বিশ্ব বাণিজ্য

শুল্কারোপ ইস্যুতে নীরব চীন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনে দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ চলছে বলে জানিয়েছে চীন। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানায়। তবে আগামী রোববার থেকে চীনের রফতানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বেইজিং। এমনকি ওই শুল্কারোপ করা হলে পাল্টা কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তাও নিশ্চিত করেনি। খবর: রয়টার্স, সিএনএন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে টানা তিন মিটিংয়ে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় ফেড। সর্বশেষ গত বুধবারের মিটিংয়ে সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ২০২০ সালে এতে পরিবর্তন আসবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতিতে শঙ্কা দেখা দেওয়ায় সুদহার নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে আসছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে চাপের মুখে সুদহার কমাতে বাধ্য হয় ফেড। এর মধ্যে আগামী রোববার থেকে চীনের রফতানি পণ্যে নতুন করে আরও অন্তত ১৬ হাজার কোটি ডলারের শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব পণ্যের মধ্যে ভিডিও গেম কনসোল, কম্পিউটার মনিটর ও খেলনা রয়েছে।

নতুন করে শুল্কারোপের আগে শীর্ষ বাণিজ্য উপদেষ্টাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠকে বসবেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিলে আর্থিক খাত ও চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে চলমান আলোচনা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যেই চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাও ফেং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধিরা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

তারা বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রথম পর্যায়ের চুক্তির জন্য শর্ত হিসেবে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় রয়েছে চীন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্কারোপ করলে বেইজিংও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। গত আগস্টে দুই ভাগে যুক্তরাষ্ট্রের সাত হাজার ৫০০ কোটি ডলারের রফতানি পণ্যে যথাক্রমে পাঁচ ও ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কারোপ করার কথা চীন ঘোষণা করে। গত ১ সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়া শুল্কের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন, শূকর, গরুর মাংস, রাসায়নিক দ্রব্য ও অশোধিত জ্বালানি তেল রয়েছে। ১৫ ডিসেম্বরের পর বাকি শুল্কারোপ হতে পারে বলে চীন ঘোষণা দিয়েছে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার মধ্যেই নতুন করে সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানাল ফেডারেল রিজার্ভ। সে অনুযায়ী, সুদহার দেড় শতাংশ থেকে এক দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যেই থাকছে। অবশ্য বাজারসংশ্লিষ্টরা সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হবে বলেই আশা করছিলেন। দুই দিনের নীতিনির্ধারণী কমিটির সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..