প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

আশিকুল ইসলাম, জবি: শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষা কার্যক্রম। এক বিভাগের শিক্ষার্থীরা অন্য বিভাগের শ্রেণিকক্ষ ধার করে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছেন এবং কয়েক বিভাগের শিক্ষকরা একই সঙ্গে একই রুম শেয়ার করছেন। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তির পর এ সংকট আরও প্রকট হবে বলে মনে করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদ, দুটি ইনস্টটিউিট ও ৩৬টি বিভাগ থাকলেও সে তুলনায় ক্লাসরুম নেই। বিভাগগুলোর নিজস্ব ক্লাসরুম থাকলেও সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। প্রত্যেক বিভাগে কমপক্ষে ১০টি করে সেমিস্টার থাকলেও ক্লাসরুম রয়েছে সর্বোচ্চ দু-তিনটি, যার ফলে এক সেমিস্টারের ক্লাস শেষ হতে না হতেই অন্য সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা ওই ক্লাসরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে ক্লাস রুমে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনঃসংযোগে যেমন ব্যাঘাত ঘটে, তেমনি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীরাও অস্বস্তি বোধ করেন। এদিকে নতুন একাডেমিক ভবনের কাজ শেষ হলেও সেখানে নতুন কোনো বিভাগকে স্থানান্তর করা হয়নি।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচতলায় করোনাকালীন বন্ধের আগে ছয়টি ক্লাসরুম ছিল। সেখানে পরিসংখ্যান বিভাগের দুটি কক্ষ, গণিত বিভাগের একটি, রসায়ন বিভাগের একটি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি সেমিনার কক্ষ ছিল। পরে রফিক ভবনের নিচতলায় সংস্কার করে একপাশে আধুনিক মেডিকেল সেন্টার, কাউন্সেলিং সেন্টার ও অন্যপাশে রেজিস্ট্রার দপ্তরের অফিস করা হয়। ফলে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে রয়েছে একটিমাত্র ক্লাসরুম। পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রফিক ভবনের নিচতলায় দুটা ক্লাসরুমে রেজিস্ট্রার দপ্তরের অফিস হওয়ার পর বিভাগের পাঁচটি ব্যাচকে মাত্র একটি কক্ষে ক্লাস করতে হয়। এতে তাদের পাঁচটি ব্যাচের ক্লাস-পরীক্ষা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া পরিসংখ্যান বিভাগের চার শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য একটিমাত্র টয়লেট বরাদ্দ রয়েছে। নামমাত্র একটি ল্যাব রয়েছে, যেখানে ২০ জনের বেশি ক্লাস করা যায় না এবং বেশিরভাগ কম্পিউটারই নষ্ট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউটিলিটি ভবনে রয়েছে তিনটি বিভাগÑসংগীত, নাট্যকলা ও চারুকলা। তিনটি বিভাগেই রয়েছে শ্রেণিকক্ষ সংকট। এ তিন বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাসের সময় সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। নাট্যকলায় বর্তমান মাস্টার্স ও নতুন ব্যাচসহ একইসঙ্গে আটটি ব্যাচ অধ্যয়নরত, অথচ বিভাগের ক্লাসরুম মাত্র চারটি। এক ব্যাচের প্র্যাক্টিকাল থাকলে আরেক ব্যাচ ক্লাস করতে পারে না। ক্লাস শিডিউল থাকলেও বাতিল হয়। আবার সব থিওরি ক্লাস হলে হুটহাট ক্লাসের জায়গার অভাব দেখা দেয়। তখন থিওরি নিয়েও একই ক্লাস বাতিল, ছাদে বা অন্য কোথাও বসে ক্লাস করতে হয়। এছাড়া তিন বিভাগের শিক্ষকরা একই রুম শেয়ার করে ক্লাস পরিচালনা করেন।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শ্রেণিকক্ষ সংকটের পাশাপাশি বর্ষাকালে কক্ষে পানি ঢুকে যায়, ওপর থেকে পলেস্তারা খসে নিচে পড়ে। বিভাগটিতে শিক্ষকদের বসার জন্যও পর্যাপ্ত কক্ষ নেই। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষকদের একাধিক কক্ষ থাকলেও শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ মাত্র একটি। বাকি দুটি রুম উম্মুক্ত লাইব্রেরির জন্য ব্যবহার করে। জরুরি প্রয়োজনে শ্রেণিকক্ষ ধার করে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের।

নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান শামস্ শাহরিয়ার কবি বলেন, আমাদের শ্রেণিকক্ষ সংকট চরম পর্যায়ে। কষ্ট করে আমাদের ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুবিধা দিতে পারি না, কষ্ট লাগে। আমাদের বিভাগের কয়েকটি রুম স্টোরের কথা বলে তালা মেরে রাখা হয়েছে। অসংখ্যবার আমরা রুমের জন্য আবেদন করেছি, সাড়া পাইনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কক্ষ বরাদ্দ কমিটির আহ্বায়ক ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্ষ বরাদ্দ হবে। আমরা চেষ্টা করছি এটা সমাধান করার। এ সংকট সমাধান করা রাতারাতির কোনো বিষয় নয়। সম্প্রতি ডিন ও চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শ্রেণিকক্ষ কোনো বিভাগের একার নয়। দুপুরের পর আমাদের অনেক বিভাগের ক্লাস থাকে না। সে সময় ওই কক্ষগুলোয় অন্য বিভাগের ক্লাস দেয়া যায় কি না, সেটা ভাবছি। উপাচার্য মহোদয় এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন।