প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের জনজীবন

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বৈরী আবহাওয়ার কারণে ইউরোপের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত চার দিনে শৈত্যপ্রবাহে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশের শরণার্থীরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। খবর এফপি।

এর আগে জিও নিউজের এক সংবাদে বলা হয়, ইউরোপে গত চার দিনে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন অভিবাসী এবং গৃহহীনও রয়েছে। রাশিয়ায় গত ১২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম এমন তীব্র শীতে বড়দিন পালন করা হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে এমন বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ইউরোপজুড়ে নিহত ২৩ জনের মধ্যে ১০ জনই পোল্যান্ডের নাগরিক। শনিবার সেখানে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পোলিশ গভর্নমেন্ট সেন্টার ফর সিকিউরিটির (আরসিবি) মুখপাত্র বোজেনা ওয়াইসোকা বলেছেন, তীব্র শৈত্যপ্রবাহে শুক্রবার সাতজনের প্রাণহানি হয়েছে। যে দিনটি ছিল চলতি শীত মৌসুমের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন। ঠাণ্ডার কারণে ১ নভেম্বর থেকে ৫৩ জন ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত  হয়েছেন।

মঙ্গলবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রিসের লিসবস দ্বীপের মারিয়া শরণার্থী শিবিরে শুক্রবার প্রায় চার হাজার মানুষকে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। তুষারঝড়ের মধ্যে শরণার্থী শিবির থেকে খুবই আক্রান্ত ১২০ নারী, পুরুষ ও শিশুকে হোটেলে পাঠানো হয়েছে বলে জাতিসংঘের শরণার্থী শিবিরের এক মুখপাত্র সোমবার সিএনএনকে জানিয়েছেন।

মারিয়া আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা খুবই নাজেহাল। এখন পর্যন্ত ঠিক কতজন ওই শরণার্থী শিবিরে বাস করছেন, তা এখনও সঠিকভাবে বলা হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে। তবে গ্রিসের অভিবাসী মন্ত্রী ইয়ানিস মৌজালাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় কোনো শরণার্থী বা  অভিবাসীকে ঠাণ্ডা আবহাওয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে না। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গ্রিসের এই মন্ত্রীর বিবৃতির সঙ্গে বাস্তবে অমিল দেখা গেছে জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবকদের কথায়। তারা জানিয়েছেন, এখনও আরও কয়েক হাজার শরণার্থী খোলা পরিবেশে তুষার-শীতের মধ্যে বাস করছেন।

এছাড়া সিএনএনের এক প্রতিবেদনেও দেখানো হয়েছে এখনও তুষারপাতের মধ্যে মারিয়া শরণার্থী শিবিরের কয়েকটি তাঁবু ভেঙে পড়েছে।