প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

শীর্ষ ঝুঁকির পাঁচ প্রতিষ্ঠানে যথেচ্ছ বিনিয়োগ

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: মূল্য-আয় অনুপাতের (পিই-রেশিওর ভিত্তিতে) দিক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের পাঁচটিই ‘এ’ ক্যাটেগরির। এ কারণে ওই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে যে কোনো সময়। রয়েছে পুঁজি হারানোর শঙ্কা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রকাশিত সর্বশেষ মাসিক (আগস্ট) প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ঝুঁকিপূর্ণ শীর্ষ দশের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটেগরির পাঁচটি কোম্পানি হলো মুন্নু জুট স্ট্যাফলার্স, জেমিনি সি ফুড়, বঙ্গজ, রেনইউক যজ্ঞেশ্বর এবং সোনালী আঁশ। কোম্পানিগুলো সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে ‘এ’ ক্যাটেগরি ধরে রেখেছে।
তথ্যমতে শেয়ারের পিই-রেশিওর বিবেচনায় এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শীর্ষ ঝুঁকিতে রয়েছে মুন্নু জুট স্ট্যাফলার্স। এ প্রতিষ্ঠানের মার্কেট পিই রেশিও অবস্থান করছে ৭৮৯তে। বিনিয়োগের বিচেনায় যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে জেমিনি সি ফুড়। এ প্রতিষ্ঠানের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৪০২এ। এরপরের অবস্থানে থাকা রেনউইক যজ্ঞেশ্বরে মার্কেট পিই-রেশিও ২৯২। তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানি সোনালী আঁশ। এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের পিই রেশিও অবস্থান করছে ২৮৩তে। বঙ্গজের পিই রেশিও অবস্থান ২৮২ তে।
এদিকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকলেও বছরের অধিকাংশ সময়ই এসব শেয়ারদর বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। কোনো কারণ ছাড়াই বাড়তে থাকে এসব শেয়ারদর। স্টক একচেঞ্জগুলো দর বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে নোটিস দিলে কোম্পানিগুলো গৎবাঁধা উত্তর দেয়, তাদের কাছে দর বৃদ্ধি পাওয়ার মতো কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই। এ সময় কয়েকদিন শেয়ারদর কিছুটা কমলেও আবার তা আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে গত প্রায় দুবছর ধরে দর বাড়ছে মুন্নু জুট স্ট্যাফলার্সের শেয়ারের। গত এক বছর আগে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর ৫২৯ টাকা থেকে বেড়ে সাড়ে চার হাজার টাকায় চলে যায়। তখন কোম্পানির কাছে শেয়ারদর বৃদ্ধির সংবেদনশীল তথ্য জানতে চাইলে তারা জানায় তাদের কাছে দর বৃদ্ধি পাওয়ার মতো সংবেদনশীল তথ্য নেই। যদিও পরে কোম্পানিটি বড় ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা করে। তবে বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে প্রতিষ্ঠানটি যে হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে শেয়ারদর বেড়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি। তারা এটাকে কারসাজি বলে অ্যাখায়িত করেন। সম্প্রতি আবারও বাড়তে শুরু করেছে এ কোম্পানির শেয়ারদর।
কোনো কারণ ছাড়া গত তিন মাসের ব্যবধানে এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর ৮৭৭ টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার ৬২৮ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। যদিও এ সময়ের মধ্যে শেয়ারটি সর্বোচ্চ দুই হাজার ৩২ টাকায় কেনাবেচা হতে দেখা যায়।
অন্যদিকে এ তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জেমেনি সি ফুড়ের শেয়ার গত তিন মাসের ব্যবধানে ২০৯ টাকা থেকে বেড়ে ২৬৮ টাকায় চলে এসেছে। যদিও এ সময়ের মধ্যে শেয়ারটি সর্বোচ্চ ৩১৪ টাকায় লেনদেন হয়। এ খাতের অন্য কোম্পানি বঙ্গজের শেয়ারও বছরের বেশিরভাগ সময় কারণ ছাড়াই দর হ্রাস-বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। একই অবস্থা সোনালী আঁশ এবং রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কোম্পানি ‘এ’ ক্যাটেগরিতে থাকলেও এদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বছরের বেশিরভাগ সময় এসব শেয়ার নিয়ে কারসাজির গুঞ্জন শোনা যায়। কিন্তু তারপরও অল্পদিনে পুঁজি দ্বিগুণ করার জন্য কিংবা ভালো মুনাফার আশায় এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করতে ভালোবাসেন বিনিয়োগকারীরা। তাদের মনে রাখা দরকার এ ধরনের শেয়ারে লাভের চেয়ে লোকসানের শঙ্কা বেশি। তাই এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত।
এ প্রসঙ্গে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমরা বারবারই বিনিয়োগকারীদের অতিমূল্যায়িত এবং ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে বিনিয়োগ করতে নিষেধ করি। কিন্তু তারপরও কিছু বিনিয়োগকারী কোনো ধরনের বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। এভাবে বিনিয়োগ করে কিছু বিনিয়োগকারী লাভবান হলেও অধিকাংশ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বিষয়টি তাদের মাথায় রাখা উচিত।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..