পুঁজিবাজার

শেয়ার হস্তান্তর করবেন দুই কোম্পানির উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাতের কোম্পানি ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যোক্তা ইয়াকুব আলী এবং প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা পরিচালক সৈয়দ এম আলতাফ হোসেন শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এনসিসি ব্যাংক: প্রাপ্ত তথ্যমতে, কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ইয়াকুব আলীর কাছে কোম্পানির মোট এক কোটি ৮৫ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৭টি শেয়ার রয়েছে, যার মধ্য থেকে তিনি এক কোটি ৮৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৭টি শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন সিস্টেমের বাইরে উপহার হিসেবে মেয়ে তানজিনা আলীকে দেবেন। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সিএসই’র অনুমোদন সাপেক্ষে উল্লিখিত পরিমাণ শেয়ার তিনি হস্তান্তর করবেন।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর অপরিবর্তিত থেকে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ১২ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ১২ টাকা ৮০ পয়সা। দিনজুড়ে ৬৭ হাজার ২৯৬টি শেয়ার মোট ৪৩ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর আট লাখ ৬১ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৩ টাকায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১৮ টাকায় ওঠানামা করে।
৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি পাঁচ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে দুই টাকা সাত পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ১৫ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় যথাক্রমে দুই টাকা ৯ পয়সা ও ১৯ টাকা ৪৬ পয়সা ছিল।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ১৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা তার আগের বছর ছিল ১৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে দুই টাকা ৯ পয়সা ও ৩১ ডিসেম্বরে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছিল ১৯ টাকা ৪৬ পয়সা, যা তার আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে দুই টাকা ৩৫ পয়সা ও ১৮ টাকা ৭৬ পয়সা। ২০১৭ সালে কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১৮৪ কোটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা তার আগের বছর ছিল ২০৭ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘এ’ ক্যাটেগরির এ কোম্পানি। অনুমোদিত মূলধন এক হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮৮৩ কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৮৩৫ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট ৮৮ কোটি ৩২ লাখ ১৮ হাজার তিনটি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৩৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১৯ দশমিক ৪১ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারী এক দশমিক ২৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪০ দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ছয় দশমিক ১২ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে চার দশমিক ৮৯।
প্রগতি ইন্স্যুরেন্স: প্রাপ্ত তথ্যমতে, কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালক সৈয়দ এম আলতাফ হোসেনের কাছে কোম্পানির মোট ১৯ লাখ ৮৩০টি শেয়ার রয়েছে, যার মধ্য থেকে তিনি পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন সিস্টেমের বাইরে উপহার হিসেবে ছেলে সৈয়দ মুহাম্মদ জনকে দেবেন। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএসই’র অনুমোদন সাপেক্ষে উল্লিখিত পরিমাণ শেয়ার হস্তান্তর করবেন।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর অপরিবর্তিত থেকে প্রতিটি সর্বশেষ ৩৮ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৩৮ টাকা ৭০ পয়সা। ওইদিন ৭০ হাজার ৮৩৫টি শেয়ার মোট ৮৫ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২৭ লাখ ৩১ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৩৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৯ টাকায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ২২ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৪১ টাকায় ওঠানামা করে।
২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটি ১৩ শতাংশ নগদ ও সাত শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল তিন টাকা দুই পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য হয়েছিল ৫৩ টাকা পাঁচ পয়সা। আর ২০১৮ সালে কোম্পানিটি মুনাফা করে ১৮ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৩ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল, যা তার আগের বছরে ছিল ১০ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল দুই টাকা ৬৬ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ৫৪ পয়সা। ওই সময় করপরবর্তী মুনাফা করে ১৫ কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল দুই টাকা ৩৮ পয়সা এবং এনএভি হয়েছিল ৫২ টাকা ৪৬ পয়সা। এবং কর-পরবর্তী মুনাফা করে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
বিমা খাতের এ কোম্পানিটি ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ২০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৬৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২৫৯ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির ছয় কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার ৩২৯টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৪১ দশমিক ৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ২৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২৮ দশমিক ১৭ শতাংশ শেয়ার।
সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১২ দশমিক ৮১ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১২ দশমিক ৭৩।

 

সর্বশেষ..