দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

শীত আসার আগেই বাড়ছে গরম কাপড়ের চাহিদা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শীত এখনও জেঁকে বসেনি। দিন গড়িয়ে রোদের আঁচ শেষে সন্ধ্যা নামতেই বদলে যাচ্ছে তাপমাত্রা। রাতের পাশাপাশি ভোর পর্যন্ত কুয়াশার সঙ্গে শীতের আবহ বেশ খানিকটা টের পাওয়া যায়। যদিও রোদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখনও পেরে ওঠেনি শীত। তবে এরই মধ্যে কদর বাড়তে শুরু করেছে গরম কাপড়ের।

দাম, মান আর দোকানভেদে বিভিন্ন ধরনের গরম কাপড় পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীর দোকানগুলোয়। বিশেষ করে ফুটপাতের ভাসমান দোকানগুলোয় এসব কাপড় বিক্রি হচ্ছে খুব বেশি। উলের তৈরি সোয়েটার, চাদরের সঙ্গে এসেছে ব্লেজার, ছোটদের গরম কাপরের সেট, টুপিসহ আরও অনেক পোশাক। গতকাল ছুটির দিনে এসব কাপড়ের দোকানে ভিড় ছিল লক্ষণীয়।

রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, বড় দোকানগুলোয় এসেছে ফুলহাতা টি-শার্ট, হুডি, শীতের টুপি, জ্যাকেট, ডেনিম শার্ট, ডেনিম সোয়েটার, মাফলার ইত্যাদি। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কাপড়ের তৈরি জুতা, ঘরে পরার উলের জুতা ও কম্বল। এসব পোশাকের দামও রয়েছে ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে। রাজধানীর নিউমার্কেট, মৌচাক, মালিবাগ, খিলগাঁও, পল্টন, গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন মার্কেট এবং কিছু এলাকার ফুটপাত ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর এসব এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্রেতার সমাগম হচ্ছে ফুটপাতে। ফুটপাতে ছোটদের পোশাকের চাহিদাই বেশি চোখে পড়ছে। সেইসঙ্গে বিক্রি হচ্ছে বড়দের পোশাকও।

ফুটপাতে সর্বনি¤œ ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকমের গরম পোশাক, যার মধ্যে রয়েছে শিশুদের জিন্সের ফ্রক, স্কার্ট, উলের পোশাক, বেবি কিপার, রেকসিনের জ্যাকেট, ওভারকোট, কার্ডিগান, মাফলার ও নতুন ডিজাইনের কানটুপি। এসব পোশাক মৌচাক, মালিবাগ ও গুলিস্তান এলাকার দোকানগুলোয় পাওয়া যাচ্ছে।

ছেলেদের পোশাকের মধ্যে এসব বাজারে রয়েছে গেঞ্জি বা ট্রাউজারের কাপড় দিয়ে তৈরি হুডি, ফুলহাতা টি-শার্ট, শীতের টুপি, জ্যাকেট, ডেনিম শার্ট, মিক্স স্টাইলের সোয়েটার আর ব্লেজার।

নিউমার্কেটের জ্যাকেট কিনতে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরেফিন আহমেদ বলেন, শীতের প্রকোপ বাড়লে গরম কাপড়ের দাম বেড়ে যায়। তাই আগেই কিনে নিয়েছেন পছন্দের জ্যাকেট।

এদিকে বাজারে এসেছে বিভিন্ন ধরনের কম্বল। নানা ডিজাইনের এসব কম্বল পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। তবে এক্সপোর্ট কম্বলের দাম চাওয়া হচ্ছে চার হাজার থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে। কম্বলের দোকানে ক্রেতার আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, কম্বলের দাম বেশি বলছেন বিক্রেতারা।

মৌচাক এলাকার ক্রেতা হামিদা আজাদ বলেন, শীত ভালোভাবে না আসায় এখন পর্যন্ত গরম কাপড়ের দাম কম আছে। এ সুযোগটি কাজে লাগাতেই মার্কেটে আসা। বেশকিছু কাপড় কেনা হয়েছে।

খিলগাঁও বাজারের বিক্রেতা সুমন মিয়া বলেন, আমাদের এখানে গরম কাপড়ের বিক্রি আগে থেকেই শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ছোটদের কাপড়। এখন দাম বাড়তে শুরু করেছে। শীত বেশি হলে কাপড়ের দাম আরও বেড়ে যাবে।

পল্টন এলাকার ফুটপাত ব্যবসায়ী আলী আহমেদ বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও গরম কাপড়ের ব্যবসা করছি। তবে ফুটপাতে জায়গার স্বল্পতা আর সিটি করপোরেশনের বাধার কারণে ব্যবসা জমাতে পারছি না। এখন পর্যন্ত বিক্রি বেশ ভালো। ছোটদের পোশাকের পাশাপাশি দাম কম হওয়ায় এখন কম্বল বিক্রি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশে কম্বলের দামের বিষয়ে আবদুল হামিদ বলেন, ১৫০ থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে কম্বল মিলছে। তবে এক্সপোর্ট কোয়ালিটির দাম বেশি পড়লেও অন্য বছরের তুলনায় দাম অনেক কম। শীত বেশি হলে আরও দাম বাড়বে বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..