বিশ্ব সংবাদ

শেষ মুহূর্তে ব্রেক্সিট চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলনের আগে ব্রেক্সিট চুক্তি সম্ভব করতে ব্রিটেন ও ইইউ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আজ বৃহষ্পতিবার ওই সম্মেলনের আগ পর্যন্ত আলোচনা চলবে। আলোচনার অগ্রগতি মন্ত্রীসভাকে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অবহিত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে সাফল্য এলেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রবল বিরোধিতার মাঝে সেই চুক্তি অনুমোদন করা কঠিন হবে। খবর: ডয়চে ভেলে।

পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে ব্রিটেন ও ইইউ প্রতিনিধিরা গত মঙ্গলবার সারা রাত ধরে আলোচনা করেছেন। ইইউ প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে বিষয়টি বিবেচনা করা সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে ৩১ অক্টোবর চুক্তিসহ ব্রেক্সিটের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে পড়বে।

গতকাল বুধবার চূড়ান্ত সমাধানসূত্র সম্ভব না হলে আগামী সপ্তাহে আলোচনা আবার শুরু করা যেতে পারে। তারপর সমাধানসূত্র পাওয়া গেলে ইইউ’র জরুরি শীর্ষ সম্মেলন ডেকে ইইউ স্তরে ঠিক সময়ে চুক্তি অনুমোদন করা হতে পারে।

দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা উল্লেখ করছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মতপার্থক্য দূর করা সম্ভব হয়েছে। মঙ্গলবার মিশেল বার্নিয়ে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জানিয়েছিলেন, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা বাকি রয়েছে। অসমর্থিত সূত্র অনুযায়ী আয়ারল্যান্ডে দুই পক্ষের স্থলসীমান্তে নিয়ন্ত্রণ এড়াতে ব্রিটেনের উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশকে কোনোভাবে ইউ’র শুল্ক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্গত রাখার খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশের জন্য আলাদা বন্দোবস্ত মেনে নিলে কট্টর ব্রেক্সিটপন্থি  শিবির ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জোটসঙ্গী ডিইউপি দল প্রবল বিরোধিতার ইঙ্গিত দিয়েছে। সেক্ষেত্রে আগামী শনিবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের জন্য জনসনকে বিরোধী পক্ষের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হবে। দলের বিদ্রোহী সদস্যদের বহিষ্কার করে এমনিতেই তিনি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। উল্লেখ্য, জনসনের পূর্বসূরি থেরেসা মে ইইউ’র সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় শুধু উত্তর আয়ারল্যান্ডের জন্য ব্যাকস্টপ ব্যবস্থার পথে অগ্রসর হয়েছিলেন। কিন্তু ব্রিটেনের ঐক্য ও অখণ্ডতার স্বার্থ বজায় রাখতে শেষ পর্যন্ত তাকে গোটা দেশের জন্য সেই ব্যবস্থা মেনে নিতে হয়।

সংসদে বিচ্ছেদ চুক্তি অনুমোদন করাতে না পারলে আইন অনুযায়ী বরিস জনসনকে ব্রেক্সিটের সময়সীমা পেছানোর আবেদন করতে হবে। এখন পর্যন্ত তিনি এ পদক্ষেপের ঘোর বিরোধিতা করে এসেছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..