শোবিজ

শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ

শোবিজ ডেস্ক: বাংলা কথাসাহিত্যিক, নাটকের নির্মাতা, নাট্যকার, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার হুমায়ূন আহমেদ। আজ তার ৭১তম জন্মদিন। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালনাতেও তিনি দক্ষতা দেখিয়েছেন। তিনি যা লিখেছেন, তার নিজের মতোই লিখেছেন। তার লেখা সহস্র পাঠকের মন জয় করেছে। সৃষ্টি করেছেন নতুন নতুন পাঠক। অনেকেই ভাবেন তার মধ্যে আরও বড় কিছু করার ক্ষমতা ছিল।

 কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ। মা আয়েশা ফয়েজ। বাবা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পিরোজপুরে এসডিপিও হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় তিনি শহীদ হন। বাবা ফয়জুর রহমানের সঙ্গে মিল রেখে হুমায়ূন আহমেদের নাম রাখা হয়েছিল শামসুর রহমান। আর ডাকনাম কাজল। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নিজেই নাম পরিবর্তন করে হুমায়ূন আহমেদ রাখেন। তিনি বগুড়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন ও সেখান থেকেই বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি এমএসসি ডিগ্রিও লাভ করেন। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পলিমার রসায়ন বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ছাত্র জীবনেই ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যজীবন শুরু হয়। এরপর গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি টেলিভিশনের জন্য একের পর এক দর্শক-নন্দিত নাটক রচনা ও পরিচালনা করেন হুমায়ূন আহমেদ। ১৯৭৩ সালে তিনি গুলতেকিনের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। মেয়ে বিপাশা আহমেদ, নোভা আহমেদ ও শিলা আহমেদ। ছেলে নুহাশ আহমেদ ও অন্য ছেলে অকালে মারা যান। ২০০৫ সালে গুলতেকিনের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। একই বছরে তিনি নাটক-চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শাওনকে বিয়ে করেন। এ ঘরে তাদের তিন ছেলেমেয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তবে প্রথম কন্যাসন্তান মারা যায়। আর দুই ছেলে নিষাদ হুমায়ূন ও নিনিত হুমায়ূন। হুমায়ূন আহমেদের নির্বাচিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে ‘নন্দিত নরকে’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘দূরে কোথাও’, ‘সৌরভ’, ‘ফেরা’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘সাজঘর’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘নিশীথিনী’, ‘আমার আছে জল’, ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘আকাশ ভরা মেঘ’ অন্যতম। উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিক নাটক- ‘এইসব দিন রাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’, ‘তারা তিনজন’, ‘আমরা তিনজন’, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’ প্রভৃতি। ১৯৯০-এর গোড়ার দিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। তার পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণি মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। নাটক সিনেমায় তার রচিত অনেক গান বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তিনি ছবি আঁকতেও ভালোবাসতেন। সাহিত্য সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও শিশু একাডেমি পুরস্কার পান। ১৯৮৭ সালে মাইকেল মধুসূদন পদক, ১৯৮৮ সালে বাচশাস পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার ও জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদক, ১৯৯৪ সালে একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার সম্মাননায় ভূষিত হন।

হুমায়ূন আহমেদ চলে গেছেন। দিয়ে গেছেন বাংলা সাহিত্যকে অনেক কিছু। গল্প, উপন্যাস, নাটকে এ সময়ে তার সমকক্ষ কেউ ছিলেন না। কিন্তু অপূর্ণতা রেখে গেছেন পাঠকের মনের গভীরে। পাঠকের প্রত্যাশা ছিল, একটা বড় সাহিত্যকর্ম তিনি সৃষ্টি করবেন। সে অপূর্ণতা থাকল, তবুও তার সাহিত্য পাঠকপ্রেমীর মনে যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..