দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

শেয়ারদর সংশোধনে মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন

ডিএসই সাপ্তাহিক বাজার চিত্র

শেখ আবু তালেব: একটানা ঊর্ধ্বমুখী ছিল দেশের পুঁজিবাজার। সূচক, লেনদেন ও শেয়ারদর বৃদ্ধি সবকিছুই ছিল ইতিবাচক। এ বাজারে শেয়ার লেনদেন করে লোকসান গুনেছে এমন বিনিয়োগকারী পাওয়া দুষ্কর। দীর্ঘ সময় পর গত সপ্তাহে নেতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করেছে পুঁজিবাজার। বিশ্লেষকরা এ প্রবণতাকে নিয়মতান্ত্রিক দর সংশোধন হিসেবে অভিহিত করছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সবগুলো সূচক কমলেও বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এমন চিত্র। আলোচিত সপ্তাহে শেয়ারদর হারানোর আরেকটি কারণ হচ্ছে ওয়ালটনের লেনদেন শুরু হওয়া। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, দেশীয় কোম্পানি ওয়ালটনের প্রথম লেনদেন শুরু হয় এই সময়ে। আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ার পাননি অনেক বিনিয়োগকারী। তারা লেনদেনের প্রথম কার্যদিবসেই কোম্পানিটির শেয়ার ক্রয়ে আগ্রহী ছিলেন। এজন্য নিজেদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এতে শেয়ার বিক্রয় চাপ অনেক বেশি ছিল। বিক্রয় চাপেও কিছুটা শেয়ারদর পতন হয়।

এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা বেশি নয়। নিয়মিত লেনদেনকারী বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও সীমিত। অতীতেও দেখা গেছে ভালো মানের কোনো কোম্পানির লেনদেন শুরুর আগে বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। অবশ্য এটি সাময়িক। বিনিয়োগকারীরা আবার স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করবেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজার নেতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করেছে। এ সময়েও বেশ কিছু খাত গেইনারে ছিল। এর মধ্যে রয়েছেÑসাধারণ বিমা, মিউচুয়াল ফান্ড, প্রকৌশল খাত। অন্যদিকে গত সপ্তাহের চেয়ে শেয়ারদর হারায় ব্যাংক, এনবিএফআই, খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও টেলিকম খাতের শেয়ার।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে ৩৬৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সপ্তাহ শেষে

শেয়ারদর বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ২২৪টির; অপরদিকে অপরিবর্তিত ছিল ১০টির। এই সময়ে লেনদেন হয়নি চারটির।

আলোচিত সময়ে আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ লেনদেন কম হয় পুঁজিবাজারে। গত সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল চার হাজার ৯৭৮ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট। সপ্তাহের শুরুতে সূচকটির অবস্থান ছিল পাঁচ চার হাজার ১০৪ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে। সপ্তাহের ব্যবধানে সূচক কমেছে ১২৫ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট। একইসঙ্গে কমেছে ডিএস৩০ ও ডিএসইএস শরিয়াহ

সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কম হলেও বিনিয়োগকারীরা শেয়ার হাতবদল করেছেন। এজন্য কয়েকটি খাতের শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। এজন্য ডিএসইর বাজার মূলধনও বৃদ্ধি পায়। সপ্তাহের ব্যবধানে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজার মূলধন পায় এ সময়ে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইতে সর্বোচ্চ গেইনার ছিল সাধারণ বিমা খাতের বিনিয়োগকারীরা। খাতটি থেকে আলোচিত সময়ে ১৬ দশমিক শূন্য আট শতাংশ গেইনার হন তারা। জীবন বিমা খাতে ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ডে ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও প্রকৌশল খাতে ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ গেইনারে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

অপরদিকে এই সময়ে আগের সপ্তাহের চেয়ে লোকসান দেখতে পান ব্যাংক খাতে চার দশমিক ৩২ শতাংশ, এনবিএফআই তিন দশমিক ১৯ শতাংশ, ওষুধ খাত তিন দশমিক ১০ শতাংশ, জ্বালানি খাত দুই দশমিক ৭৬ শতাংশ ও টেলিকম খাত দুই দশমিক ৫৭ শতাংশ।

একক কোম্পানি হিসেবে আলোচিত সময়ে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি হাতবদল হওয়ার শেয়ার হচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মার। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি, রূপালী ইন্স্যুরেন্স, ব্র্যাক ব্যাংক। ডিএসইর লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে সাধারণ বিমা ২৫ শতাংশ, জীবন বিমা পাঁচ শতাংশ, আইটি দুই শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড পাঁচ শতাংশ, জ্বালানি চার শতাংশ, সিরামিক দুই শতাংশ, সিমেন্ট দুই শতাংশ, ওষুধ ১১ শতাংশ, বস্ত্র সাত শতাংশ ও ব্যাংক খাত সাত শতাংশ।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, একক কোম্পানি হিসেবে গত সপ্তাহে শেয়ারদর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পনি। শীর্ষ দশটির তালিকায় উঠে রূপালী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, নিটল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, পূরবী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এক্সিম ব্যাংক, সন্ধ্যানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

অপরদিকে একক কোম্পানি হিসেবে গত সপ্তাহে শেয়ারদরে লোকসানের শীষে উঠে আসে বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস। এরপরই মুন্নু সিরামিক, হাক্কানী পাল্প অ্যান্ড পেপার, উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, লিগাসি ফুটওয়্যার, মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, স্টাইল ক্রাফট, অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস ও শমরিতা হাসপাতাল।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..