দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

শীতে করোনা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর

শেয়ার বিজ ডেস্ক: আসন্ন শীতে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সামনে শীত, আরেকটু হয়তো খারাপের দিকে যেতে পারে। এজন্য আমাদের এখন থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এই অনুদান গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। সবাই কাজ করেছে, আমি কাউকে বাদ দিতে পারব না। সেজন্য হয়তো আমরা এটা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি।

ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের যেকোনো সময় একটা কিছু হলেই কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাক যা কিছু হোক, এমনকি মুজিববর্ষেও আপনারা এগিয়ে এসেছেন। নিজেরা এগিয়ে এসেছেন, তাই আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

সরকারপ্রধান বলেন, প্রাইভেট ব্যাংকটা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমরাই নিয়েছিলাম, আমরা দিয়েছি সব থেকে বেশি। গ্রামপর্যায় পর্যন্ত মানুষ যাতে ব্যাংকিং ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়, তার ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। এমনকি কৃষকদের ১০ টাকায় অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থাও করে দিয়েছি। অর্থাৎ মানুষকে অভ্যস্ত করা, যাতে ব্যাংকের মাধ্যমে তারা যেন তাদের আর্থিক লেনদেন করতে পারে, সেই পদক্ষেপও আমরা নিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা যত বেশি প্রাইভেট ব্যাংক দিয়েছি, এতে ব্যাপকহারে কর্মসংস্থান হয়েছে। অনেক মানুষের চাকরি হয়েছে। এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। আর আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হয়েছে। সেখানে ব্যাংকগুলো যাতে ভালোভাবে চলে আমরা সেটাই চাই সেক্ষেত্রে ব্যাংকের আইন বা যা কিছুই আমরা করি।’

ব্যাংক সেক্টর নিয়ে বিএবি চেয়ারম্যানের দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা যখন যে দাবি আনেন, যেটা যুক্তিসংগত সেটা আমরা সব সময়ই বিবেচনা করি। বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল সাহেব যে কথাগুলো বলেছেন, আমি সেটা দেখব। যদি সেখানে সমস্যা থাকে, তবে সেখানে যাতে সমস্যা না হয় তা আমরা অবশ্যই বিবেচনা করব। আপনাদের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে ব্যাংকটা যেন ভালোভাবে চলে, সেদিকে আপনারা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন।’

তিনি বলেন, কিছু ব্যাংক আছে অতি দুর্বল হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে অনেক সময় মার্জ করাতে হয়। সেটা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে, কোনটা ঠিকমতো চলছে, কোনোটা ঠিকমতো চালাতে পারছে কি না? সেগুলো বিবেচনা করেই করা হবে। অবিবেচনা করে কিছুই করা হবে না, এটুকু ভরসা রাখবেন। আপনাদের এই অনুদান সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগবে। সেজন্য আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছে এই করোনাভাইরাসের কারণে। দেশটা যাতে করোনাভাইরাসের এই মহামারি থেকে মুক্তি পায়, সারা বিশ্বই যাতে মুক্তি পায় সেই কামনা করি।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের ৩৪টি ব্যাংক, ফরেইন অফিসার্স স্পাউজ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট, মিনিস্টার গ্রুপ, খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..