সারা বাংলা

শেরপুরে বৈশাখী মেলা উপলক্ষে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

এমএ রফিক, শেরপুর: বৈশাখ এলেই যেন বাঙালি প্রাণের স্পন্দন ফিরে পায়। বৈশাখী মেলায় বিক্রির জন্য তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শেরপুর জেলার পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা।
বর্ষবরণ ও বিভিন্ন স্থানে মেলা উপলক্ষে শেরপুরের পালপাড়ায় বেড়েছে ব্যস্ততা। বিভিন্ন স্থানের মেলায় মাটির পাত্র, বিভিন্ন খেলনা যেমন বাঘ, হরিণ, গরু, ঘোড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন পশুপাখি, ফুলের টব, রকমারি পুতুল তৈরি করতে বিরামহীন কাজ করছেন কারিগররা। প্রথমে মাটি প্রস্তুত করে তা দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তা আগুনে পুড়িয়ে রঙের কাজ করে শেষবারের মতো শুকিয়ে প্রস্তুত করা হয় বিভিন্ন খেলনা ও তৈজসপত্র।
কারিগররা জানান, বংশানুক্রমে তারা পুরো বৈশাখ মাস কেউ কোনো কাজ করবেন না। ফলে ফাল্গুন-চৈত্র এই দুই মাস কাজের চাপ বেশি থাকে। এ সময়ের মধ্যে রাত জেগে হলেও ৩০ চৈত্রের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করতে হবে।
নববর্ষের প্রথম দিন বা পয়লা বৈশাখে জেলার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পালপড়ায় বিভিন্ন মাটির তৈজসপত্রের ফরমায়েশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব তৈরি করে মজুদ করা হয়েছে। সময়মতো এসব সরবরাহ করা হবে বলে জানান তারা।
সারা বছর মাটির বিভিন্ন পাত্র তৈরি করা হলেও বর্তমানে বৈশাখ ও মেলা উপলক্ষে খেলনা ও শোপিস তৈরি করে কেউ কেউ শুকিয়ে পোড়ার কাজ করছেন। আবার কেউ কেউ পোড়ানো শেষ করে রঙের কাজ করছেন। রঙ শুকিয়ে গেলেই পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হবে।
এদিকে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে গ্রামীণ বিভিন্ন মেলায় পসরা সাজানো দোকানিরা পালপাড়ায় আসতে শুরু করেছেন। তারা তাদের পছন্দের মাটির বিভিন্ন খেলনা ও তৈজসপত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পয়লা বৈশাখের আগেই তারা মেলার বিভিন্ন মালামাল পাইকারি দরে কিনে নিয়ে মজুদ করছেন। যাতে গ্রামীণ মেলায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতে পারেন।

সর্বশেষ..