দিনের খবর স্পোর্টস

ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বিসিবি সভাপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক: আগামী মাসের শুরুতেই বাংলাদেশের ভারত সফর। তার আগে পরশু শুরু থেকে অনুশীলন ক্যাম্প টাইগারদের। এদিকে আজ থেকে মাঠে গড়াচ্ছে জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ডের খেলা। কিন্তু তার আগে হঠাৎ করেই দেশের ক্রিকেটে উঠেছে ঝড়। সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালরা ১১ দাবিতে ডেকেছেন ধর্মঘট, যা ষড়যন্ত্র বলেই মনে করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ‘এটা একটা ষড়যন্ত্রের অংশ।’

বেশ আগে থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তারই অংশ হিসেবে এবার ভারত সফর বন্ধ করার জন্যই ক্রিকেটারদের দিয়ে হঠাৎ করে ষড়যন্ত্রকারী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এমনটাই মনে করেন নাজমুল, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। ওরা এখন চায় ভারত সফরে যদি না যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে। এটা ষড়যন্ত্রের অংশ। কিছুদিনের জন্য সময় চাইছি। সবকিছু প্রকাশ করা হবে।’

ক্রিকেটারদের দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত বিসিবি। কিন্তু ধর্মঘটে যাওয়ার আগে কেন দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাকে জানালো না ক্রিকেটাররা। প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন নাজমুল হাসান, ‘ক্রিকেট উন্নয়নের জন্য আমরা যখন অনেক কাজ করছি, তখনই এসব বিষয় (১১ দফা দাবি) সামনে আনায় তাতে চিন্তা করার বিষয় আসলেই এসব কোনো দাবি কিনা? আর দাবিই যদি থাকে সেটা পেশ না করে সিদ্ধান্তের সুযোগ না দিয়ে খেলা বন্ধ কীভাবে আগে আসে? দাবি না মানলে কেউ বলতে পারে খেলব না। আগে খেলা বন্ধÑএটা খুবই চিন্তার বিষয়। এটি নিয়ে আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি।’

কিসের ধর্মঘট। তা কিন্তু অনেক ক্রিকেটারই জানে না। আসল পরিকল্পনা জানে দুই-তিনজন। তাদের খুঁজে বের করার এক ধরনের হুমকিই গতকাল সংবাদ সম্মেলনে দিয়েছেন নাজমুল, ‘পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। একজন লোকই আছেন, যিনি বারবার এসব করছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে। এ ষড়যন্ত্রের কথা সরকার থেকে শুরু করে সবাই জানে। সব ক্রিকেটার এটির সঙ্গে জেনে শুনে জড়িয়েছেন বলে মনে হয় না। এক-দুজন জানতে পারে। এ মুহূর্তে বের করা দরকার, কারা এ কাজ করছে। কিছুদিনের সময় চাচ্ছি আপনাদের কাছে। সব বের করে ফেলব।’

ক্রিকেটাররা দাবির কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও জানাতে পারতেন। দাবি নাজমুলের, ‘ওদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। আমার চেয়ে বেশি মনে হয় না কেউ যোগাযোগ রাখে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে শুরু করে সবকিছুতে কথা হয়। আমি তো বহুদূর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও ওদের অ্যাকসেস আছে। বলার কিছু থাকলে ওরা বলতে পারত।’

সামনেই ভারত সফর। খেলোয়াড়রা যদি যায় ভালো, যদি না যায় নাই। যাবে না। কিছুর বলার নেই নাজমুলের, ‘আমাদের ভারত সিরিজের ক্যাম্প শুরু হচ্ছে। খেলোয়াড়রা যদি যায় ভালো, যদি না যায় নাই। যাবে না। আমার কিছু বলার নাই। আর যদি ক্রিকেটাররা বসতে চায়, বসতে পারে; যে কোনো সময়েই। এখানে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করে সম্পূর্ণ ভুল তথ্য দিয়ে জাতীয় দলের একেকটা খেলোয়াড় কী পরিমাণ টাকা পায় আপনারা জানেন! তারপরও বলে তারা নাকি কিছুই পায় না। যে পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা ওদের দেওয়া হয়। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। সব দাবিই মানার মতো। এসব তো চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছে।’

টাকার জন্য ধর্মঘটে ক্রিকেটাররা, এটা বিশ্বাস করতে পারছেন না নাজমুল হাসান। ধর্মঘটের পেছনে কোনো কারণ আছে। এগুলো একটা পরিকল্পনার অংশ। ক্রিকেটের ইমেজ নষ্ট করার জন্য এ পরিকল্পনা ছিল। সেদিক থেকে তারা সফল হয়েছে বলে মেনে করেন দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটির সভাপতি।

সর্বশেষ..