প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

শেয়ারদর পতনে পুঁজি বাঁচাতে সতর্ক বিনিয়োগকারীরা

ডিএসইর সাপ্তাহিক চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: বড় ধরনের কোনো কারণ ছাড়াই একটানা পতন হচ্ছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর। এতে কয়েক মাস ধরেই প্রতিনিয়ত লোকসান গুনছে বিনিয়োগকারীরা। অনেকেরই মূলধন এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমে গেছে। শেষ সম্বল বাঁচাতে শেয়ার বিক্রয় ও ক্রয় দুটিই বন্ধ রেখেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকায় গত সপ্তাহে অধিকাংশ সিকিউরিটিজের শেয়ারদর পতন হয়। পুঁজিবাজার হারিয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার বাজার মূলধন।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক লেনদেন চিত্র বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এমন চিত্র। তথ্য বলছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে গত সপ্তাহে কমেছে ১২৭ দশমিক ৬০ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ছয় শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৫৭টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে দর বৃদ্ধি হয় মাত্র ৩৬টির, দর কমে ৩০২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির। আগের সপ্তাহের চেয়ে লেনদেন কমেছে ৩৪ দশমিক ৮২ শতাংশ। কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ভূমিকায় লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ঘরে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শেয়ারদর পতনের বড় ধরনের কোনো কারণ দৃশ্যমান নয়। কিন্তু বাজারে তারল্য সংকট রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট ক্রমেই প্রবল হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না কেউ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার বেশি।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে বড় মূলধনি সব খাতের শেয়ারদরে পতন হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ লোকসান গুনেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এবং ওষুধ খাত সবচেয়ে কম লোকসান গুনেছে।
সাপ্তাহিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইর মোট লেনদেনে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ অবদান রাখে প্রকৌশল খাত। এরপরই ১৫ শতাংশ অবদান রাখে ওষুধ খাত। এছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত তিন শতাংশ, বস্ত্র খাত আট শতাংশ, সাধারণ বিমা খাত সাত শতাংশ, জীবন বিমা খাত এক শতাংশ, সিরামিক খাত পাঁচ শতাংশ, আইটি খাত দুই শতাংশ ও মিউচুয়াল ফান্ড খাত আট শতাংশ অবদান রাখে লেনদেনে।
একক কোম্পানি হিসেবে সপ্তাহ লেনদেন শেষে ডিএসইতে সপ্তাহ শেষে পতনের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে আল-হাজ্ব টেক্সটাইল। সপ্তাহে কোম্পানির সর্বোচ্চ দর কমেছে ১৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। কোম্পানিটি সর্বশেষ ৩৮ টাকা ৭০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটি সর্বমোট এক কোটি ৫৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা লেনদেন করে, যা গড়ে প্রতিদিন ৩৯ লাখ আট হাজার ৭৫০ টাকা।
গত সপ্তাহে শেয়ারদর হারিয়ে শীর্ষ ১০টি লোকসানির কোম্পানির মধ্যে আরও স্থান পেয়েছে এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড জিরো ওয়ান, ফনিক্স ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, কাট্টলী টেক্সটাইল, আরএন স্পিনিং মিলস, ন্যাশনাল পলিমার, অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও ইয়াকিন পলিমার।
অন্যদিকে গেইনার বা দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে এমএল ডায়িং। সপ্তাহে কোম্পানির সর্বোচ্চ দর বেড়েছে ২০ দশমিক ১৭ শতাংশ। শেয়ারটি সর্বশেষ ২৮ টাকা ৬০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটি সর্বমোট এক কোটি ৭৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা লেনদেন করে; যা গড়ে প্রতিদিন ৪৩ লাখ ৮৯ হাজার ২৫০ টাকা। শীর্ষ ১০টিতে স্থান পাওয়া বাকিরা হচ্ছে এটলাস বাংলাদেশ, ন্যাশনাল টিউবস, প্রাইম টেক্সটাইল স্পিনিং মিলস, ওয়াটা কেমিক্যালস, আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান: স্কিম, উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, সিলকো ফার্মা ও সালভো কেমিক্যাল।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..