সারা বাংলা

শ্রেণিকক্ষ সংকটে জাগছড়া চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়

আ ফ ম আবদুল হাই, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সম্প্রতি জাতীয়করণকৃত ১২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি জাগছড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের পাশে চা বাগানের হাসপাতালের একটি কক্ষে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। এমনকি বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো বসার ব্যবস্থা, উন্নত স্যানিটেশন কিংবা নিরাপদ খাবার পানি।
জানা গেছে, এ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি করা হলে এখনও পর্যন্ত কোনো পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়নি। দোচালা টিনের ঘরে মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষে ৩০০ ছাত্রছাত্রীকে দুই শিফটে কোনো রকমে পাঠদান করা হচ্ছে। এদিকে প্রয়োজনের তুলনায় চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ কিছুই নেই বিদ্যালয়টিতে। ছাত্রছাত্রীদের মাটিতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে।
স্কুলের বাইরে টেবিল নিয়ে অফিস বানিয়ে কোনো রকমে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক তাদের দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সকালের শিফটে দুটি কক্ষে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান এবং বিকালের শিফটে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে বসে ক্লাস করছে। ওই শ্রেণিতে ক্লাস করাচ্ছেন সহকারী শিক্ষক সালমা আক্তার। তিনি জানান, গরমের মধ্যে ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা ঠাসাঠাসি করে মাটিতে বসেছে। এতে তাদের লেখাপড়ার সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বেশ কষ্ট পায়। বিদ্যালয়ে বিদ্যমান একটি শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণ বেঞ্চ নেই। ভাঙা কয়েকটি বেঞ্চ দিয়ে কোনো রকমে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে পাঠদান। অপর আরেকটি শ্রেণিকক্ষে কোনো বেঞ্চই নেই।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, মাটিতে বসে তাদের ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হয়। গরমে ক্লাস করা আরও দুঃসহ হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানী দাস জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ছাত্রছাত্রীদের মেঝেতে বসিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। শেণিকক্ষ সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা শুধু নতুন ভবনের আশ্বাস দিচ্ছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পরেশ কালেন্দি জানান, শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাটিতে বসিয়ে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। অতি দ্রুত বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থাসহ পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তালুকদার জানান, এ বিদ্যালয়ের সমস্যা সম্পর্কে অবগত তিনি। অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভবনের কাজ চলছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে। এছাড়া সব সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ..