সারা বাংলা

শ্রীমঙ্গলে উচ্ছেদ আতঙ্কে চার শতাধিক মানুষ

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ৫০ পরিবারের অসহায় চার শতাধিক দরিদ্র মানুষ। বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পাহাড়ঘেরা প্রত্যন্ত গ্রাম ববানপুর। ১৯৫২ সালে ছরিম উল্লা নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মৌখিকভাবে প্রায় ১৫ একর জমি ক্রয় করে বসতি গড়ে তোলে ২৪টি পরিবার। পরবর্তীকালে পরিবারগুলো সেই জমির খাজনা দিয়ে বংশানুক্রমে বসবাস করে আসছে। ১৯৬৫ সালে এই গ্রামের পাশের একটি চা বাগান গড়ে উঠলে ২০০৭ সালে হঠাৎ করে বাগান কর্তৃপক্ষ সেই জমির মালিকানা দাবি করে দখলে নিতে গ্রামবাসীকে উচ্ছেদ নোটিস দেয়। দিনারপুর টি এস্টেট নামে এই বাগান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, বাগান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তারা বিবদমান জমিসহ কিছু জমি সরকারের কাছ থেকে ৩৬ বছরের জন্য বন্দোবস্ত নিয়েছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর পক্ষে ছতির মিয়া গং আদালতে মামলা করে পরে হেরে যায়। এরপর গ্রামবাসীরা আপিল করলে এ পর্যন্ত মামলাটি স্থিতাবস্থায় রয়েছে।

এলাকার ৭৫ বছর বয়সী খোদেজা বিবি জানান, ৬০ বছর আগে তিনি এই গ্রামে বধূ হয়ে এসেছেন। এরপর একে একে শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী মারা গেছেন এখানেই। নাতি-নাতনি নিয়ে এখানে বসবাস করছেন। ৬৫ বছর বয়সী গ্রামের আব্রু মিয়া জানান, এ ভিটে নিয়ে তারা খুব দুশ্চিন্তায় আছেন। বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করলে কোথায় যাবেন, তাদের তো যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। মোছদ্দর আলী নামে অপর একজন জানান, বাগান কর্তৃপক্ষ জোর করে উচ্ছেদ করতে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে হুমকি দিচ্ছে।

 

 

 

খুলনার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে

 

শুভ্র শচীন, খুলনা

 

খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার যে কোনো স্থানে সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী বহনের ভাড়া ৩০০ টাকা। আর এর বাইরে প্রতি কিলোমিটারের জন্য ১০ টাকা হারে ভাড়া নেওয়ার নিয়ম। তবে এ নিয়মকে তোয়াক্কা না করে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে সরকারি হাসপাতালের অধিকাংশ অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তারা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের নিয়ে একাধিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে এবং সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নষ্টের অজুহাতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে বেশি ভাড়া আদায় করছে। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সঙ্গে রয়েছে তাদের শতকরা ১০ টাকা কমিশনের চুক্তি। সরকারি হাসপাতালগুলোয় অ্যাম্বুলেন্স সংকটের সুযোগে এ সিন্ডিকেটের কাছে রোগীরা জিম্মি হয়ে আছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগে ১০৬টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ৪২টি বা ৪০ শতাংশই অচল। বাকি ৬৪টি সচল থাকলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না। এর মধ্যে খুলনায় ১১টি, বাগেরহাটে ৮টি, সাতক্ষীরায় ৯টি, যশোরে ৭টি, ঝিনাইদহে ৭টি, নড়াইলে ৪টি, মাগুরায় ৩টি, কুষ্টিয়ায় ৭টি, চুয়াডাঙ্গায় ৪টি ও মেহেরপুরে ৪টি সচল রয়েছে। তবে বাগেরহাটের মোল্লাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২টি, মাগুরার শালিখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি ও চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো অ্যাম্বুলেন্স সচল নেই। ফলে সংকটময় মুহূর্তে রোগী আনা-নেওয়া করতে ব্যয় বাড়ছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনের সড়কের দু’ধার ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে ১০-১৫টি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সব সময়। পুরোনো ‘লক্কড়’ মার্কা মাইক্রোবাস গ্যারেজে মেরামত করে অ্যাম্বুলেন্সের হর্ন ও গায়ে ‘অ্যাম্বুলেন্স’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করা হচ্ছে। ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে এসব অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দেওয়া থাকে। হাসপাতাল থেকে বের হওয়া রোগীর স্বজনরা বাহনগুলোর কাছে আসার আগেই দালালচক্র তাদের ঘিরে ধরে এবং কম টাকায় নিরাপদে পৌঁছানোর কথা বলে বিভ্রান্ত করে। এখানে দালালদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের দর কষাকষি ও ঝগড়া নিত্যদিনের।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুজন গাড়িচালক থাকা সত্ত্বেও একজনকে দিয়েই চালানো হচ্ছে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স। বর্তমানে একজনকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া না হলেও অপরজনকে দিয়ে পিকআপে করে মাসে দু-চারবার রোগীদের জন্য অক্সিজেন আনার কাজ করানো হয়।

চালক ইস্রাফিল জানান, কয়েক দিন আগে অবসরে যাওয়া পরিচালকের একটি চিঠির কারণে এমনটা হয়েছে। ওই চিঠিতে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় আতিক ও নিরাপত্তা প্রহরী হায়াত আলীকে। তবে চিঠি পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে আতিক বদলি হয়ে গেলে নিরাপত্তা প্রহরী হায়াত আলী হয়ে ওঠেন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের একমাত্র চালক।

খুলনা জেলা অ্যাম্বুলেন্স চালক কল্যাণ সমবায় সমিতির সহসভাপতি আমির হোসেন জানান, তাদের সমিতির আওতায় ৬০-৭০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স আছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রশ্নই আসে না। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। ভাড়া ওরাই ঠিক করে। আমরা চুক্তি অনুযায়ী ভাড়া নিই। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রোগী যাতায়াত খরচ কম। তাদের শুধু একবার টোল ভাড়া দেওয়া লাগে। আমাদের আসা-যাওয়ায় টোল দিতেই হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) মো. রাকিব হাসান বলেন, যারা বিআরটিএ’র অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালু রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি কয়েক দিন হলো এখানে যোগ দিয়েছেন। সব বিষয়ে এখনও জানা নেই। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম মোর্শেদ জানান, এ হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের একটি সচল আছে। আর একটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায়ের উড়ো অভিযোগ তিনি শুনেছেন। কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের যে লাইন দেখা যায়, তাদের বিরুদ্ধে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..