বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

শেষ হলো দু’দিনের বাংলাদেশ ফিনটেক সামিট কোম্পানিগুলোর নীতিনির্ধারণে গুরুত্বারোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেষ হলো দুদিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ফিনটেক সামিট-২০২০’। গতকাল শনিবার সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয় এ ওয়েব সামিট।

জনগণ, সম্প্রদায় এবং সমাজের জন্য বাংলাদেশকে আর্থিক সম্ভাবনা অর্জনে সহায়তা করতে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের পরিবেশনায় গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পৃষ্ঠপোষকতায় ও নগদের সহযোগিতায় গতকাল শনিবার শেষ হয় এ সম্মেলন।

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত এ সম্মেলনে সারা দেশ ও দেশের বাইরে থেকে ফাইন্যান্স পেশাদাররা অংশগ্রহণ করেন।  

‘শেপিং ফিউচার অব ফাইন্যান্স ফর পিপল’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলোÑফিনটেক কোম্পানিগুলোর জন্য এমন একটি মঞ্চ তৈরি করা, যেখানে তারা তাদের সাফল্য, ব্যর্থতা ও উঠে দাঁড়ানোর গল্পগুলো ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে শেয়ার করে তাদের উদ্বুদ্ধ করা। এছাড়া সংলাপের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ফিনটেক কোম্পানিগুলোর জন্য সঠিক কাঠামো গঠন ও নীতিনির্ধারণ করে বাংলাদেশের ফিনটেক ইন্ডাস্ট্রিকে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ করা; যাতে বিশ্বব্যাপী ফিনটেক প্রসারে বাংলাদেশও উপকৃত হবে।

দুদিনের বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের দ্বিতীয় সংস্করণে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফিনটেক বিশেষজ্ঞরা পাঁচটি কিনোট সেশন, চারটি ইনসাইট সেশন, তিনটি প্যানেল আলোচনা ও দুটি কেস স্টাডি উপস্থাপন করা হয়।

গত শুক্রবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলি রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, আর্থিক খাত একটি অর্থনীতির প্রধান অংশ এবং বাংলাদেশ এ উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট উন্নতি করছে। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উন্নয়ন করছে এবং আমরা একটি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করছি।

বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা শরিফুল ইসলাম করোনা মহামারি-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিতে বলেন। তিনি বলেন, কীভাবে ফিনটেক এটি গঠনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ফিনটেক বাংলাদেশের গতি বেড়ে চলেছে। কার্যকর উদ্ভাবনগুলো এগিয়ে আসছে, খুব কার্যকর পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান করছে এবং আমরা আশা করি আগামী কয়েক বছর পরে এই গতি আরও বাড়বে। তবুও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, আমাদের সময়মতো সমস্যা সমাধান করা এবং এগিয়ে যাওয়ার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করা দরকার।

প্যানেল অধিবেশনে বক্তারা মহামারিকালে ও পরবর্তী বাংলাদেশের আর্থিক পরিসেবার পটভূমি বিষয়ে বলেন, সবকিছু ফেলে এগিয়ে যাওয়া সহজ নয়। ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সিস্টেমের গতানুগতিতা এবং অভ্যন্তরীণভাবে গ্রাহক মানসিকতা। গ্রাহকরা আমাদের নতুন প্রযুক্তিতে পরিবর্তনের বিষয়ে কিছু মনে করবেন না, যতটা না রিসোর্সগুলো আমাদের পিছিয়ে রেখেছে।

তারা বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন তাদের সামগ্রিক ব্যয় থেকে আয়ের অনুপাত হ্রাস করে সারা দেশে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর উপায় খুঁজে বের করতে এবং গ্রাহকের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে তুলতে আরও বেশি কার্যকর হতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..