প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শীত কম পড়াটা সাধারণের জন্য ভালো

 

আবদুল হাদী: কী জানি কী কারণে এবার শীত সেভাবে পড়ছে না রাজধানীতে। ডিসেম্বর পেরিয়ে জানুয়ারি চলে এলো, তাও শীতের দেখা নেই বললেই চলে। শীত কি এবার তবে আরও দেরিতে পড়বে?

পরিচিত ও বন্ধুদের অনেকে এখনও শীতের পোশাক নামায়নি। শীতের সবজি ও মাছ খাচ্ছি, কিন্তু শীতবস্ত্র পরতে হচ্ছে না, এমন মৌসুম কমই গেছে জীবনে। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে শীতের পিঠা খাচ্ছি, কিন্তু তাতে সেই আমেজ নেই। এক পিঠাওয়ালাকে সেদিন জিজ্ঞেস করায় সে বললো, এবার বেচাবিক্রিও তার কম। জানি না, তীব্র শীত পড়েনি বলে রাস্তার ধারে চায়ের দোকানেও বিক্রি কমে গেছে কি না।

রাজধানী শুধু নয়, গ্রামের দিকেও শীত এবার কম এখন পর্যন্ত। আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানি না, তবে এখন পর্যন্ত শীত সেভাবে না পড়ায় শীতবস্ত্র বিক্রি কমে গেছে বলেই মনে হয়। দেশে গার্মেন্ট শিল্পের প্রসার ঘটায় জামাকাপড়ের দাম কমে গেছে। গরিবের জন্য সুলভ হয়েছে জামাকাপড়। অথচ এক সময় আমরা এজন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। পুরোনো জামাকাপড় আমদানি করা হতো দেশে। নি¤œবিত্ত মানুষের জন্য সেসবই ছিল ভরসা। এখন শীতবস্ত্রও বিদেশ থেকে আসে কম। আমাদের গার্মেন্টগুলো শীতবস্ত্রও উৎপাদন করে এবং তার একাংশ চলে আসে অভ্যন্তরীণ বাজারে। আমদানিতে বাতিল বলে গণ্য হওয়া জিনিসগুলো অনেক সস্তায় পাওয়া যায় সাধারণ দোকান ও ফুটপাথে। সেদিন এমন এক দোকানি বলছিলেন, তার ব্যবসা এবার মন্দা। ভালো ব্যবসার আশায় তিনি ধারকর্জ করে মালপত্র তুলেছিলেন। সেসব বিক্রি করে মূল টাকা উঠিয়ে আনাই এখন তার পক্ষে কঠিন।

এ ঘটনাকে অন্যদিক থেকেও দেখার সুযোগ রয়েছে। শীত সেভাবে পড়েনি বলে লোকজনকে শীতবস্ত্র কেনার জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে কম। বেঁচে যাওয়া এই টাকা তারা ব্যয় করছে তাহলে কোন খাতে? দরিদ্র মানুষ খাবার-দাবারের পেছনেই ব্যয় করতে পছন্দ করে। তারা তো আর ভ্রমণে যায় না। তীব্র শীত না পড়লে আরেকটি সুবিধা হয় মানুষের। শীতজনিত অসুখ-বিসুখ বাড়ে না আর সেজন্য খরচও করতে হয় কম। বিশেষ করে, শিশু ও বৃদ্ধদের এ সময়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগতে দেখা যায়। শীত ও শৈত্যপ্রবাহে অনেক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে দেশে। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন তৎপর থাকলেও এ ধরনের মৃত্যু আমরা কিছুতেই এড়াতে পারি না। শীত তীব্রভাবে পড়লে, শৈত্যপ্রবাহ আর কুয়াশা হলে অনেক সময় চলাচলে অসুবিধায় পড়তে হয় মানুষকে। পণ্য চলাচল ব্যাহত হয় আর তাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় কাজে যেতে পারে না দিনমজুররা। রিকশা ও ভ্যানচালকদেরও আয় কমে যায়। তাদের অনেকে কিন্তু দিন এনে দিন খায়। এদের হাতে সঞ্চয় থাকে না। ধারকর্জ পাওয়ার মতো লোকও তাদের নাগালে থাকে কম। এসব মিলিয়ে মনে হয়, এবার শীতটা যেমন আছে, তেমনটি থাকলেই ভালো। সাধারণ মানুষের জন্য শীত আসলেই তো নিষ্ঠুর ঋতু।

 

ওয়ারী, ঢাকা