দিনের খবর সারা বাংলা

শীত মৌসুমে খামারিদের সঙ্গে লাভবান ব্যবসায়ীরাও

লক্ষ্মীপুরে বাড়ছে হাঁস পালন

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: শীত মৌসুমের শুরুতেই লক্ষ্মীপুরে চলছে হাঁস বিক্রির ধুম। ঐতিহ্য হিসেবে শীত এলেই এ অঞ্চলে হাঁসের চাহিদা বাড়ে। শীতের শুরুতেই জাতভেদে এখন প্রতি জোড়া হাঁস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায়। অধিক লাভের আশায় খামারি ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে হাঁস সংগ্রহ করে হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চলে ফেরি করে বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন এ ব্যবসায় ঝুঁকছেন অনেকেই।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরে শীত মৌসুমে হাঁসের মাংস একটি ব্যতিক্রমী ভোজনবিলাসের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। শীত এলেই এ অঞ্চলে হাঁসের মাংসের চাহিদা বাড়ে। এ সময় লক্ষ্মীপুরের রামগতি, আলেকজান্ডার, চরগজারিয়া, কমলনগরের চরমার্টিন, তোরাবগঞ্জ বাজার, চরলরেঞ্জ, সদরের চর রমণীমোহনসহ জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে চলে হাঁস বেচাকেনার ধুম। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

অধিক লাভের আশায় খামারিরা ছাড়াও চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হাঁস সংগ্রহ করে হাটবাজারে হাঁস বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এ সময় অল্প কিছু মূলধন নিয়ে এ ব্যবসায় নেমে পড়েন তারা। ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ অঞ্চলে হাঁস আমদানি করা হচ্ছে ভোলা, বরিশাল, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও।

সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের নজির, কামরুল, রনিসহ কয়েকজন হাঁস বিক্রেতা জানান, তারা চরাঞ্চল থেকে দুধ এনে শহরে ও গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করেন। কিন্তু শীতকালে দুধের চাহিদা ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা চরাঞ্চল থেকে হাঁস ৪০০-৪৫০ টাকায় কিনে আনেন। পরে ফেরি করে বিক্রি করেন ৫০০-৭০০ টাকায়। এতে তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন।

সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের কয়েকজন জানান, ঐতিহ্য হিসেবে শীত এলেই এ অঞ্চলে হাঁসের চাহিদা বেড়ে যায়। হাঁস রান্না করা সময়সাপেক্ষ এবং একটু ঝামেলা হওয়ায় দলগত কিংবা পারিবারিকভাবে শীতের সময়ে চলে হাঁস রান্নার আয়োজন।

একই উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের রিপন হোসেন, জামাল মিয়াসহ কয়েকজন হাঁস ব্যবসায়ী বলেন, অন্য সময় হাঁস বেচাকেনা কম হলেও শীত  মৌসুমে হাঁসের চাহিদা বেড়ে যায়। বিশেষ করে এ সময় নর (আড়িয়া) হাঁসের চাহিদা ও দাম বেশ ভালো। একেকটি পুরুষ হাঁস মানভেদে বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। এ সময় খামারিরা যেমন লাভবান হন, তেমনি তারাও লাভবান হন বলে জানান।

কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা রেশমা বেগম। তিনি জানান, তার খামারে ২৫টি দেশি মাদি ও ৭টি নর হাঁস রয়েছে। এতদিন মাদিগুলো থেকে ডিম বিক্রি করেছেন। এখন হাঁসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এগুলো বিক্রি করে আবার নতুন করে বাচ্চা এনে তা লালন করবেন বলে জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা ডা. জোবায়ের হোসেন বলেন, সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হাঁসের খামারি তৈরি এবং খামারিদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..