দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

শীর্ষ তিন খেলাপিই ক্রিসেন্ট গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠান

সংসদে আট হাজার ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমানে দেশের ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (এনবিএফআই) খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণ আটকে আছে আট হাজার ২৩৮ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে। এর মধ্যে শীর্ষ তিনে স্থান রয়েছে ক্রিসেন্ট গ্রুপের মালিকানাধীন রিমেক্স ফুটওয়্যার, ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্টস ও রূপালী কম্পোজিট।

গতকাল ঋণখেলাপিদের এই তালিকা জাতীয় সংসদে প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী সংসদে এই তথ্য প্রকাশ করেন। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য নিয়ে ১০৭ পৃষ্ঠার তালিকাটি প্রকাশ করা হয় সংসদে।

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, ঋণখেলাপির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ক্রিসেন্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রিমেক্স ফুটওয়্যার। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্টসের এক হাজার ৩০০ কোটি ও তৃতীয় স্থানে থাকা রূপালী কম্পোজিটের খেলাপির পরিমাণ হচ্ছে প্রায় এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

সংসদে প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, শীর্ষ খেলাপি অন্য কোম্পানিগুলো হলো রাইজিং স্টিল লিমিটেড, মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স (পিভিটি) লিমিটেড, এসএ ওয়েল রিফাইনারি লিমিটেড, সামনাজ সুপার ওয়েল লিমিটেড, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম লিমিটেড, অ্যালোকোট লিমিটেড, গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডায়িং, বুলট্রেড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, বেনট্রেক্স ইন্ডাট্রিজ, কম্পিউটার সোর্স লিমিটেড, রুবাইয়া ভেজিটেবল ওয়েল লিমিটেড, বাংলাদেশ কমিউনিকেশনস লিমিটেড, লেক্সো লিমিটেড ও আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস প্রভৃতি।

এর আগে গত বছরের ২২ জুন অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেন। ওই ৩০০ ঋণখেলাপির কাছে তখন বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা ছিল ৭০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। এছাড়া ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন এমন ১৪ হাজার ৬১৭ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেন মন্ত্রী।

এদিকে সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের ব্যাংক খাত থেকে বিভিন্ন পরিচালকরা মোট এক লাখ ৭৩ হাজার ২৩০ কোটি ৮৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকার ঋণ নিয়েছেন। এর মধ্যে পরিচালকরা অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে নিয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৬১৬ কোটি ১২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। আর নিজ ব্যাংক থেকে নিয়েছেন এক হাজার ৬১৪ কোটি ৭৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে শুধু রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) পরিচালকরা কোনো ঋণ নেননি। ২৫টি ব্যাংকের পরিচালকরা নিজ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন।

নিজ ব্যাংক থেকে সব থেকে বেশি ঋণ নিয়েছেন এবি ব্যাংকের পরিচালকরা। এ ব্যাংক থেকে নিয়েছেন ৯০৭ কোটি ৪৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এরপরের অবস্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালকরা নিয়েছেন ৩৬২ কোটি ৫০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম বাংকের পরিচালকরা নিজ ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ নেননি। কিন্তু অন্য ব্যাংকের পরিচালকরা এসব ব্যাংক থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছেন এবং তাদের কাছেই সবচেয়ে বেশি পাওনা রয়েছে এ দুটি ব্যাংকের। অন্য ব্যাংকের পরিচালকদের কাছে ইসলামী ব্যাংকের পাওনা রয়েছে ১৯ হাজার ১৭৫ কোটি ৭৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও এক্সিম ব্যাংকের পাওনা ১০ হাজার ৫১৩ কোটি ৬৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক অন্য ব্যাংকের পরিচালকদের কাছে পাবে ১০ হাজার ১২৬ কোটি ৭২ লাখ পাঁচ হাজার টাকা, পূবালী ব্যাংক অন্য ব্যাংকের পরিচালকদের কাছে পাবে ৯ হাজার ৭৩৫ কোটি ৫২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..