প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শীতে ত্বকের যত্ন

 

5588_24242_67374

স্টিম বা ভাপ পদ্ধতি

মুতাসিম বিল্লাহ নাসির: লোমকূপ পরিষ্কার থাকলে ত্বক উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখায়। ত্বকের গভীরের ময়লা পরিষ্কার করতে আদিকাল থেকে চলে আসা স্টিম বা ভাপ পদ্ধতি ব্যবহার করেন অনেকে। ত্বকের যত্নে স্টিম নেওয়ার ইতিহাস বেশ পুরোনো। ভাপ নেওয়ার মাধ্যমে ত্বক থাকে পরিষ্কার। এ পদ্ধতিতে ত্বকের উপরিভাগে ঘাম সৃষ্টি হয়, আর্দ্রতা বাড়ে, যা ত্বক পরিষ্কার করতে জাদুর মতো কাজ করে। ভাপে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন গতিশীল হয় এবং ত্বকের উপরিভাগে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে নিয়ে আসে। অনেকের ত্বকের ওপরে প্রচুর পরিমাণ মৃতকোষ জমে, যাকে বলে হর্নড। ভাপের আর্দ্রতা এ মৃত কোষকে নরম করে দেয়। ফলে ত্বক পরিষ্কার করতে সুবিধা হয়।

 

ত্বকের ঘাম ধুয়ে বা মুছে ফেলুন

ঘাম অথবা ধুলাবালির কারণে ত্বকে ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের আক্রমণ ঘটতে পারে। ঘাম ত্বকের আর্দ্রতা কমিয়ে ফেলে। এ কারণে লোমকূপের গোড়ায় বাসা বাঁধে রোগ-জীবাণু। তৈরি হয় ঘামাচি। অতিরিক্ত ঘামাচির কারণে ত্বক বাদামি বর্ণের হয়ে যায়। তাই ঘাম বেশি হলে তাড়াতাড়ি ধুয়ে অথবা মুছে ফেলার চেষ্টা করুন।

যাদের ত্বকে ঘামাচি হয়, তারা নিমপাতার রস লাগালে উপকার পাবেন। এর পাশাপাশি খেতে পারেন তেঁতো জাতীয় খাবার। ঘাম বেশি হলে ট্যালকম পাউডারের সঙ্গে খাওয়ার সোডা ব্যবহার করতে পারেন। ঘামের দুর্গন্ধ তাড়াতে ডিওডোরেন্ট ও বডি স্প্রে ব্যবহার করুন। সমস্যা বেশি হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

 

এড়িয়ে চলুন কড়া রোদ

যথাসম্ভব কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন। বাইরে বের হওয়ার অন্তত আধঘণ্টা আগে সানস্ক্রিন লোশন মেখে নেবেন। ছাতা, সানগ্লাস ও পানির বোতল নিতে ভুলবেন না। স্বাস্থ্যের যতœ নিন, প্রতিদিন কমপক্ষে আট গ্লাস পানি খান, বার বার মুখ ধোয়ার অভ্যাস করুন। ত্বকের যতেœ খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও মনোযোগী হতে হবে।

সুন্দর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের জন্য প্রয়োজন শীতের শাকসবজি ও ফল। ফুলকপি, শিম, নানারকম শাক, মটরশুঁটি, বরবটি, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। পরিশেষে ত্বক রক্ষায় প্রসাধনী নয়, নজর দিন ত্বকের প্রয়োজনীয় পুষ্টির দিকে, যা ছড়ানো আছে প্রকৃতিপ্রদত্ত খাদ্য উপাদান আর ফলমূলে। মনে রাখা উচিত, সুস্থ ত্বক মানেই সুন্দর ত্বক।

full_313979229_1482419676

ম্যাসাজ

ত্বকের রঙে তারতম্য রয়েছে। মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের তারতম্যের কারণে এ বৈচিত্র্য ঘটে। মেলানিন বেশি তৈরি হয় রোদে। এ পদার্থের কারণে ত্বকে এক ধরনের বাদামি ও কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়ে। এ দাগ দূর করা কঠিন নয়।

ঘরে বসে তৈরি করুন ম্যাসাজ উপকরণ

১. শসার রসের সঙ্গে টক দই ও তিলের তেল এক সঙ্গে মিশিয়ে তা ত্বকে ম্যাসাজ করুন। এছাড়া দিনে একবার রোদ থেকে ফিরে তরমুজের রস লাগাতে পারেন। এক টুকরা নিয়ে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন। ত্বক উজ্জ্বল লাগবে।

২.  শুষ্ক ত্বকে চন্দনগুঁড়োর সঙ্গে দুধের সর আর সামান্য হলুদ একসঙ্গে মিশিয়ে মুখ ও ঘাড়ে লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক হবে উজ্জ্বল আর সঙ্গে আসবে মসৃণতা।

৩. এক চিমটে জাফরান কাঁচা দুধে মিশিয়ে প্রতিদিন মুখে লাগাতে পারেন। ১৫ দিন পর নিজেই পরখ করতে পারবেন নিজের ত্বকের উজ্জ্বলতা।

৪. এক চা-চামচ লাল মসুর ডাল রাতভর কাঁচা দুধে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পেস্ট করে মুখে ও গলায় মাখুন। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

berbagai-manfaat-madu-bagi-kulit৫. তৈলাক্ত ত্বকে এক টুকরো পাকা কলা ভালোভাবে চটকে নিয়ে এতে কয়েক ফোঁটা শসার রস মেশান। এরপর মুখ, গলা ও ঘাড়ে লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৬. এক চা-চামচ মুগডাল সামান্য কাঁচা দুধে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পেস্ট করে মুখে-ঘাড়ে মাখুন। ১০-১২ মিনিট পর স্ক্রাব করুন। তারপর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এটি ত্বকের ওপরের মরা কোষের আবরণ সরিয়ে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।

৭. নরমাল ত্বকের জন্য কতোগুলো আমন্ড বাদাম গোলাপজলে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পেস্ট করে মুখে মাখিয়ে রাকুন ২০ মিনিট। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাড়িয়ে দেয় মসৃণতাও।

৮. মধুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে-গলায় লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট। মধু প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার আর লেবুর প্রাকৃতিক ব্লিচিং ত্বককে করবে আরও পরিষ্কার।

 

resize773