প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রায় তিন দশক আগে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় ১১ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে হত্যাচেষ্টার মামলায় ১১ আসামির প্রত্যেককে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাদের সবার যাবজ্জীবন সাজার রায় দেওয়া হয়। ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জাহিদুল কবির গতকাল এ রায় ঘোষণা করেন।

১৯৮৯ সালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বাড়িতে গুলি ও বোমা ছোড়ার ঘটনায় এ মামলা হয়। পরে তদন্ত করে পুলিশ হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের দুই ধারায় অভিযোগপত্র দেয়। সাজার আদেশ পাওয়া ১১ আসামি হলেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবদুর রশীদ, মো. জাফর আহম্মদ, হুমায়ুন কবির ওরফে হুমায়ুন, মিজানুর রহমান, শাজাহান বালু, গাজী ইমাম হোসেন, খন্দকার আমিরুল ইসলাম কাজল, গোলাম সারোয়ার ওরফে মামুন, ফ্রিডম সোহেল, সৈয়দ নাজমুল মাকসুদ মুরাদ ও জজ মিয়া। অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি হুমায়ুন কবির ওরফে কবিরকে দুই মামলাতেই খালাস দিয়েছে আদালত।

দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে খন্দকার রশীদ, জাফর আহম্মদ ও হুমায়ুন কবির পলাতক রয়েছেন। আর জামিনে থাকা শাজাহান বালুর জন্য বেশ কিছু সময় অপেক্ষার পরও তিনি না আসায় বিচারক তার অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন। জামিনে থাকা মিজান, ইমাম হোসেন ও কাজল রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কারাগারে থাকা মামুন, সোহেল, মুরাদ ও জজ মিয়াকেও হাজির করা হয়েছিল। রায়ের পর তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়। গতকাল দুই ধাপে দুটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারক জাহিদুল কবির দুপুরে নাজিমউদ্দিন রোডের বিশেষ এজলাসে বসে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষণা করেন। আর বিকালে জনসন রোডে মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার এজলাস থেকে তিনি বিস্ফোরক মামলার রায় দেন। হত্যাচেষ্টা মামলায় ১১ আসামিকে দুটি ধারায় ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন বিচারক। দুটি সাজা পর্যায়ক্রমে খাটতে হবে বলে আসামিদের জেলে থাকতে হবে ২০ বছর করে। সেই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে তাদের, যা না দিতে পারলে আরও ছয় মাস তাদের কারাগারে থাকতে হবে। সাজার মেয়াদ থেকে হাজতবাসকালীন সময় বাদ যাবে। আর বিস্ফোরক আইনের মামলায় ১১ আসামির সবাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারক ১১ আসামিকে ওই সাজা দিয়েছেন অপরাধজনক ষড়যন্ত্র, প্ররোচণা, অপরাধমূলক কাজে সহযোগিতা এবং হতাচেষ্টার দায়ে। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা আর তার কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’। একই আসামিদের, একই ষড়যন্ত্রকারীদের পৃষ্ঠপোষকতায় শেখ হাসিনাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিচারক বলেন, হামলার ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি করা হলেও পরে তা মামলায় রূপান্তর করা হয়। ওই এজাহার ছিল দুর্বল। কিন্তু মামলার তিন আসামি পরে আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে এসেছে, তারা বিভিন্ন সময়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেছে এবং সেই ষড়যন্ত্র থেকেই তারা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে। রায়ের পর আসামিপক্ষের মূল আইনজীবী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। আর খালাস পাওয়া হুমায়ুন কবির ওরফে কবিরের আইনজীবী এএসএম গোলাম ফাত্তাহ এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বাড়িতে যখন ওই হামলা হয়, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তখন বাড়িতেই ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নেতৃত্বে গঠিত দল ফ্রিডম পার্টির নেতা-কর্মীরাই শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে ওই হামলা চালিয়েছিল বলে পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে। ওই ঘটনায় বঙ্গবন্ধু ভবনের (বর্তমানে জাদুঘর) নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম একটি জিডি করেন, পরে তা মামলায় রূপান্তর হয়।