সারা বাংলা

শীত মৌসুম সামনে রেখে যশোরে আগাম সবজি চাষ

প্রতিনিধি, যশোর: শীতের আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলেই বেশি টাকা আয় করা সম্ভব। বিষয়টি মাথায় রেখে যশোর অঞ্চলে এখন ধুম পড়েছে সবজি চাষের। আগাম শীতকালীন শাকসবজি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।
টানা অনাবৃষ্টি আর খরার কারণে যশোর অঞ্চলের চাষিরা সময়মতো সবজি চাষ শুরু করতে না পারলেও শেষ দিকে কাক্সিক্ষত বৃষ্টি পাওয়ায় পুরোদমে চাষে নেমে পড়েছেন তারা। কৃষকরা বলছেন, সামনে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে এ অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ শীতকালীন সবজি উৎপাদন হবে।
যশোরের সাতমাইল, চুড়ামনকাটি, বারিনগর, হৈবতপুর, কাশিমপুর, বন্দবিলা, লেবুতলা, নোঙরপুর, ইছালি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে ধুম পড়েছে বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, মুলা, লালশাক-পালংশাক, সবুজ শাকসহ নানা ধরনের সবজি চাষের। আগাম শীতকালীন চাষ করলে ফসলের বেশি দাম পাওয়া যায়। তাই সবজি ফলাতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। পুরোদমে চলছে মাঠ প্রস্তুত, বীজ বপন, চারা রোপণ ও পরিচর্যার কাজ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু সবুজের সমারহ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে যশোরে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির টার্গেট নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ জমিতেই বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ হয়েছে। এসব সবজি পরিচর্যা করছেন কৃষকরা। আর এক থেকে দেড় মাসের ভেতর এসব সবজি বাজারে তুলবেন কৃষক।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ অঞ্চলে উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাইকারদের হাত ধরে চলে যায় রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায়। প্রায় বছরজুড়েই এ অঞ্চলের চাষিরা নানা জাতের সবজি চাষ করে থাকেন। তবে শীত মৌসুম ঘিরে সবজি চাষে ধূম পড়ে এ জেলায়।
সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ শুধু সবজির ক্ষেত। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, পালংশাক, লালশাক, সবুজ শাক, বেগুন, টমেটোসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেছেন কৃষক। এসব ক্ষেত পরিচর্যা করছেন চাষিরা। যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশেই রাজাপুর মাঠে কথা হয় সবজি চাষি রিপন হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, এ বছর দীর্ঘ অনাবৃষ্টি আর তীব্র গরমের কারণে সময়মতো শীতকালীন সবজির চাষ শুরু করতে পারেননি। যে কারণে একটু দেরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ থেকে এ অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তারা এখন পুরোদমে চাষ শুরু করেছেন। তিনি দুই বিঘা জমিতে কপি ও ১৫ কাঠা জমিতে লালশাক চাষ করেছেন।
একই মাঠে কথা হয় জব্বার শেখ নামে আরেকজন কৃষকের সঙ্গে। তিনি জানান, শীতকালীন সবজি উৎপাদনে উপযুক্ত সময়ের আগেই তারা সবজি বাজারে তুলতে চান। এ জন্য একটু আগেভাগে সবজি চাষ শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে। তবে সবজি বাজারে তোলার সময় কাক্সিক্ষত দাম পাবেন কি নাÑতা নিয়ে শঙ্কায় আছেন।
পাশের নোঙরপুর মাঠে কথা হয় সবজি চাষি শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতি বছর এ অঞ্চলের চাষিরা বিপুল পরিমাণ জমিতে কপি আবাদ করেন। কিন্তু কপির ফলন আসার সময় ডায়মন ব্যাকমথ নামে একটি মারাত্মক পোকা সর্বনাশ করে দেয়। এসব পোকা দমনে নানা ধরনের কীটনাশক ছড়ানোর পরও কাজ হয় না। মানসম্মত কীটনাশকের অভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শ চান তারা।
সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সাদ আরিফ ও মাহাবুবুর রহমান জানান, কপি ক্ষেতে ডায়মন্ড ব্যাক মথ নামে এ পোকার আক্রমণ দীর্ঘদিন ধরে। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। আমাদের পরামর্শে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ ও ফেরোমেন সেক্স ট্র্যাপ ব্যবহার করায় গত বছর কপি ক্ষেতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল না বললেই চলে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুষান্ত কুমার তরফদার জানান, যশোর সবজি জোন হিসেবে পরিচিত। প্রায় সারা বছর ধরেই এ জেলার চাষিরা নানা জাতের সবজি চাষ করে থাকেন। এ বছর এ অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টি হওয়ায় সবজি চাষে কোনো সমস্যা হয়নি। তাছাড়া বাজারে সবজির ভালো দাম থাকায় কৃষক ভালো লাভবানও হয়েছেন। এসব কারণে চাষিরা শীতকে সামনে রেখে যতœ সহকারে সবজি চাষ শুরু করেছেন। শীতকালীন এসব সবজি চাষকে লাভজনক করে তুলতে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। বিশেষ করে পোকা দমনে বালাই নাশক পদ্ধতি অনুসরণের জন্য কৃষকদের নানা ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছেন।

সর্বশেষ..