সম্পাদকীয়

শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিকল্প সমাধান অনুসন্ধান করুন

ঈদুল ফিতরের পর পোশাক শিল্পে যে শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে, তাকে অনাকাক্সিক্ষত বাস্তবতা বলে উল্লেখ করেছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক। গতকাল গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ বক্তব্য সবার মনোযোগ কাড়বে। বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেছেন, করোনার কারণে ৫৫ শতাংশ সক্ষমতা নিয়ে উৎপাদন চালাতে হলে কারখানাগুলোর পক্ষে শ্রমিক ছাঁটাই ছাড়া উপায় থাকবে না।

চালু কারখানাই প্রণোদনা পাবেÑএ শর্তে করোনার সংকট মোকাবিলায় সরকার রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছে। চলতি মাসে এটি শেষ হবে। অথচ প্রণোদনা পেয়েও এপ্রিল ও মে মাসে কয়েকটি কারখানা শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়েই বিজিএমইএ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে।

দেশের সর্বাপেক্ষা বৈদেশিক আয়ের উৎস হিসেবে পেশাক শিল্পকে রাষ্ট্র বরাবরই বেশি সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু সে সুযোগের সদ্ব্যবহার করার দৃষ্টান্ত নেই। এখন হয়তো করোনা সংকটের কারণে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু সবসময় বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে বিজিএমইএ এমন কৌশল নিয়েছে এবং বিভিন্ন সুবিধা আদায় করে নিয়েছে। এমন আচরণ বহির্বিশ্বে আমাদের পোশাক খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করবে। এমন বার্তাও যেতে পারে যে, অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স চলে যেতে না যেতেই বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে নজরদারি  স্বচ্ছতা কমতে শুরু করেছে। ক্রয়াদেশ পেতে এমনিতেই তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হয়।  

করোনা ঝুঁকিতে ও গণপরিবহন বন্ধ থাকার সরকারি নির্দেশনা সত্ত্বেও ঈদের আগে শ্রমিকদের বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়েছে। আবার তাদের ফিরে যেতে হয়েছে। শ্রমিকদের যে অবর্ণনীয় ভোগান্তি হতে পারে, সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার তালিকায় থাকায় আমাদের ঋণ ও সহায়তা প্রাপ্তিতে কঠিন শর্ত যোগ হবে, জিএসপি বন্ধ হবে। নিজস্ব সম্পদ ও শক্তিতে নির্ভর করতে হবে। ঠিক সে সময় ঢালাও শ্রমিক ছাঁটাই পোশাক খাতকে দুর্বল করে দেবে। যদি ছাঁটাই করতেই হয়, শ্রম আইন মেনে  শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করতে হবে। এমন যেন না হয় সরকারের কাছ থেকে আবার প্রণোদনা নেওয়ার কৌশল হিসেবে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয় সামনে আনা হচ্ছে। আমাদের পোশাক মালিকরা কি এতই কপর্দকহীন যে, দুই-তিন মাস শ্রমিকদের চালানো সক্ষমতা নেই। এমন ক্রান্তিকালে শ্রমিক ছাঁটাই করা কোনোভাবেই উচিত হবে না।

পোশাক মালিকরা সরকারকে দেওয়া করের চেয়ে অনেক বেশি নগদ সহায়তা নেন। অন্য খাতের শিল্প মালিকরা যে কর দেন, তার এক-দশমাংশও পোশাক খাত থেকে সরকার পায় না। করোনার অজুহাতে এখন পোশাক শিল্প মালিকরা যদি শ্রমিক ছাঁটাই শুরু করেন, তাহলে অন্য শিল্প মালিকরা ছাঁটাই শুরু করবেন। করোনার সংকট তো কেবল পোশাক শিল্পেই পড়েনি। তাই শ্রমিক ছাঁটাই না করে বিকল্প পন্থায় সমস্যা সমাধান করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..