সম্পাদকীয়

শ্রীলঙ্কার মতো সন্ত্রাসী হামলা কাম্য নয়

গত চার মাসে বিশ্বজুড়ে ২৬৪টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। সর্বোচ্চ সংখ্যক হামলার ক্ষেত্রে দায় স্বীকার করেছে আইএস ও তালেবান। এমন আরও ৯টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রয়েছে, যারা বিভিন্ন সময় নিরস্ত্র মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। নিউজিল্যান্ডে উগ্র মুসলিমবিরোধী এক শেতাঙ্গের হামলায় ৫০ মুসলিম হত্যার বদলা নেওয়ার
হুমকি দিয়েছিল আইএস। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের অনুষ্ঠান চলাকালে একের পর এক হামলা চালিয়ে ৩২১ জন নিহত ও ৫০০ জন আহত করার দায় স্বীকার করল আইএস। সন্ত্রাসবাদের এই উম্মত্ততায় ধর্মীয় সংশ্লেষের বিতর্ক যেমন থাকে, তেমনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতার বিষয়ও গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রজন ও সমাজজন সবারই তাই এখানে কিছু দায়বোধ রয়েছে।
বাংলাদেশেও এরকম সন্ত্রাসবাদী দুর্ঘটনা ঘটেছে। সে সময় সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট বিশেষ অভিযান চালিয়ে অনেকাংশ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু আশঙ্কামুক্ত বলা চলে না। অথচ শ্রীলঙ্কার এই হামলার ব্যাপারে অন্তত ৩০ মিনিট আগেই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মারফত নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে তথ্য ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই তথ্য মোতাবেক শ্রীলঙ্কান নিরাপত্তাবাহিনী তৎক্ষণাৎ উদ্যোগ নেয়নি। এ কারণে হয়তো নিরাপত্তাবাহিনীর মধ্যে সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছেন। এ ঘটনার পরে শ্রীলঙ্কার সরকার সামাজিক মাধ্যমগুলো বন্ধসহ নানা রকম নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। তাতে ক্ষয়ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখান থেকে শ্রীলঙ্কাসহ সারা বিশ্ব এবং বাংলাদেশের শেখার কিছু রয়েছে।
সব রকম নিরাপত্তা আগে থেকেই আমাদের নিতে হবে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বাইরের সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে বিভিন্ন মহল ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ধর্মীয় গোষ্ঠীর ভূমিকা এখানে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কেননা ইসলামের পণ্ডিতজনরা ও তাদের ধর্মীয় নির্দেশনা এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ধর্মের এই প্রধান প্রবাহ থেকে সামাজিক সচেতনতার প্রধান উদ্যোগ সৃষ্টি হতে পারে, যাতে করে কোনো তরুণ-তরুণী এই উম্মত্ত সন্ত্রাসী কর্মে জড়িয়ে না পড়ে। পাশাপাশি নিরাপত্তাবাহিনী তাদের গোয়েন্দা নজরদারি আরও শক্তিশালী করবে সেটাই কাম্য। জঙ্গিরা ভিন্ন নামে ও ভিন্ন কৌশলে যেমন নিজেদের কার্যক্রম চালাতে পারে, তেমনি ভিন্ন ‘ধর্মীয়-মতাদর্শিক’ বক্তব্য দিয়ে তরুণ সমাজকে এই অন্ধকারাচ্ছন্ন, প্রত্যাখ্যাত ও সভ্যতাবিনাশী পথে ভেড়াতে পারে। তাই সমাজের বিশিষ্টজন, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় ব্যক্তিজন সরকারের সহযোগিতায় এই সংকট সমাধানে এগিয়ে আসবে এবং সরকারও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক ও প্রশাসনিক উপায়ে সমস্যা সমাধানে আরও বেশি নজরদাবি করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সর্বশেষ..