মত-বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার চাঙা করার জন্য কয়েকটি প্রস্তাব

মু. আবদুল হাকিম: সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান শেয়ারবাজার চাঙা করার জন্য কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার সুফল বাজারে পড়ছে। আমাদের দেশে ব্যক্তিমালিকানা বোধ থেকে করপোরেট মালিকানা বোধের যে সাংস্কৃতিক বিবর্তন হওয়ার কথা, তা পশ্চিমা দেশের মতো করে হয়নি। আমাদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও ছাত্রসমাজ করপোরেট মালিকানা বোধকে খুব একটা স্বাগত জানায়নি বা আপন করে নিতে পারেনি। ফলে ছাত্রসমাজ নিয়োগের ক্ষেত্রে এর সুফল লাভ করেনি। মালিকসমাজও সাম্রাজ্য হারানোর ভয়ে করপোরেট মালিকানাকে প্রথম থেকে সন্দেহের চোখে দেখে। ছাত্রসমাজ সমাজতন্ত্র চায়, কিন্তু করপোরেট সংস্কৃতি চায় না। মালিকসমাজও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে খুব একটা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও ছাত্রসমাজও তাদের খুব একটা ডাকে না। ফলে কোনো ইতিবাচক মিথস্ক্রিয়া একরকম হয়নি বললেই চলে। এসব কারণে পাশ্চাত্যের মতো করপোরেট বা বুর্জোয়া সংস্কৃতি আমাদের দেশে বিকশিত হয়নি। এজন্য আমাদের দেশে সরকারি কোম্পানিগুলোর অধিকাংশই পারিবারিক কোম্পানির মতো। দেশে প্রাইভেট কোম্পানি লাখ লাখ, অথচ পাবলিক কোম্পানি মাত্র সাড়ে তিন হাজারের কিছুটা বেশি। আর শেয়ার মার্কেটে আছে মাত্র ৭৫০ পাবলিক কোম্পানি। এত কম কোম্পানি নিয়ে কীভাবে একটি সরগরম এবং চাঙা পুঁজিবাজার গঠন করা সম্ভব? শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়াতে হবে। ৩০ হাজার কোটি টাকার আবাসন খাত, ২০ হাজার কোটি টাকার ক্লিনিক ব্যবসা, ৫০ হাজার কোটি টাকার পরিবহন ব্যবসা, লাখো কোটি টাকার ঠিকাদারি ব্যবসা প্রভৃতি চলছে ব্যক্তিগত মালিকানায়। কোনো করছাড় নেই। তাই কেউ কোম্পানি করতে চায় না, বরং কোম্পানি করলে তাকে আরও করারোপ করা হয়। অথোরাইজড ক্যাপিটাল কত হলে কোম্পানি করা বাধ্যতামূলক তার কোনো উল্লেখ কোম্পানি আইনে নেই। পাঁচ কোটি হোক বা ১০ কোটি হোক, আইনে একটা শিলিং থাকতে হবে। সেইসঙ্গে করপোরেট ট্যাক্স হার আরও কমাতে হবে। এটা কমানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও ছাত্রসমাজ দিয়ে অ্যাডভোকেসি জোরদার করতে হবে। এটা করা গেলে দেশে হাজার হাজার কোম্পানি তৈরি হবে। শেয়ার মার্কেটে ঢুকলে আরও করছাড় দিতে হবে। শিক্ষিত বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য এগুলো করা লাগবে। এছাড়া এ মুহূর্তে এর কোনো বিকল্প নেই। যে কোনো মূল্যে মার্জিন লোনের সুদ কমাতে হবে। যে কোনো মূল্যে ব্রোকার হাউসের কস্ট অব ফান্ড আরও কমাতে হবে। শেয়ারবাজার অর্থনীতির ব্যারোমিটার। এটা ফটকা বাজার নয়, হালাল ব্যবসা। ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে এর ভাবমূর্তির সংকট দূর করতে হবে। গ্র্যাজুয়েট পপুলেশনকে এখানে ট্রেড করার জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ব্রোকার হাউসের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে এবং এগুলোকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অনলাইন ট্রেডিং আরও সহজ করতে হবে। করপোরেট হাউসের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। শিক্ষিত বেকার সমস্যা সমাধানে করপোরেট আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে।

অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..