Print Date & Time : 3 July 2022 Sunday 5:40 pm

শুকনা কাশির যন্ত্রণা লাঘবে

শীত মৌসুমে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে কফ জমে, শুকনা কাশি হয়। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে জ্বর আসে। এই জ্বর তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু শুকনা একধরনের কাশিতে ভুগতে হয় আরও কিছুদিন। বেশিরভাগ সময় দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে এমন শুকনা কাশি নিজে থেকেই সেরে যায়। অনেক সময় এমন কাশি কয়েক মাস থাকতে পারে।

অনেক সময় অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে যায়। এতে কাশির স্থায়িত্বকাল বাড়তে পারে। এমনকি ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেলেও কাশি থেকে যেতে পারে। কভিড-১৯ কিংবা সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণে দীর্ঘমেয়াদি কাশি থেকে যাওয়ার ঘটনা অনেক রয়েছে।

মনে রাখবেন, যেকোনো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। অকারণে ও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে শরীর ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে পড়তে পারে। এতে অন্য কোনো সংক্রমণ সারিয়ে তোলাও কঠিন হয়। শুধু কাশির জন্য অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রয়োজন নেই। কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে বুকের এক্সরেতে নিউমোনিয়া দেখা দিলে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রয়োজন হতে পারে।

কাশি হলেই ফার্মেসি থেকে কফ সিরাপ কিনে খাওয়াও স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। কফ সিরাপ অনেক সময় শরীরে খিঁচুনি ও ঝিমুনির ভাব আনতে পারে। অস্বাভাবিক হƒৎস্পন্দন, কিডনি, যকৃতের সমস্যাসহ নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে এসব কফ সিরাপে।

কফ সিরাপে হাইড্রোকার্বন থাকে। বুকব্যথা ও কাশি দমনে এটি ব্যবহার হয়। হাইড্রোকার্বন শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর। এ ছাড়া কাশির সিরাপের বিভিন্ন উপাদানে (গুয়াইফেনেসিন, সিউডোএফেড্রিন, ডেক্সট্রমিথোরিফন ও ট্রাইমেথোপ্রিম) রক্তচাপ বাড়তে পারে। সিরাপের মরফিন স্নায়ু ও পেশিকে শিথিল করে দেয়। ইফিড্রিনের কারণে শ্লেষ্মা শুকিয়ে যায়। সালবিউটামল ও মন্টিলুকাস্টও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা অনুচিত।

শুকনা কাশি প্রতিরোধে কফ সিরাপ খাওয়া ভালো কৌশল নয়, বরং কিছু উপদেশ মেনে চললে সুফল মিলতে পারে ক. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এতে কফ পাতলা হবে; খ. গরম পানির ভাপ নিতে পারেন। এতে কফ পাতলা হবে। গরম পানির ভাপে সার্সসহ অন্য ভাইরাস মারা যায় না; গ. শুকনা কাশির জন্য গলা খুসখুস করলে হালকা গরম পানিতে একটু লবণ দিয়ে কুলকুচি করতে হবে; ঘ. শুকনা কাশিতে মুখে লজেন্স, লবঙ্গ, কিংবা আদা রাখলে আরাম পেতে পারেন। এ ছাড়া গরম চা-কফি বা গরম স্যুপ খেলে আরাম মিলতে পারে।

অধ্যাপক ডা. আজিজুর রহমান মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ