প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শেষটা ভালো করার প্রত্যয় সাকিবদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক: জয় নামের সোনার হরিণের দেখা কিছুতেই মিলছে না। টেস্ট-ওয়ানডের টি-টোয়েন্টিতেও সেই এংকই গল্প। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটা ভুলে যেতে পারলেই যেন বাঁচেন ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ক্রিকেটপ্রেমীরাও। গত পরশু রাতে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২০ রানে হার বাংলাদেশের। আগামীকাল সিরিজের শেষ ম্যাচে জেপি ডুমিনির দল জিতে গেলে এখানেও হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা নিয়ে দেশে ফিরবে টাইগাররা। তবে টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্বের প্রথম ম্যাচে হারলেও ধ্বংসস্ত‚পে দাঁড়িয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় সাকিব আল হাসানের। শেষ ম্যাচে জয় নিয়ে দেশে ফেরার বিমানে উঠতে চায়  গোটা দল।

ব্ল–মফন্টেইনের ম্যানগাউং ওভালে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ৯ উইকেটে ১৭৫ রান করে থামতে হয় বাংলাদেশের। সব মিলিয়ে যেন গত গত বছর ডিসেম্বরে করা নিউজিল্যান্ড সফরের দুঃসহ স্মৃতি ফিরে এসেছে। সেই সফরে  গিয়ে সব ম্যাচ হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দক্ষিণ আফ্রিকায় এরই মধ্যে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডের পর প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও হেরেছে বাংলাদেশ। তবে আগামী কাল পচেফস্ট্র–মে দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে গোটা দল। প্রথম ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে খেলার অপেক্ষায় তারা। গত পরশু ব্যাট হাতে ৪৭ রান করা সৌম্য সরকার তেমনটাই জানাচ্ছিলেন, ‘প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা দুইশর মতো রান করেছে। আমরা করেছি ১৭৫। অবশ্যই জয়ের সামর্থ্য আছে আমাদের। মাঝখানে যদি একজন ব্যাটসম্যান রান পেত আমরা হয়তো সহজেই ম্যাচটা জিতে যেতাম। এখান থেকে আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস বেড়েছে যে, আমরা দুইশ রান করতে পারি। আশা করছি পরের ম্যাচেই সব ভুল সামলে জিততে পারব।’

দল না জেতায় সৌম্যর ৩১ বলে ৪৭ রানের ইনিংসটা বিফলেই গেল। রানে ফিরেও তাই স্বস্তিতে নেই এ ওপেনার। ম্যাচ শেষে পরশু যেমনটা বলছিলেন তিনি, ‘মনে মনে আক্ষেপ হচ্ছে আমি ইনিংসটা বড় করতে পারতাম। দল যদি জিততে পারত তখন ইনিংস নিয়ে কথা বলা যেত। এখন আমিও শেষ করতে পারিনি, আগেই আউট হয়ে গেছি। দলও জেতেনি অবশ্যই এ রানের গুরুত্ব নেই।’

টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে নামের প্রতি সুবিচার করে খেলতে পারেননি সৌম্য। এখানে ২০ ওভারের ক্রিকেটে বেশ সাবলীল মনে হয়েছে তাকে। তাহলে কি সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন তিনি? বলছিলেন, ‘ভিন্ন ফরম্যাটে খেললে তার একটা আলাদা পরিকল্পনা থাকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি দুটি যেভাবে খেলেছিলাম, পরিকল্পনা ছিল সেভাবেই খেলব। একইভাবে খেলেছি। এখন এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।’

দুঃখজনক হলেও সত্য, ২০ ওভারের এ চার-ছক্কার ক্রিকেটে ডট বলই শেষ করে দিয়েছে বাংলাদেশকে। ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ২২টি ডট বলের পর বাংলাদেশের ডট বল ৪৫টি। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে আসে ৮৮ রান, বাংলাদেশের ইনিংসে ৯৮। এ ব্যাপারটি নিয়ে সৌম্য বলছিলেন, ‘দেখুন, ডট বল তো টি-টোয়েন্টিতে বড় একটা ব্যাপার। কিন্তু তার আগে আমরা যখন ফিল্ডিং করেছি, রান আরও কম দিতে পারলে ভালো হতো। কিছু বল ওয়াইড হয়েছে। ফিল্ডিংয়ে একটা-দুটা মিস হয়েছে। সেই রান পেলে একটা আলাদা মনোবল থাকত। ডট বল হয়েছে, এটা অবশ্যই আমাদের জন্য ভালো না। পরের ম্যাচে ডট বল কমাতে হবে আমাদের।’

আগামীকালই আবার দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আরেকটি ফরম্যাটে হোয়াইট ওয়াশ এড়ানোর লড়াই! শেষটা ভালো হলে অন্তত কিছুটা মুখরক্ষা হবে সাকিব-মুশফিকদের।