প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শেয়ারহোল্ডারদের নিরাশ করছে শ্যামপুর ও জিলবাংলা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: আবারও শেয়ারহোল্ডারদের নিরাশ করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শ্যামপুর সুগার ও জিলবাংলা সুগার। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান দুটির বোর্ডসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য তারা শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ প্রদান করবে না। ‘নো-ডিভিডেন্ড’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে জিলবাংলা সুগার টানা ২৮ বছর ও শ্যামপুর সুগার ২২ বছর লভ্যাংশ দেওয়া থেকে বিরত থাকল। এদিকে ‘এ বছর প্রতিষ্ঠান দুটি লভ্যাংশ প্রদান করবে’ এমন গুজবে যারা শেয়ার কিনেছিলেন, বেকায়দায় পড়েছেন সেসব বিনিয়োগকারী।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রায় দুই যুগের বেশি ধরে কোনো ধরনের লভ্যাংশ পান না পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জিলবাংলা সুগার ও শ্যামপুর সুগারের শেয়ারহোল্ডাররা। এর মধ্যে জিলবাংলা সুগার ২৮ বছর ও শ্যামপুর সুগার ২২ বছর ধরে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের রিটার্ন দিচ্ছে না। কিন্তু এরপরও প্রায় বছরজুড়ে পুঁজিবাজারে এ দুই কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির দৌরাত্ম্য লক্ষ্য করা যায়। যার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ জানা নেই বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টদের।

এদিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকার পাশাপাশি আর্থিক অবস্থা নাজুক থাকার পরও শেয়ারের দর বৃদ্ধির দৌরাত্ম্যে বিস্মিত অনেকেই। কারও কারও মতে, আর্থিক অবস্থা দুর্বল এসব কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কারসাজি রয়েছে। তা না হলে কোনোভাবেই এসব শেয়ারদর এমনভাবে বাড়তে পারে না।

এ প্রসঙ্গে শহিদুল ইসলাম নামে একজন বিনিয়োগকারী বলেন, ‘যেখানে ভালো মানের কোম্পানির শেয়ারদর বছরের পর বছর বাড়ছে না, সেখানে এক বছরের মধ্যে এসব শেয়ারদর বেড়েছে পাঁচ থেকে দশগুণ। কারসাজি ছাড়া এটা কিছুতেই সম্ভব নয়।’

জানতে চাইলে শ্যামপুর সুগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কোম্পানি বছরের পর বছর লোকসানে থাকার কারণে আমরা ইচ্ছে থাকলেও শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারি না।’

লোকসান সত্তেও শেয়ারের দর বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা বিনিয়োগকারীদের বিষয়। তাদের আগ্রহ থাকলে শেয়ারদর বাড়ে, আবার আগ্রহ না থাকলে শেয়ারদর কমে যাবে। এটা খুবই স্বাভাবিক। ফলে কেন দর বাড়ছে, তা বলা মুশকিল।’

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ার কিছু লোকের হাতে রয়েছে। তারাই ইচ্ছেমতো শেয়ার কেনাবেচা করে, দর হ্রাস-বৃদ্ধি করে।

সূত্র জানায়, জিলবাংলা সুগারের শেয়ার রয়েছে দেশের একটি বড় গ্রæপের কাছে। তারাই শেয়ার কেনাবেচা করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। আর এ গ্রুপটির ফাঁদে পড়ে লোকসানি হন প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা।

কোম্পানি সূত্র জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে শেয়ারহোল্ডাররা কোনো ধরনের রিটার্ন না পাওয়ার প্রধান কারণ পুঞ্জীভ‚ত লোকসান। তথ্যমতে, বর্তমানে শ্যামপুর সুগারের লোকসানের পরিমাণ ৩৪ কোটি টাকা। আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ৩৩ কোটি টাকা। অন্য প্রতিষ্ঠান জিলবাংরা সুগারের ২০১৬ সালে লোকসান হয়েছে ৩৭ কোটি টাকা। আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ৩৪ কোটি টাকা।

দুই কোম্পানির মধ্যে জিলবাংলা সুগার ১৯৮৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। পুঁজিবাজারে এসেই লোকসানের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানি সূত্র জানায়, এ প্রতষ্ঠানের পক্ষ থেকে শেয়ারহোল্ডাররা সর্বশেষ লভ্যাংশ পান ১৯৯০ সালে। এ বছর কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করে। এরপরের বছর অর্থাৎ ১৯৯১ সালে শেয়ারহোল্ডারদের হতাশ করে নো-ডিভিডেন্ট ঘোষণা করে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশের দেখা পাননি। অপর কোম্পানি শ্যামপুর সুগার ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির পর একবারও শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের রিটার্ন দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

কোম্পানি দুটির গত এক বছরের লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, গত এক বছরের মধ্যে  জিলবাংলা সুগারের শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ১৪ টাকা। একই সময়ের মধ্যে এ শেয়ার সর্বোচ্চ ৭৫ টাকা দরে কেনাবেচা হয়। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শেয়ার ৫৭ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

অন্যদিকে এক বছরের মধ্যে শ্যামপুর সুগারের প্রতিটি শেয়ার সর্বনিম্ন ১০ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়। পরবর্তী সময়ে যা গিয়ে দাঁড়ায় ৩৩ টাকা ৬০ পয়সায়। বর্তমানে দুর্বল এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার ২৫ থেকে ২৮ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।