Print Date & Time : 30 October 2020 Friday 9:52 pm

শেয়ার কারসাজিতে বিবিএস কেব্লসের জরিমানা

প্রকাশ: August 13, 2020 সময়- 10:58 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিবিএস কেব্লসের শেয়ার কারসাজিতে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকালের কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, বিবিএস কেব্লসের চেয়ারম্যানের স্ত্রী খাদিজা তাহেরাকে ৩ কোটি টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নোমান হাওলাদারকে ১ কোটি টাকা, তার ভাই আবু নাইম হাওলাদারকে ১০ লাখ টাকা, তার শ্যালক ফরহাদ হোসেনকে ৩০ লাখ টাকা, মনোনীত পরিচালক সৈয়দ ফেরদৌস রায়হান কিরমানিকে ৫ লাখ টাকা, কবির আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটকে ২৫ লাখ টাকা, ব্রোকারেজ হাউস প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালকে ৫৫ লাখ টাকা, আবদুল কাইয়ুম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, মো. নজরুল ইসলাম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটকে ২৫ লাখ টাকা, সৈয়দ আনিসুর রহমানকে ২৫ লাখ টাকা ও হাসান জামিলকে ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া যথাসময়ে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ না করায় বিবিএস কেব্লসের প্রত্যেক পরিচালককে (স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতীত) ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

তথ্যমতে, পূর্ব ঘোষণা ছাড়া কোম্পানির কোনো পরিচালক তার নিজের কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারেন না। পরিচালকদের নিকটাত্মীয়রাও ওই কোম্পানির বড় ধরনের শেয়ার কিনতে পারেন না। এটি আইন ও নৈতিকতার লঙ্ঘন। কিন্তু পুঁজিবাজারে  বিবিএস কেব্লসের পর্ষদ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আত্মীয়-স্বজনকে ব্যবহার করে শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেন করে বাজার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আবু নোমান হাওলাদার, তার শ্যালক ফরহাদ হোসেন এবং চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল হাসানের স্ত্রী খাদিজা তাহেরা সায়েরাসহ মোট ১০ জন এ কারসাজির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পায় বিএসইসি। এ নিয়ে ২০১৭ সালে দৈনিক শেয়ার বিজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তখন কোম্পানির ১০ টাকা মূল্যের প্রতিটি শেয়ার ১৬ কার্যদিবসের মধ্যে ১৫০ টাকায় ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে অবশেষে জরিমানা করা হলো কোম্পানিটিকে।