দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

শীর্ষে যশোর ভ্যাট কমিশনারেট পিছিয়ে এলটিইউ

অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক:অনলাইনে বাড়ছে ভ্যাট নিবন্ধন, বাড়ছে দাখিলপত্র (ভ্যাট রিটার্ন) জমার হার। তবে এখনও অনলাইনে সিস্টেমের কিছু দুর্বলতা ও করদাতাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি না হওয়ায় রিটার্ন আশানুরূপভাবে বাড়ছে না। ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইন নিবন্ধন এক লাখ ৩৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসে অনলাইনে রিটার্ন জমা পড়েছে মাত্র ৯ হাজার ৫৬৩টি, যা মোট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাত দশমিক ৪০ শতাংশ।

দাখিল করা রিটার্নের মধ্যে ৬১ শতাংশ জমা পড়েছে যশোর ভ্যাট কমিশনারেটে। ফলে ভ্যাট কমিশনারেটের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে যশোর শীর্ষে রয়েছে। আর সবচেয়ে কম রিটার্ন দাখিল হয়েছে বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ)। ভ্যাট অনলাইন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ডিসেম্বর মাসে এলটিইউ ও ১১টি ভ্যাট কমিশনারেটে অনলাইনে মোট ৯ হাজার ৫৬৩টি রিটার্ন দাখিল হয়েছে, যা মোট ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাত দশমিক ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৮৪১টি রিটার্ন দাখিল হয়েছে যশোর ভ্যাট কমিশনারেটে, শতকরা হিসেবে যা ৬১ শতাংশ। এছাড়া ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটে এক হাজার ৯২টি, ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে ৮৭৩টি, ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে ৪৭৬টি, চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটে ৪৩৯টি, রংপুর ভ্যাট কমিশনারেটে ২৫৯টি, ঢাকা পূর্ব ভ্যাট কমিশনারেটে ১৬২টি, কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেটে ১৩৭টি, রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটে ১৩৩টি, খুলনা ভ্যাট কমিশনারেটে ৯৩টি, সিলেট ভ্যাট কমিশনারেটে ৩৮টি ও এলটিইউতে ২০টি রিটার্ন দাখিল হয়েছে।

যশোর ভ্যাট কমিশনারেট সূত্র জানায়, এ কমিশনারেটে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন নিয়েছে আট হাজার ৫৫৯টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে মোট নিবন্ধিত করদাতার ৭৮ দশমিক ২১ শতাংশ করদাতা দাখিলপত্র জমা দিয়েছেন।

অবশিষ্ট ২১ দশমিক ৭৯ শতাংশ করদাতার (মোট দুই হাজার ৫৪৯ জন) প্রতি নতুন মূসক আইনের ধারা ৭৩(১)(খ)-এর অধীন কর নির্ধারণের প্রথম নোটিশ জারি করা হয়েছে। দুই হাজার ৫৪৯ আইন ভঙ্গকারী করদাতার প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া জানুয়ারি মাসে এ কমিশনারেটে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের হার ৮৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা বিশ্বে ভ্যাটের গড় কমপ্লায়েন্সের হার থেকেও বেশি। আইএমএফের তথ্যমতে, বিশ্বে ভ্যাটের গড় কমপ্লায়েন্সের হার ৮৫ শতাংশ। এ কমিশনারেটের ১০টি বিভাগের কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর সৃজনশীল পদক্ষেপের ফসল অনলাইনে রিটার্ন দাখিল।

ভ্যাট অনলাইন সূত্র জানায়, ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে এক লাখ ৩৭ হাজার ৯৪২ প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রক্রিয়াধীন ছিল চার হাজার ২৬৯টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন। এর মধ্যে ৫৭ হাজার ৬৩১টি প্রতিষ্ঠানকে নতুন নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। পুনর্নিবন্ধন ২২ হাজার ৩৩৯টি, ৯ সংখ্যার নিবন্ধন থেকে আপডেট হয়েছে ৪০ হাজার ৭৫১টি এবং ৯ সংখ্যা থেকে ১১ সংখ্যার নিবন্ধনে আপডেট হয়েছে ১৭ হাজার ২২১টি প্রতিষ্ঠান। ভ্যাট কমিশনারেটের মধ্যে অনলাইনে নিবন্ধন দেওয়ার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট। এ কমিশনারেট নিবন্ধন দিয়েছে ২৯ হাজার ৩৮৬টি।

সবচেয়ে কম পাঁচ হাজার ৯৮৯টি নিবন্ধন দিয়েছে সিলেট ভ্যাট কমিশনারেট। এছাড়া ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেট ২০ হাজার ৫২৮, ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট ১৬ হাজার ৭৭৮, চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট ১৬ হাজার ২২৭, ঢাকা পূর্ব ভ্যাট কমিশনারেট ৯ হাজার ৭১০, যশোর ভ্যাট কমিশনারেট ৯ হাজার ১৬০, খুলনা ভ্যাট কমিশনারেট ৯ হাজার ১১৯, যশোর ভ্যাট কমিশনারেট আট হাজার ৯৬০ এবং রংপুর ভ্যাট কমিশনারেট ছয় হাজার ২৬৩, আর এলটিইউ ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দিয়েছে।

যশোর ভ্যাট কমিশনার মো. জাকির হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, নতুন আইন বাস্তবায়নে অর্থবছরের প্রথম থেকেই এ কমিশনারেট বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভ্যাট মেলার আয়োজন করা। যশোর ভ্যাট কমিশনারেটের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন, রিটার্ন দাখিল আর ট্যাক্সপেয়ার লার্নিং এ তিন সেবা দেওয়া হয়। করদাতারা বেশ সাড়া দেয়।

তিনি বলেন, এ মেলা সফল হওয়ার পর করদাতারা এ কমিশনারেটের আওতাধীন প্রতিটি বিভাগীয় কার্যালয়ে ভ্যাট মেলার আয়োজনের অনুরোধ জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১০টি বিভাগীয় কার্যালয়ে সম্প্রতি দ্বিতীয় বিভাগীয় ভ্যাট মেলা, ২০২০-এর আয়োজন করা হয়। ভ্যাটদাতাদের অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল সহজ ও অনলাইন সিস্টেমে প্রশিক্ষিত করতে এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন পেশ করার সুযোগ, ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড-সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতার সমাধান, যারা এখনও ১৩ ডিজিটের নিবন্ধন গ্রহণ করেননি তাদের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ, যেকোনো তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তা অনলাইন সিস্টেমে হালনাগাদ করার সুযোগ, পুরোনো দাখিলপত্র সিস্টেমে আপলোড করার সুযোগ এবং ভ্যাটসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে জানার সুযোগ দেওয়া হয়। এসব আয়োজনের ফসল অনলাইনে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দাখিল। করদাতা সচেতনতায় আমরা আরও কিছু কাজ করার চেষ্টা করছি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..