সম্পাদকীয়

সংকট কাটিয়ে উঠুক পোলট্রি শিল্প

 

‘গাজীপুরের স্বল্প পুঁজির পোলট্রি খামারিরা বিপাকে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন গত ২৯ জানুয়ারি দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, উপকরণের দাম বাড়া ও মুরগির দাম কমে যাওয়ায় শত শত খামারি বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে নানা সংকটে গত এক দশকে কয়েক হাজার খামার বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক খামারি ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ারও চিন্তাভাবনা করছেন বলে খবরে প্রকাশ।

বাংলাদেশ আমিষ উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ, যদিও গড় আমিষ গ্রহণের হার এখনও সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেনি। আমিষ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে পোলট্রি ও মাছশিল্পের সঙ্গে যুক্ত খামারিরা। পুকুরে মাছ চাষ করে বাংলাদেশ মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে। একইভাবে পোলট্রি শিল্পের মাধ্যমে ডিম ও মাংস উৎপাদনের হার স্থানীয় চাহিদা মেটানোর কাছাকাছি। কিছুটা ঘাটতি আছে গোমাংস উৎপাদনে। এক সময় বাংলাদেশ গোমাংসের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল হলেও সে দেশ থেকে ‘আমদানি’ বন্ধ হওয়ায় গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ চাহিদা মেটাচ্ছে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে। আশা করা যায়, বছর দুয়েকের মধ্যে এক্ষেত্রেও দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। সুতরাং জাতীয়ভাবে আমিষের চাহিদা পূরণে খামারিদের ভূমিকাকে গুরুত্বের সঙ্গেই দেখতে হবে।

পোলট্রি শিল্প যে এর আগে সমস্যায় পড়েনি, তা নয়। ২০০৩-০৪ সালে থাইল্যান্ড ও ভারতে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়লে এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। ধস নামে পোলট্রি ব্যবসায়। ২০০৭ সালেও বার্ড ফ্লুর কারণে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ব্যবসায় মন্দার কারণে সময় সময় খামারিরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। প্রতিবারই তারা আবার সাহসের সঙ্গে বিপদের মোকাবিলা করে উঠে দাঁড়িয়েছেন। আমরা আশা করি, এবারও তারা একইভাবে প্রতিকূলতা ও সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন। এটুকুও মনে রাখতে হবে, যে কোনো ব্যবসায় লাভ-লোকসান থাকবেই। ক্রেতাদের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগও আসে, অনেক সময় কারণ ছাড়াই পোলট্রি খামারিরা মুরগি, ডিম ও হাঁসের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেন। আমাদের বাজারব্যবস্থা যেহেতু দুর্বল, সুতরাং এর সুবিধা সবাই নেয়। মূল ভোগান্তি পোহাতে হয় ক্রেতাদের। উপকরণের দাম বৃদ্ধি তো নতুন কিছু নয়! যদিও দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে কয়েকটা দিন লেগে যায়; কিন্তু উপকরণের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দাম বেড়ে যায় মুরগি ও ডিমের। খামারিরা কিন্তু এক্ষেত্রে ছাড় দেন না! অন্যদিকে মুরগিকে বিষাক্ত বা ভেজাল খাবার খাইয়ে দ্রুত বড় করা কিংবা রোগাক্রান্ত মুরগি বাজারে বিক্রি করার মতো অভিযোগ তো রয়েছেই। খামারিরা যদি গুরুত্বের সঙ্গে এসব বিবেচনা করতেন, তাহলে মুরগির দাম বাড়ার বিষয়টিকে ক্রেতারাও দেখতেন সহানুভূতির সঙ্গে। তারপরও আমরা বলবো, কোনো ক্ষেত্রেই সংকট ভালো নয়। পোলট্রি শিল্প দ্রুত সংকট কাটিয়ে উঠবে এ আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..