শেষ পাতা

শুদ্ধি অভিযানে কাউকে ছাড় না দেওয়ার আহ্বান টিআইবির

নিজস্ব প্রতিবেদক: ন্যায়ভিত্তিক, সুশাসিত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিকল্প নেই বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী এ সংস্থাটি দাবি করেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান ‘শুদ্ধি অভিযানে’ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ এ ঘোষণার কার্যকর নিশ্চয়তার।

গতকাল অনুষ্ঠিত টিআইবি সদস্যদের বার্ষিক সভা এমন দাবি করেছেন বক্তারা। সভায় বক্তারা আহ্বান জানান, ন্যায়ভিত্তিক, সুশাসিত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একক ও সমষ্টিগতভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে। এছাড়া অনিয়ম, দুর্নীতি ও সহিংসতা মুক্ত শিক্ষাঙ্গন, সব নাগরিকের জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত, সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ এর কঠোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বাধীন কমিশন গঠন করা দরকার। সভার ঘোষণাপত্রে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) কার্যকর করার প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে। জাতীয় উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও সবার অংশগ্রহণ, অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদ জানানো হয়।

গত ৭ নভেম্বরর বিকালে টিআইবির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার সঞ্চালনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন টিআইবির সাধারণ পর্ষদে সদস্যদের নির্বাচিত প্রতিনিধি কাজী মো. মোরতুজা আলী। টিআইবির সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৫১ জন সদস্য সভায় অংশ নেন।

সভার আলোচনায় উঠে এসেছে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একের পর এক রক্তক্ষয়ী ছাত্র সহিংসতা, ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম, দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবদুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা তথা শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের ব্যর্থতা।

সমাজের সব পর্যায়ে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ প্রতিরোধে ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ মর্মে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যর সঙ্গে সদস্যরা একাত্মতা ঘোষণা করেন। বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি তোলেন সবাই। একইসঙ্গে, দুর্নীতি প্রতিরোধে তরুণদের মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় সভার আলোচনায়।

সভা শেষে এক ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। ঘোষণাপত্রে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও বেগবান ও কার্যকর করতে তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করা, তথ্যের অধিকার, অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত, তৃণমূলে কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা, এবং সব স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানের বিকাশের দাবিসহ ৯ দফা দাবির বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে আগ্রহী বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ নাগরিককে টিআইবি সদস্যভুক্ত করা শুরু করেছে। পাশাপশি সারা দেশে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) প্ল্যাটফর্মে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে যুক্ত রয়েছে প্রায় সাত হাজার নাগরিক, যার সিংহভাগই হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের।

সর্বশেষ..