সারা বাংলা

শ্রমিক সংকটে বোরো ঘরে তোলা নিয়ে সংশয়

কভিড-১৯

প্রতিনিধি, যশোর: কভিড-১৯ এর ঊর্ধ্বগতির কারণে চলছে লকডাউনের আদলে বিধিনিষেধ। সে সঙ্গে ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ সময় সবকিছুর পাশাপাশি বন্ধ থাকবে গণপরিবহনও। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংকটের কারণে এ বছরও বোরো আবাদ ঘরে তোলা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন যশোর অঞ্চলের কৃষক।

সময়মতো শ্রমিক না পেলে ক্ষেতের ফসল কীভাবে ঘরে তুলবেন এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া বোরো আবাদ ঘরে তুলতে কৃষককে তেমন বেগ পেতে হবে না। প্রয়োজনে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

যশোর অঞ্চলে করোনা সংক্রমণের প্রভাব বিস্তারের পর ২০২০ সালের ৮ মার্চ থেকে যশোরে কার্যত সাধারণ ছুটি ঘোষণার মাধ্যমে সরকার লকডাউন কার্যকর শুরু হয়। সে সময় বোরো আবাদ ঘরে তোলা নিয়ে মারাত্মক সমস্যায় পড়েন যশোরের চাষিরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কেটে ঘরে তুলতে কৃষককে সহায়তা করা হয়। তবে এজন্য বেশিরভাগ কৃষককে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়।

চলতি বছরও ধান কাটার উপযুক্ত সময়ে এসে করোনার ভয়াবহতার কারণে চলছে লকডাউন। সে সঙ্গে ১৪ এপ্রিল সর্বাত্মক লকডাউনে যাচ্ছে সরকার। ফলে সময়মতো ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে গতবারের মতো বড় ধরনের শঙ্কায় রয়েছেন জেলার কৃষকরা।

কৃষি বিভাগের মতে, যশোরে চলতি বোরো মৌসুমে এক লাখ সাড়ে ৫৭ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। ১৫ দিন পর কাটা শুরু হবে এসব ক্ষেতের ধান। জেলায় বোরো ফলন এবার রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শ্রমে-ঘামে ফলানো ফসলের বাম্পার ফলন দেখে হাসি ফুঠেছে কৃষকের মুখেও। কিন্তু মাঠের সে খুশি ম্লান হয়ে যাচ্ছে করোনা পরিস্থিতির কারণে। যদিও সম্প্রতি হিট শকে জেলায় ৬৪ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকৃতি অনুকূলে থাকায় এ বছর বাম্পার ফলনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কভিডের কারণে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনের খবরে ক্ষেতের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম শঙ্কায় কৃষকরা।

যশোর সদর উপজেলার ইছালী গ্রামের কৃষক হাদিউজ্জামান মিলন বলেন, ছয় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। ইতোমধ্যে ক্ষেতের ধান পেকে উঠতে শুরু করেছে। আর দেড় সপ্তাহ পরেই ধানকাটা শুরু হবে। কিন্তু শ্রমিক পাব কি না সন্দেহ হচ্ছে। তিনি বলেন, গত বছরেও করোনার কারণে জেলার বাইরের এলাকা থেকে শ্রমিক আসতে না পারায় ধানকাটা নিয়ে সমস্যায় পড়ি। পরে বাড়তি টাকা দিয়ে এলাকার কৃষকদের দিয়ে কোনো রকম ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যায়।

একই কথা বলেন, বাঘারপাড়ার রায়পুরের শামসুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের এলাকার বোরো আবাদের ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে মূলত সাতক্ষীরার শ্রমিকরা অংশ নেন। গত বছর করোনার এসব শ্রমিকরা আসতে পারেননি। সরকারি উদ্যোগে কিছু শ্রমিক আনা হলেও সেটি কৃষকদের তেমন কোনো কাজে আসেনি। যে কারণে গত বছরে বোরো আবাদ ঘরে তুলতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়। এ বছরও ঠিক একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি আমরা। এ বছর যদি সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারি তাহলে আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। বৈশ্বিক এ পরিস্থিতিতে বোরো আবাদই আমাদের একমাত্র ভরসা।

এ বিষয়ে কথা হয় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের  অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপঙ্কর দাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বরাবরই কৃষি বিভাগ বেশি গুরুত্ব আসছে। গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এ বছর আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। বোরো আবাদ ঘরে তুলতে কৃষকের যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক আনা হবে।

তিনি বলেন, করোনার কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে তাই এ বছর কৃষকের বোরো আবাদ কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কেটে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেশিনটি পরিচালনায় তেল খরচ দিয়েই ধান কাটার সুবিধা নিতে পারবেন কৃষক।

তিনি আর বলেন, চলতি বছর ২৪টি হারভেস্টার মেশিন সরকারের পক্ষ থেকে যশোর জেলার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বেশি মেশিন আনা হতে পারে বলে তিনি জানান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..