সম্পাদকীয়

শুল্ক ফাঁকি ও অর্থ পাচার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

আবারও মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত হয়েছে ‘চীনা রপ্তানিকারকের প্রতারণা: সুতার পরিবর্তে আমদানিকারক পেল কনটেইনারভর্তি বালি’ শীর্ষক প্রতিবেদন। এর আগে এ বন্দর দিয়ে গোখাদ্যের নামে গুঁড়ো দুধ আমদানি হয়েছে, কাগজের বদলে এসেছে বালি-মাটি।

আমরা জানি, কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অবৈধ কিংবা অননুমোদিত পণ্য নিয়ে আসে অসাধু ব্যবসায়ীরা। শুল্ক এড়াতে পণ্যমূল্যে ফাঁকি অর্থাৎ পণ্যের দাম কমবেশি দেখানো হয়, পণ্যের মান নিয়ে জালিয়াতি করা হয়; পরিমাণ বা ওজনে কম দেখানো হয় কিংবা এইচএস কোডে জালিয়াতি করা হয়। আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ ও কাস্টমসের ত্রিপক্ষীয় সমঝোতায় এভাবে শুল্ক ফাঁকি চলে বলেই ধারণা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে আমাদের জানা নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটায় প্রমাণ হয় প্রতিকারে নেওয়া ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় কিংবা দায়িত্বশীলরা আন্তরিক নন।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, খোদ রপ্তানিকারক প্রতারণা করেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। উভয়পক্ষের যোগশাসাজশে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যায়

না। সুতার পরিবর্তে আসা বালির রাসায়নিক পরীক্ষা করলে জানা যাবে, সেটি বালি ছাড়া অন্য কোনো খনিজ পদার্থ কি না। অবশ্য ডলার পাঠানোর পরও ঘোষিত পণ্য না আসায় অর্থ পাচারের সম্ভাবনাও থেকে যায়।

আবার একই রপ্তানিকারকই বারবার বালি পাঠাচ্ছে কি না, নথিপত্রে সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। আলোচ্য পণ্য চালান শুল্কায়নে কাস্টমসের বেশ কয়েকটি টেবিল ঘুরেছে, কোনো পর্যায়ে কেন এটি ধরা পড়েনি, সে প্রশ্নও উঠবে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা বাণিজ্যিক পণ্যের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ক্ষেত্রে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। শুল্ক ফাঁকির পাশাপাশি কত ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটছে, তাও ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছে। আমদানি পণ্যে পরিবর্তনের ঘটনায় আরও বড় ক্ষতিও ঘটতে পারে। এভাবে আসতে পারে নিষিদ্ধ পণ্য ও অস্ত্র।

প্রতারণার এমন ঘটনার খবর সাধারণ মানুষ না জানলেও আমদানিকারক, কাস্টমস কর্মকর্তা ও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানেন। এত দৃষ্টান্ত থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এর প্রতিকারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলেই প্রতীয়মান। এমন নির্লিপ্ততায় কেবল অর্থ পাচার ও শুল্ক ফাঁকি ঘটবে না; নিষিদ্ধ পণ্য আমদানিও বেড়ে যাবে। নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি, শুল্ক ফাঁকি বা অর্থ পাচার যা-ই ঘটুক না এসব অপরাধ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শৈথিল্যে চট্টগ্রাম বন্দরও সৎ ব্যবহারকারীদের আস্থা হারাতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..