প্রচ্ছদ শেষ পাতা

শেয়ার নিয়ে বিপাকে বস্ত্র খাতের বিনিয়োগকারীরা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডসহ তালিকাভুক্ত রয়েছে মোট ১৯ খাতের প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে বস্ত্র খাত। এই খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর দীর্ঘদিন থেকে মন্দা পরিস্থিতিতে রয়েছে। হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বছরের বেশিরভাগ সময়ই নিম্নমুখী রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।
তালিকাভুক্ত ৫৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বর্তমানে অভিহিত দরের নিচে অবস্থান করছে ১৩ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য। একইভাবে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের রিটার্ন না দিতে পারায় ৯ প্রতিষ্ঠান নেমে গেছে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ খাতে বেশি দুর্বল প্রতিষ্ঠান থাকার প্রধান কারণ বস্ত্র খাতের বেশি বেশি কোম্পানির তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়া। বর্তমানে এ খাতে সবচেয়ে বেশি তালিকাভুক্ত কোম্পানি রয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাজারে থাকলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ভালো নেই। তারা বছরের পর বছর শেয়ারহোল্ডারদের বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। কিছু প্রতিষ্ঠান আবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পরপরই মুনাফা কম দেখিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের বঞ্চিত করছে। তারা নেমে যাচ্ছে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে। তারা পুঁজিবাজারে এসেছে কেবল কর সুবিধা নেওয়ার জন্য। যে কারণে বাজার থেকে টাকা তোলার পর তারা কোম্পানির উন্নয়ন কিংবা শেয়ারহোল্ডারদের কথা ভাবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসনের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তারা।
জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, শুধু বস্ত্র খাতই নয়, যে কোনো খাতের কোম্পানি তালিকাভুক্তির আগে ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালো করে জানা দরকার। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, যেসব কোম্পানির আর্থিক অকস্থা ভালো কিংবা মৌলভিত্তিসম্পন্ন তারাই কেবল পুঁজিবাজারে আসে। অর্থাৎ প্রথম অবস্থায় তাদের ভালো-মন্দ বিচার করার জ্ঞানটা ওইভাবে থাকে না। তাই সংশ্লিষ্টদের এই কাজটি করতে হবে। তাহলে বাজারে যেমন ভালো কোম্পানি আসবে, তেমনি বিনিয়োগকারীরাও উপকৃত হবেন।
একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, আমাদের দেশের বস্ত্র খাতের কোম্পানিতে অনিয়ম বেশি হয়। বেশিরভাগ কোম্পানির পুঁজিবাজারের আসার উদ্দেশ্যই পরিকল্পিত। বর্তমানে যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে, তার বেশিরভাগ কোম্পানি বাজার থেকে ১৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। এরপর তারা হাত গুটিয়ে নিয়েছে। তারা একবারও কোম্পানির উন্নয়ন কিংবা শেয়ারহোল্ডারদের কথা ভাবেনি, যে কারণে কোম্পানিগুলোর অবস্থা এমন হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে বিএসইসি কর্তৃপক্ষকে। একমাত্র তারা সচেতন হলেই এ খাতের ভালো মানের কোম্পানির অভিষেক ঘটবে পুঁজিবাজারে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বর্তমানে পুঁজিবাজারে যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে, তার মধ্যে ফেসভ্যালু বা অভিহিত দরের নিচে অবস্থান করা কোম্পানিগুলো হচ্ছে আফিল ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ঢাকা ডায়িং, ডেলটা স্পিনিং, ফ্যামেলিটেক্স, জেনারেশন নেক্সট, ম্যাকসন স্পিনিং, মেট্রো স্পিনিং, আর এন স্পিনিং, তাল্লু স্পিনিং, তুংহাই নিটিং, জাহিন স্পিনিং ও জাহিন টেক্সটাইল।
এসব কোম্পানির মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল। বর্তমানে এই শেয়ার দুই টাকা ৬০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের চাহিদা তলানিতে নেমেছে, যার জের ধরে দরও আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে। পরের অবস্থানে রয়েছে ফ্যামিলি টেক্স। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মিলছে তিন টাকা ২০ পয়সায়। বাকি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারগুলো অবস্থান করছে ৯ টাকার নিচে।
অন্যদিকে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দিতে পেরে এ খাতের ৫৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯ প্রতিষ্ঠান ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। এই কোম্পানিগুলো হচ্ছে অলটেক্স, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ঢাকা ডায়িং, ডেলটা স্পিনিং, দুলামিয়া কটন, ইটিএল, সোনারগাঁ টেক্সটাইল, তাল্লু স্পিনিং ও তুংহাই নিটিং।

সর্বশেষ..