প্রচ্ছদ শেষ পাতা

শুল্ক পরিশোধ না করায় নিলামে যাচ্ছে ৫৮২ গাড়ি

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: গাড়ি আমদানিকাররা চট্টগ্রাম বন্দরকে বছরের পর বছর গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ে বন্দর-কাস্টমস উভয় পক্ষ। আর এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কিন্তু শুল্ককর পরিশোধ করেনি এমন ১১৬টি বিল অব এন্ট্রি (বি/ই) নিলামের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ৫৮২টি মোটরগাড়িসহ ইলেকট্রিক বাইসাইকেল ও পার্টস রয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বন্দরকে বছরের পর বছর গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি নতুন নয়। কারণ, নিজেদের পর্যাপ্ত পরিমাণ গাড়ি রাখার শেড না থাকায় স্বল্পখরচে গাড়ি রাখতে বন্দর ব্যবহার করে আসছেন আমদানিকারকরা। এতে একদিকে কাস্টমসের শুল্ক বকেয়া থেকে যাচ্ছে; অন্যদিকে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বন্দরে পণ্যজটও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উভয় সংস্থা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আর এ সমস্যা থেকে কিছুটা রেহাই পেতে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমদানি করা কিন্তু শুল্ককর পরিশোধ করেনি এমন বিভিন্ন ধরনের ৫৮২টি গাড়ি ও পাঁচটি ইলেকট্রিক বাইসাইকেল এবং ২১ টন পার্টস নিলামের পরিকল্পনা করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের শুল্কায়ন সেকশন-৯ (বি) সূত্রে জানা যায়, এ পাঁচ বছরে (২০১৪-১৮ সাল পর্যন্ত) একাধিক আমদানিকারক গাড়ি আমদানি করলেও অনেক গাড়ি শুল্ককর পরিশোধ না করে বন্দরের শেডে ফেলে রেখেছে। এর মধ্যে ৬০ আমদানিকারক ১১৬টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে গাড়িসহ পার্টস আমদানি করে আর খালাস করেনি। যার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ১০৬টি মোটরগাড়ি ও ৪৭৬টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। তবে মোটরগাড়ির মধ্যে প্রাইভেট কারের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া জিপ, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও ড্রাম-ট্রাকসহ অন্যান্য গাড়িও রয়েছে। একই সঙ্গে এসব অখালাসকৃত বিল অব এন্ট্রিতে পাঁচটি ইলেকট্রিক বাইসাইকেল ও ২১ টন পার্টস রয়েছে। আর এসব অখালাসকৃত গাড়ির বকেয়া শুল্ককরের পরিমাণ ২০ কোটি টাকার অধিক।
কিন্তু বছরের বিভিন্ন সময়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ওইসব আমদানিকারক বরাবর চিঠি পাঠিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি। ফলে এক বছরের অধিক সময় পার হয়েছেÑএমন গাড়ির তালিকা করে এসব নিলামযোগ্য গাড়ি পাওয়া যায়।
আর শুল্কায়ন সেকশন-৯(বি)-এর দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাধিক বড় আমদানিকারকের অধিকসংখ্যক গাড়ি এবং বিল অব এন্ট্রি রয়েছে এ তালিকায়। এর মধ্যে এইচএনএস অটোমোবাইলসের ১০টি বিল অব এন্ট্রি রয়েছে। কর্ণফুলী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও এলএনবি অটোমোবাইলসের সাতটি করে, ফারিহা এন্টারপ্রাইজের ছয়টি, ইনায়া করপোরেশন, কেআরএস করপোরেশন, এসএম এন্টারপ্রাইজের চারটি করে বিল অব এন্ট্রি রয়েছে। এছাড়া বাকি আমদানিকারকের এক-দুটি করে বিল অব এন্ট্রি রয়েছে। উল্লেখ্য, একটি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে একাধিক গাড়ি আমদানি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের শুল্কায়ন সেকশন-৯(বি)-এর দায়িত্বে থাকা উপকমিশনার মো. নুর-উদ্দিন মিলন শেয়ার বিজকে বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সময়কালে শুল্ক-করাদি পরিশোধ করে এখনও পণ্য খালাস করেনি এবং বি/ই নোটিং করলেও এখনও শুল্কায়ন করেনি এরূপ ১১৬টি বি/ই পাওয়া গেছে। আর এর অধীনে বিভিন্ন ধরনের মোটরকার ও বাইসাইকেলের পার্টস রয়েছে। কিন্তু আমদানিকারককে একাধিকবার চিঠির মাধ্যমে অবহিত করলেও খালাসের জন্য কোনো ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেনি। এদিকে গত মাসের ২৩ তারিখে নোটিস জারি করে সাত দিনের সময়ও দেওয়া হয়েছিল। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। ফলে দি কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯-এর ধারা ৮২ মোতাবেক সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে এবং বন্দরের পণ্যজট নিরসনে অখালাসকৃত পণ্যগুলো নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আমদানির পর দীর্ঘ সময় পার হলেও খালাস না নেওয়ার বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ রিকন্ডিশনড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টারস অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডার) সভাপতি আবদুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, আমরা সবেমাত্র নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। তাই কাস্টমসের পক্ষ থেকে চিঠি আসার বিষয়টি জানি না। বর্ষা মৌসুমে গাড়ি কম বিক্রির ফলে অনেক আমদানিকারকের গাড়ি বন্দরে থেকে যায়। তবে দু-তিন মাস থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু যেসব গাড়ি বছরের পর বছর বন্দরে পড়ে আছে, সেগুলোতে আমদানিসংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকতে পারে। না হয় বন্দরে গাড়ি পড়ে থাকলে আমদানিকারকেরই আর্থিক ক্ষতি হয়। কারণ, প্রতি গাড়িতে মাসে ১৫ হাজার টাকা পোর্ট সার্জ দিতে হয় বন্দরকে।
এদিকে বারভিডার সিনিয়র সহসভাপতি এসএম আনোয়ার সাহাদাত বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রিকন্ডিশনড গাড়ি ছাড়করণের সময় পাঁচ বছর থেকে নামিয়ে চার বছর করেছে। এতে কোনো কারণে যেসব গাড়ি আগে খালাস নিতে পারেনি, সেসব গাড়িও এখন খালাস হচ্ছে না। অপরদিকে সবগুলো গাড়ি আমদানিকারক বারভিডার সদস্য নয়। তাই আমরা চাইলেও ব্যবস্থা নিতে পারছি না।

 

ট্যাগ »

সর্বশেষ..