প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শেষটা জয়ে রাঙাতে চায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক: টেস্ট সিরিজে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। তবে টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজেও যাচ্ছেতাই ক্রিকেট খেলেছে টাইগাররা। টি-টোয়েন্টি মিশনেও শুরুটা ভালো করতে পারেননি সাকিব-মুশফিকরা। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম জয়ের সন্ধানে থাকা বাংলাদেশের সামনে এবার শেষ সুযোগ। রোববার দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। জয় দিয়ে শেষটায় ইতি টানতে চায় টাইগাররা। অন্যদিকে প্রোটিয়াদের লক্ষ্য আরেকটি জয়ের মধ্য দিয়ে স্বাগতিকদের ‘হ্যাটট্রিক হোয়াইটওয়াশ’-এর লজ্জা ‘উপহার’ দেওয়া।

গোটা সিরিজজুড়েই আধিপত্য দেখিয়ে চলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান ও বোলাররা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিলেও প্রতিবারই শেষদিকে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ তো বিদেশের মাটিতে পরিণত হয়েছে ‘নখদন্তহীন’ বাঘে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শেষ ম্যাচে তাই টাইগার বোলার ও ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে।

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার করা ১৯৫ রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়েনি বাংলাদেশ। একটা সময় জয়ের স্বপ্নই জাগিয়ে তুলেছিল টাইগাররা। ২ উইকেটে ৯২ রান থেকে হঠাৎ করেই সফরকারীদের ইনিংস পরিণত হয় ৫ উইকেটে ১০১ রানের বধ্যভ‚মিতে। মধ্য-ইনিংসের ধস আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলÑ২০ রানে হার। জিততে হলে আর ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ববান হওয়ার পাশাপাশি বোলার ও ফিল্ডারদেরও শতভাগ নিংড়ে দিতে হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটিং লাইন শক্তিশালী ও বিশ্বমানের হওয়ায় জিততে হলে ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে সেরাটাই পেতে হবে বাংলাদেশকে। বিশেষ করে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের আরও দায়িত্ববান হতে হবে। প্রথম টি-টোয়েন্টি মিডল অর্ডারে ধস নামার কারণেই জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয় টাইগারদের।

জিততে হলে আজ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে বলে জানিয়েছেন সৌম্য সরকার। তবে প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী বোলিং লাইনের বিপক্ষে ১৭৫ রান করা বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে বিশ্বাস এ বাঁহাতি ওপেনিং ব্যাটসম্যানের। প্রথম ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে যেমনটা বলছিলেন সৌম্য, ‘যদি তিন থেকে ছয় নম্বরের মধ্য হতে কেউ শেষ ১০ ওভারে বড় ইনিংস খেলতে পারে, তবে সেটি আমাদের সাহায্য করত। তেমনটা হলে আমাদের একজন সেট ব্যাটসম্যান ক্রিজে থাকলে কাজটা সহজ হয়ে যেত। যদি মধ্য ওভারগুলোয় আমাদের একজন ব্যাটসম্যান ভালো করত, তবে আমরা ম্যাচটি জিততে পারতাম। তবে এ পারফরম্যান্স আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে যে, আমরা ২০০ রানও করতে পারব।’

কয়েক বছর ধরে ঘরের মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। নিজেদের ডেরায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে টেস্টে পরাজিত করেছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দলকে ওয়ানডে সিরিজে পরাজয়ের স্বাদ উপহার দিয়েছে টাইগাররা। বিদেশের মাটিতেও দারুণ কিছু করার লক্ষ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে মোটেই সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষটা জয় দিয়ে রাঙাতে পারলে হয়তো বন্দনার ভিড়ে দলের ব্যর্থতা অনেকটাই আড়াল হয়ে পড়বে। সে সুযোগ নিশ্চিতভাবে হাতছাড়া করতে চাইবে না বাংলাদেশ!