প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিও আবেদন শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন পাওয়া বস্ত্র খাতের ‘শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আবেদন গ্রহণ শুরু হচ্ছে আজ রোববার, চলবে আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। গত ১৫ নভেম্বর এর আইপিও অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। টানা পাঁচ বছর ধরে মুনাফায় থাকা এ কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে শেয়ার ইস্যু করে দুই কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। উত্তোলিত টাকা দিয়ে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও ওয়াশিং প্লান্ট ভবন নির্মাণ, সম্প্র্রসারণ, মেশিন ও সরঞ্জাম ক্রয়, ইটিপি সম্প্রসারণ এবং আইপিও বাবদ ব্যয় করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানা হচ্ছে ময়মনসিংহের ভালুকায়। কোম্পানিটির প্রধান গ্রাহক ওয়ালমার্ট, প্রাইমার্ক, সিঅ্যান্ডএ, এইচঅ্যান্ডএম, টেসকো ও জিএপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। শেফার্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন উইনস্টোন কাও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন চিই চিন হুই।

তাইওয়ানের উদ্যোক্তাদের এ কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ওয়াশিং প্লান্ট ভবন নির্মাণ, সম্প্র্রসারণ, সরঞ্জামদি ক্রয় ও ইটিপি সম্প্রসারণের জন্য পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর ফলে বছরজুড়ে আমাদের উৎপাদন চালু থাকবে। বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ করে হতাশ হবেন না, বরং লাভবান হবেন’ বলে দাবি করেন তিনি।

৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) করেছে এক দশমিক ৪৪ টাকা। আর শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ১৮ দশমিক ৭০ টাকা। কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে আলফা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ শেফার্ড গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। এ গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে শেফার্ড ইয়ার্ন লিমিটেড (এসওয়াইএল), শেফার্ড টেক্সটাইল বাংলাদেশ লিমিটেড ও তাইওয়ান ফুট প্রসেসিং লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার দুইশ শ্রমিক কাজ করছেন। এর মধ্যে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজে রয়েছেন ৬০০ কর্মকর্তা ও শ্রমিক।

কোম্পানির প্রসপেক্টাসে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০০১ সালের ১৮ অক্টোবর বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায় শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। এরপর ব্যবসা সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে বর্তমানে কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন দাঁড়িয়েছে ১৯০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১০৪ কোটি ২০ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬০ টাকা।

প্রসপেক্টাসের তথ্যানুয়ায়ী, গত পাঁচ বছর ধরে মুনাফার ইতিবাচক প্রবণতায় রয়েছে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। ৩১ মার্চ ২০১৬ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির রেভিনিউ হয়েছে ২৬৩ কোটি ৬৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯৬ টাকা ও কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৩ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৮২৮ টাকা। এদিকে, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ হিসাববছরে কোম্পানিটির সেলস রেভিনিউ হয়েছিল ১৭৮ কোটি সাত লাখ ৫১ হাজার ৭৯৫ টাকা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছিল সাত কোটি ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ৪১ টাকা।

কোম্পানিটির রাজধানীর উত্তরা, রূপগঞ্জ ও ময়মনসিংহের ভালুকায় দুই হাজার ১১৪ দশমিক ৮৬ ডেসিমল জায়গা রয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ও উন্নয়ন ব্যয়সহ যাতে খরচ হয়েছে ২৬ কোটি ৩৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪২ টাকা। সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের পর এ জমির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ কোটি ৭৬ লাখ পাঁচ হাজার ৯১৪ টাকা।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে উত্তোলিত টাকায় ব্যবসা সম্প্রসারণ, স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধ ও আইপিও সংক্রান্ত ব্যয় করবে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের দুই কোটি ৮১ লাখ ৪০ হাজার ৫২৪ টাকায় ভবন নির্মাণ করা হবে। ৯ কোটি ৬৯ লাখ ৭০ হাজার ৬৯২ টাকায় ডায়িং, ওয়াশিং মেশিনারিজ ক্রয় ও মেশিনারিজ সংস্থাপন সংক্রান্ত ব্যয় করা হবে। বাকি টাকায় ইটিপি প্লান্ট বর্ধিতকরণের পাশাপাশি চার কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ২৩৪ টাকার স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধ করা হবে। এছাড়া এক কোটি ৫০ লাখ টাকা আইপিও সংক্রান্ত ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে।