কোম্পানি সংবাদ

শেয়ার হস্তান্তর ও কেনার ঘোষণা দুই কোম্পানি পরিচালকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাতের কোম্পানি যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক তাসমিন মাহমুদ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। আর বিমা খাতের কোম্পানি সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা মো. আবু তাহের চৌধুরী শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে তথ্য জানা গেছে।
যমুনা ব্যাংক লিমিটেড: তাসমিন মাহমুদ কোম্পানিটির ৭৫ লাখ শেয়ার কিনবেন। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বর্তমান বাজারদরে উল্লিখিত পরিমাণ শেয়ার ব্লক মার্কেট থেকে কিনবেন।
২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল তিন টাকা সাত পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৯ পয়সা। ওই সময় মুনাফা করেছে ২২৯ কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির এক লাখ ৬৩ হাজার ১৩১টি শেয়ার মোট ১০৮ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। ওইদিন শেয়ারদর অপরিবর্তিত থেকে প্রতিটি সর্বশেষ ১৬ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৬ টাকা ৯০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৭ টাকা ১০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ১৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে ২১ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠানামা করে।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ২২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। আর তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল তিন টাকা ৩৮ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ১২ পয়সা। ওই সময় করপরবর্তী মুনাফা করে ২০৭ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল দুই টাকা ৯২ পয়সা এবং এনএভি হয়েছিল ২৫ টাকা ৭০ পয়সা। এবং কর-পরবর্তী মুনাফা করে ১৭৯ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংক খাতের এ কোম্পানিটি ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। এক হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৭৪৯ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১ হাজার ৫৫ কোটি ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির ৭৪ কোটি ৯২ লাখ ২৫ হাজার ৬৫০টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৪৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক চার দশমিক ৫৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে এক দশমিক ৮০ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত পাঁচ দশমিক পাঁচ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে চার দশমিক ৭৫।
সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স: কোম্পানিটির উদ্যোক্তা আবু তাহের চৌধুরীর কাছে কোম্পানির মোট ৯ লাখ ৩২ হাজার ১৩৬টি শেয়ারের মধ্যে আট লাখ শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন সিস্টেমের বাইরে উপহার হিসেবে কন্যা ডা. জাহানারা আরজুকে দিবেন। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএসই’র অনুমোদন সাপেক্ষে উল্লিখিত পরিমাণ হস্তান্তর করবেন।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ বা ১০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ২৩ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৩ টাকা ৭০ পয়সা। ওইদিন কোম্পানিটির এক লাখ ৫৭ হাজার ৫৬৩টি শেয়ার মোট ৯৭ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ৩৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। আর দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ২৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৪ টাকা ৩০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ১৭ টাকা থেকে ৩১ টাকায় ওঠানামা করে।
কোম্পানিটি ১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৪৭ কোটি আট লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৫৯ কোটি চার লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির চার কোটি ৭০ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৯টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৪২ শতাংশ শেয়ার, সরকারি ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩৭ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১১ দশমিক ১৩ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১১ দশমিক ৫০।

সর্বশেষ..