Print Date & Time : 13 April 2021 Tuesday 8:07 pm

শেষ মুহূর্তে ১৪০ জনকে সাধারণ ক্ষমা করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: January 21, 2021 সময়- 12:50 am

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ক্ষমতা ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ১৪০ জনকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিদায়ী ভাষণে নিজের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সফলতা দাবি করেছেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে দেয়া বিদায়ী ভাষণেও হুঙ্কার দিতে ছাড়েননি ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আন্দোলন কেবল শুরু হয়েছে। এদিকে খবর: ভয়েস অব আমেরিকা ও আল জাজিরা।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে ৭৩ জনকে সম্পূর্ণ ক্ষমা করা হয়েছে। আরও ৭০ জনের সাজা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প নিজের বা তার পরিবারের সদস্যদের জন্য কোনো ক্ষমা ঘোষণা করেননি। ক্ষমা ঘোষণার বিষয়টি হোয়াইট হাউস থেকে যে কোনো বিদায়ী প্রেসিডেন্টের জন্য একটি নিয়মিত ঘটনা। ক্ষমা ঘোষণা করা হলে যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা সব ধরনের ফৌজদারি সাজা বাতিল হয়ে যায়। অন্যদিকে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট যে কারও কারাভোগের সময়সীমাও কমিয়ে দিতে পারেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনেকের জন্যই ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক নির্বাচনী প্রচারণা ম্যানেজার পল ম্যানাফোর্ট, দীর্ঘদিনের সহযোগী রজার স্টোন এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের পিতা চার্লস।

বিদায়ী ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ব্যাপক ভোটার জালিয়াতির মাধ্যমে নভেম্বরের নির্বাচন তার কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে। ভাষণে জো বাইডেনের নাম না নিয়েই নতুন প্রশাসনের প্রতি শুভকামনা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, এ সপ্তাহেই একটি নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। তারা আমেরিকাকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ রাখবে এই প্রার্থনা করছি। আমার শুভকামনা রইলো।

ট্রাম্প বলেন, বুধবার দুপুরে নতুন প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আপনাদের জানাতে চাই, আমরা যে আন্দোলন সূচিত করেছি তা মাত্র শুরু হয়েছে। যতক্ষণ আমেরিকান মানুষ তাদের হƒদয়ে গভীরভাবে দেশের প্রতি ভালোবাসা ধরে রাখে, ততক্ষণ এ জাতি অর্জন করতে পারে না এমন কিছুই নেই। আমাদের দেশ সমৃদ্ধ হবে। দেশের মানুষ সমৃদ্ধ হবে। আমাদের ঐতিহ্য লালিত হবে। আমাদের বিশ্বাস দৃঢ় হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ আগের চেয়ে আরও উজ্জ্বল হবে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার মেয়াদে আমরা যা অর্জন করেছি তা সত্যিই গর্বের, যা করতে এসেছিলাম, তার সবই করেছি। এর বাইরেও আরও অনেক কিছু করেছি। কেউ ভাবেনি আমরা এতটা সফল হবো। আমি এ দশকের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিশেষ গর্বিত যার আমলে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হয়নি।

এদিন ক্যাপিটল হিলে নিজের উগ্র সমর্থকদের তাণ্ডবেরও সমালোচনা করেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় পুরো দেশ আতঙ্কিত হয়েছিল। এ রকম রাজনৈতিক সহিংসতা আমেরিকার মূল্যবোধের ওপর আঘাত। এটি কখনও সহ্য করা যায় না। মনে রাখতে হবে যে, আমেরিকানদের মধ্যে মতবিরোধ থাকবে। তবে তারা বিশ্বস্ত ও শান্তিকামী নাগরিক। নিজেদের দেশকে তারা সমৃদ্ধ দেখতে চায়।

নিজ প্রশাসনের সাফল্যের বয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমেরিকান ইতিহাসে কর ছাড় এবং সংস্কারের বৃহত্তম প্যাকেজটি আমরা পাস করেছি। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হ্রাস করেছি। আমাদের ভঙ্গুর বাণিজ্য চুক্তিগুলো সুসংগঠিত করেছি। ভয়াবহ ট্রান্স-প্যাসিফিক অংশীদারিত্ব এবং অসম্ভব প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে এসে একতরফা দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তি পুনর্বিবেচনা করেছি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, নাফটা চুক্তিকে ইউএসএমসিএ-এর সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে স্থাপন করেছি। এটি মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে খুব কার্যকর একটি চুক্তি। এছাড়াও এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা চীনের ওপর ঐতিহাসিক শুল্কারোপ করেছি। আমরা উৎপাদন বৃদ্ধি করেছি, হাজার হাজার নতুন কারখানা খুলেছি। ‘মেড ইন ইউএসএ’ ট্যাগকে আবারও প্রতিষ্ঠিত করেছি।

তিনি বলেন, কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য জীবনকে আরও উন্নত করতে আমরা শিশু পরিচর্যা এবং বিকাশের জন্য তহবিলে স্বাক্ষর করেছি। আমরা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগ দিয়ে এক কোটিরও বেশি আমেরিকান কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি সুরক্ষিত করেছি। যখন আমাদের দেশ ভয়াবহ মহামারিতে আক্রান্ত হয়েছিল, তখন আমরা একটি নয়, রেকর্ড ভেঙে অতি দ্রুত দুটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছি এবং অদূর ভবিষ্যতে আরও আসছে। তারা বলেছিল, এটি করা সম্ভব নয়। তবে আমরা তা করেছি। এটি এখন চিকিৎসা ক্ষেত্রে অলৌকিক ঘটনা বলা হচ্ছে। সর্বোপরি, আমরা এ ধারণাটি পুনরুদ্ধার করেছি যে আমেরিকাতে, সরকার জনগণের প্রতি সাড়া দেয়।

ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে চীনের সামনে দাঁড়াতে ঐক্যবদ্ধ করেছে, যা এর আগে কখনও হয়নি। তিনি বলেন, সাহসী কূটনীতি এবং নীতিগত বাস্তবতার ফলস্বরূপ আমরা মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি অর্জন করেছি। এটি একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্যের উদয়। আমরা আমাদের সেনাদের ফিরিয়ে এনেছি।