দিনের খবর সারা বাংলা

শীতের আগমনে ভিড় বেড়েছে সুস্বাদু কালাই রুটির দোকানে

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া: সুস্বাদু খাবার হিসেবে কালাই রুটি ভোজনরসিকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। মরিচ বাটা, পেঁয়াজ কুচি বা সরষের তেল দিয়ে বেগুন ভর্তার সঙ্গে গরম কালাই রুটি মানুষের কাছে একটি প্রিয় খাবার হিসেবে পরিচিত। শীতের আগমনে সুস্বাদু এসব কালাই রুটির দোকান গড়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থানে। অস্থায়ীভাবে ফুটপাথের পাশে গড়ে উঠা এসব দোকানের বেচাবিক্রিও বেড়েছে বেশ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ কালাই রুটি খেতে আসছেন ফুটপাথের এসব দোকানে।

জানা যায়, প্রথমে মাষকালাই ও আতপ চাল পাটাতে বা জাঁতায় পিষে আটা বানানো হয়। মেশিনে তৈরি আটা দিয়ে কালাই রুটি বানানো গেলেও পাটায় পিষ্ট আটা দিয়ে কালাই রুটির স্বাদ বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে স্বাদমতো লবণ ও প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি মিশিয়ে খামি তৈরি করা হয়। এর থেকে ছোট বল পরিমাণ আটা নিয়ে গোলাকার করা হয়।

পরে দুই হাতের তালুতে রেখে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বড় রুটি বানানো হয়। সাধারণত গমের রুটির চেয়ে কালাই রুটি অধিক পুরু এবং বড় হয়। এরপর রুটি মাটির তাওয়ায় সেঁকে গরম করা হয়। রুটির রঙ বাদামি হয়ে গেলে নামিয়ে নেওয়া হয়। কালাই রুটির সঙ্গে সাধারণত বেগুন ভর্তা, শুকনো মরিচ ভর্তা, বট, পেঁয়াজ ভর্তা, মাংস ভুনা প্রভৃতি দিয়ে পরিবেশন করা হয়। এসবের সঙ্গে রুটির টুকরো ছিঁড়ে গরম গরম খাওয়া হয়।

সরেজমিন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার খাড়ারা গ্রামের ফেরত মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাথের পাশে অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠেছে কালাই রুটির দোকান। সেখানে খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি রুটি তৈরি করছেন। এতে সহায়তা করছেন তার স্ত্রী। আর দোকানে বসে মানুষ রুটি খাচ্ছেন।

খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আগে স্যালো ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চালাতাম। আমার গাড়ির স্ট্যান্ডে রেললাইনের পাশে এক নারী কালাই রুটি তৈরি করতেন। তা দেখে প্রথম আমি শিখি। সেখান থেকে শিখে পরবর্তীতে আমি নিজেই তৈরি করা শুরু করেছি। দোকানে অনেকেই এসে কালাই রুটি খান, সুনামও করেন।’

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কেজি আটার রুটি বিক্রি হয়। এক কেজি আটায় ছয় থেকে সাতটি রুটি হয়। রুটির সঙ্গে বেগুল ভর্তা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়ার পাতা ছাড়াও রায় বাটা থাকে। কালাই রুটি দুই রকম তৈরি হয়। এর মধ্যে শুধু কালাই রুটি ৪০ টাকা প্রতিটি বিক্রি করা হয়। এছাড়াও আরেক রকম ২৫ টাকায় বিক্রি করা হয়। মূলত শীতের তিন থেকে চার মাষকালাই রুটি বিক্রি হয়। প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আরা প্রতিদিন ২৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

কথা হয় কালাই রুটি খেতে আসা আছাদুর রহমান বাবুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ফেরত মোড়ে অনেকদিন ধরে শুনছি ভালো কলাই রুটি তৈরি করা হয়। তাই আমরা কালাই রুটি খেতে এসেছি। এই কালাই রুটির স্বাদ বেশ ভালো।’

মো. মামুনুর রশিদ নামে আরেকজন বলেন, ‘মিরপুরের গেট পাড়া থেকে কালাই রুটি খেতে এসেছি। বেগুন ভর্তা আর ধনিয়া পাতা দিয়ে মসলা বানানো অনেক সুস্বাদু। এটা গত বছর খাওয়ার পর অনেক ভালো লেগেছিল। এ কারণে কালাই রুটি খেতে এসেছিলাম।’

মো. আশরাফুল আলম হিরা বলেন, ‘আমি মিরপুর পৌর এলাকা থেকে কালাই রুটির সন্ধান পেয়ে খেতে এসেছি। এখানে এসে দেখলাম আমার মতো অনেকে কালাই রুটি খেতে এসেছেন। গরম গরম কালাই রুটি খেয়ে বেশ ভালো লাগলো।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..