প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শ্রম আইনে পরিবর্তন সৌদি আরবের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভিশন-২০৩০-এর আওতায় শ্রম আইনে পরিবর্তন আনল সৌদি আরব। এখন থেকে পুরোনো চাকরিদাতার অনুমতি ছাড়া অন্য জায়গায় চাকরি করতে পারবেন গৃহকর্মীরা। খবর: আল জাজিরা।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ভিশন-২০৩০-এর আওতায় দেশটির নানা খাতে সংস্কারের নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। শ্রম আইনে পরিবর্তনও এর অংশ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক বছর ধরে নানা সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব। নারী গাড়ি চালাচ্ছেন, সঙ্গী ছাড়া চলাফেরা করতে পারছেন। উন্নয়নের আওতায় আনা হয়েছে পুরো দেশকে।

সৌদি গ্যাজেট জানিয়েছে, শ্রম আইনে কিছু পরিবর্তন এনেছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক শ্রম বিধিমালায় কিছু পরিবর্তন করেছে। পরিবর্তনের মধ্য পুরোনো চাকরিদাতার অনুমতি ছাড়া অন্য জায়গায় চাকরি নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে গৃহকর্মীদের। আগের আইনে গৃহকর্মীদের না জানিয়ে মালিকানা পরিবর্তন করা হতো। গৃহকর্মী সেখানে যেতে না চাইলেও উপায় ছিল না। এখন শ্রম আইনের পরিবর্তনের কারণে গৃহকর্মী চাইলে চাকরিদাতা পরিবর্তন করতে পারবেন। চাকরিদাতা গৃহকর্মীর অনুমতি ছাড়া অন্যের কাছে গৃহকর্মীকে বদলি হিসেবে দিতে পারবেন না।

শ্রম মন্ত্রণালয় আইনে যে পরিবর্তন এনেছে, তার আওতায় ঠিকমতো বেতন-ভাতা না দিলে বা বিপজ্জনক কাজে নিয়োজিত করলে গৃহকর্মীরা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া কর্মীর অনুমতি ছাড়া চাকরিদাতা তাকে অন্য ব্যক্তির কাজে নিয়োজিত করলে এবং শিক্ষানবিশ থাকাকালে চাকরির চুক্তি বাতিল করলে কর্তৃপক্ষ ওই নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

দেশটির মানবাধিকার কমিশনের (এইচআরসি) প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় মানব পাচার প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান আওয়াদ আলাওয়াদ বলেন, ভিশন-২০৩০-এর আওতায় এসব সংস্কার করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে সৌদিতে বিদেশি কর্মীদের চাকরি বদল ও চলাচলের স্বাধীনতা আরও বাড়বে। সৌদি আরবের আইনের আওতায় গৃহকর্মীদের সুরক্ষা দেয়া হবে। এসব সংস্কারের উদ্যোগ সৌদি আরবের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দীর্ঘস্থায়ী মনোযোগের প্রতিফলন।

সৌদি আরবে গৃহকর্মীদের নির্যাতন ও নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা প্রায়ই বিশ্বের গণমাধ্যমে আসে। বিভিন্ন দেশ থেকে গৃহকর্মী হিসেবে যারা কাজ করতে দেশটিতে যান, তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন। তাদের বেশিরভাগ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশের দরিদ্র নারী। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন আইনের আওতায় এ দুর্নাম ঘুচবে।