বিশ্ব বাণিজ্য

শুল্কারোপ স্থগিত সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও শঙ্কা থাকছেই

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ

শেয়ার বিজ ডেস্ক  : যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কর্মকর্তারা ১৫ মাস ধরে চলা বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে সবশেষ আলোচনায় শুল্কযুদ্ধ আপাতত স্থগিত রাখতে একমত হয়েছেন। দুই দেশের ব্যবসয়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সাময়িক শুল্কযুদ্ধ স্থগিতের কারণে বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনও শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এতে বিশ্ব প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে। খবর: এপি।

ওয়াশিংটনে দু’দিনের আলোচনা শেষে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যস্থতাকারীরা ‘প্রথম পর্বের চুক্তিতে’ উপনীত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। 

ইউএস-চায়না বিজনেস কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাক পারকার বলেন, ‘শুল্ক আপাতত স্থগিতের সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনের সম্ভাবনাকে এগিয়ে রাখবে।’

আগামী মঙ্গলবার থেকেই ২৫ হাজার কোটি ডলারের ওই চীনা পণ্যগুলোতে বাড়তি শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্প জানান, ‘প্রথম পর্বের চুক্তি’ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাড়তি কৃষিপণ্য কিনতে রাজি হয়েছে চীন। আলোচনা হয়েছে অর্থনৈতিক সেবা ও প্রযুক্তি চুরি নিয়েও। দু’পক্ষের মধ্যস্থতাকারীরা এখন চুক্তির অন্যান্য পর্ব নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আমরা একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছি, এখন শুধু তা লেখা বাকি।’ চুক্তিটি লেখা শেষ হতে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ও লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

চীনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী লিউ হে ওয়াশিংটনে দু’পক্ষের আলোচনার অগ্রগতিতে ‘সন্তুষ্ট’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই উল্লেখ করার মতো অগ্রগতি হয়েছে, আমরা খুশি। আরও সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাব আমরা।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ভাষায় এ ‘প্রথম পর্বের চুক্তি’ বছর খানেকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের ঘোষণায় অস্থির বিশ্ববাজারে খানিকটা স্বস্তির পরশ দেবে বলে মনে করছেন মার্কিন ব্যবসায়ীরা। তবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরোপুরি আশাবাদীও হওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তারা।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের চীন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ স্কট কেনেডি বলেন, প্রেসিডেন্ট যা ঘোষণা করলেন, তাকে চুক্তি বলা ন্যায্য হবে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নই আমি। তারা যদি ভাষা নিয়েও একমত না হন, তার অর্থ হচ্ছে চুক্তি এখনও হয়নি। চুক্তির আশাবাদ মানেই চুক্তিটি হয়ে যাওয়া নয়। এটা কোনো চুক্তিও নয়, অদৃশ্য কিছু।’

সর্বশেষ..