্ষাপ্রতষ্ঠানে ছুটি চলছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও কাজে লাগানো যেতে পারে।

বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় যে বরাদ্দ দেয়া হয়, তা বিতরণের প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন থেকেই যায়। নানা সময়ে ত্রাণসামগ্রী লোপাটের খবর গণমাধ্যমে এসেছে। আর এ লোপাটের সঙ্গে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির জড়িত থাকার অভিযোগ ও প্রমাণ অনেক আছে বৈকি। ত্রাণসামগ্রী লোপাটের ঘটনায় অনেককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিও দেয়া হয়েছেÑএমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীকে চিহ্নিত করে তার কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া যেতে পারে।

এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকা দেশের প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। তাই বিত্তবান ব্যক্তিদের উচিত শীতে কষ্ট পাওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। এক্ষেত্রে সব দায়িত্ব একমাত্র সরকারের কাঁধে চাপানো উচিত নয় বলে মনে করি। এদেশের নাগরিক হিসেবে হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো সব বিত্তবান মানুষের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কাজেই তাদের উচিত সে দায়িত্ব পালন করা।