প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শ্রীপুরে দেশীয় ‘চায়না-৩’ জাতের লিচুর বাম্পার ফলন

আবদুল খালেক, শ্রীপুর (গাজীপুর): জ্যৈষ্ঠের গরম আর গগনের ডাক/এলো বুঝি বৃষ্টি বুনো হাঁসের ঝাঁক/ ঝড়ো ঝড় বাতাসে ফুটলো কদম/শালিকের ঝাঁকগুলো তুললো রিদম/ প্রকৃতির সাজে আজ জ্যৈষ্ঠের কৃষ্টি/আম-জাম-কাঁঠালের অপরূপ দৃষ্টি।’ কবি কবিতার ছন্দে জ্যৈষ্ঠের বর্ণনা এভাবেই দিয়েছেন। গ্রীষ্মের দ্বিতীয় মাস জ্যৈষ্ঠ শুরু। বিভিন্ন রকমের ফলের ম-ম গন্ধে চার পাশজুড়ে মোহিত। এ মাসকে বলা হয় মধুমাস। বছরজুড়ে অন্যান্য ফলের মধ্যে লিচু অন্যতম। পুষ্টিগুণের দিক থেকে লিচুতে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘সি’। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন লিচু ঘিরেই চলছে ব্যস্ততা। এ যেন লিচুর উৎসব। দেশীয় ‘চায়না-৩’ জাতের লিচুর এবার বাম্পার ফলন। দেশীয় ‘চায়না-৩’ জাতসহ ও অন্যান্য জাতের লিচুর ফলন বেশি হওয়ায় এ উপজেলার লিচু চাষিদের মুখে হাসি।

বাদুড়ের কবল থেকে লিচু রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দেয়া, দিনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাছ থেকে লিচু নামানো ও থোকা বাঁধার পরে তা গাড়িতে করে স্থানীয় বাজারে নিয়ে যাওয়া। লিচু ঘিরে এমনভাবে ব্যস্ত এ উপজেলার গ্রামের সাধারণ মানুষ। উঁচু চালা জমিসমৃদ্ধ শ্রীপুরের রসালো লিচুর কদর রয়েছে দেশজুড়েই। উপজেলাজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার কৃষক এ লিচুকে ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকেন।

এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে না থাকায় এ উপজেলায় ‘চায়না-৩’ জাতসহ অন্যান্য লিচুর  ভালো ফলন হয়েছে। এ জ্যৈষ্ঠ মাস ভরা এখন লিচুকে ঘিরেই গাঁয়ের কৃষাণ-কৃষাণি ব্যস্ত থাকবেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি লিচুর আবাদ হয় শ্রীপুর উপজেলায়। স্বাদের দিক দিয়ে শ্রীপুরের লিচুর ভিন্নতা থাকায় এর চাহিদাও বেশি। এবার শ্রীপুর উপজেলায় ৯২৮ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়। চলতি বছর লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চার হাজার ৮৩৫ মেট্রিক টন।

এদিকে প্রতিনিয়ত শ্রীপুরের লিচুর চাহিদা বাড়ায় প্রতি বছরই এ উপজেলাজুড়ে সম্প্রসারণ হচ্ছে লিচু চাষ। এ লিচু চাষে কৃষকের রুচির ভিন্নতার সঙ্গে জাতেরও পরিবর্তন হয়। এখানে আবাদ হচ্ছে ‘চায়না-৩’, বোম্বাই ও পাতি লিচু।

উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামের লিচুচাষি কামাল মৃধা বলেন, ‘ লিচু গাছে মুকুল আসার পর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। দামও বেশি পাওয়ার আশা রয়েছে। তিনি দেশীয় ‘চায়না-৩’ জাতের লিচু গাছ লাগিয়েছেন। তার ‘চায়না-৩’ জাতসহ অন্যান্য ৩০টি লিচু গাছ রয়েছে। তিনি গত বছর লিচু বিক্রি করেছিলেন আড়াই লাখ টাকার। এবার আশা করছেন তিনি লিচু বিক্রি করবেন চার লাখ টাকার।

উপজেলার কেওয়াপূর্বখণ্ড গ্রামের চাষি আমির হোসেন বলেন, ফলনের দিক দিয়ে এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাগানে উৎপাদিত লিচু কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য নিয়ে যান স্থানীয় বাজারগুলোতে। তবে অনেকে ভালো দাম পাওয়ার আশায় চলে যান রাজধানীতেও। জ্যৈষ্ঠ মাস পুরোটা সময়ই লিচু পাওয়া যায়। এবার অন্যান্য সময়ের চেয়ে ভালো ফলন ও দাম পাওয়া যাচ্ছে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা মূয়ীদুল হাসান বলেন, আমরা কয়েক বছর ধরে স্থানীয় কৃষকদের লিচু চাষ সম্প্রসারণে উদ্বুদ্ধ করায় প্রতিনিয়ত বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে লিচু চাষ। এবার উপজেলাজুড়ে লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। ভোক্তা পর্যন্ত বিষমুক্ত লিচু পৌঁছার ব্যাপারে আমরা প্রথম থেকেই নজরদারি করেছি।