প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সংকট মেটাতে ডলার কিনবে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজারে ডলারের সংকট মেটাতে ডলার কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে আলোচনা করে।

গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী। গভর্নরের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি) ছাড়াও ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

সুর চৌধুরী বলেন, ধারণা করা হচ্ছে হুন্ডি বেড়ে যাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে কমছে রেমিট্যান্স। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে ও হুন্ডি প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোকে ভূমিকা রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশে নগদ ডলারের যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটা দূর করতে ডলার কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার চেয়ে এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সভায় চলতি ও নতুন মুদ্রানীতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণের সার্ভিস চার্জ, হল-মার্ক গ্রুপের অনুকূলে সোনালী ব্যাংকের স্বীকৃত বিল, ভালো গ্রাহকদের প্রণোদনা ও আগের ব্যাংকার্স সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে জানিয়ে সুর চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বারবার নির্দেশনার পরও ভালো গ্রাহকদের সুদে রিবেট বা ছাড় দিতে অনীহা দেখাচ্ছে বেশিরভাগ ব্যাংক। ২০১৫ সালের মার্চে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করা উদ্যোক্তাদের সুদহারে বিশেষ ছাড়ের নির্দেশনা পরিপালন করেছে মাত্র ছয়টি ব্যাংক। ১৬টি ব্যাংক এ সুবিধার জন্য মুনাফা থেকে একটি অংশ আলাদাভাবে সংরক্ষণ করেছে। বাকি ৩৪টি ব্যাংক সুবিধা দেবে কি না, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে দরকষাকষি করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ১০ শতাংশ সুদ কমানোর যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই পালন করতে হবে। তা না-হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেপুটি গভর্নর বলেন, নির্দেশনার আলোকে বাধ্যতামূলকভাবে সব ব্যাংককে এ সুবিধা দিতে হবে। সুবিধা না দেওয়ার সুযোগ কোনো ব্যাংকের নেই। মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ঋণের সার্ভিস চার্জ ১৪ থেকে নামিয়ে ছয়টি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকগুলোকে পরিপালন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ভালো ঋণগ্রহীতাদের সুদহারে রিবেট দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত ছিল, তা মাত্র কয়েকটি ব্যাংক দিয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলোকে রিবেট দেওয়ার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্পের ঋণের প্রায় ১৪ ধরনের চার্জ আদায় করছে ব্যাংকগুলো। লোন অ্যাপ্লিকেশন ফি, লোন প্রসেসিং ফি, ডকুমেন্টেশন ফি, সার্ভিস চার্জ, লিগ্যাল ফি, এপ্রাইসাল ফি, সার্ভে ফি, মর্টগেজ ফি, আর্লি সেটেলমেন্ট ফি, ব্যাংক গ্যারান্টি, মনিটরিং ফি, রিনিউয়াল ফি ইত্যাদি নামে চার্জ আদায় করে। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবি চার্জের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে কোনো কোনো ব্যাংক। এতে ঋণের কার্যকর সুদহার ৪ থেকে ৬ শতাংশ বেড়ে যাচ্ছে। তাই সার্ভিস চার্জ আদায়ের ছয়টি খাত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান স্প্রেড যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমানতের বিপরীতে যে পরিমাণে সুদহার কমেছে ঋণের বিপরীতে সেই হারে কমেনি। এতে আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতরা উভয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গ্রাহক ঠকানো এ কৌশল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে হল-মার্ক জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকগুলো সোনালী ব্যাংকের স্বীকৃত বিলের বিপরীতে গ্রাহকের অনুকূলে সৃষ্ট ফোর্সড লোনের বিপরীতে সুদ আদায় করবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া যেসব ব্যাংক পাওনা আদায়ে মামলা করেছিল ওই সব মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।

জানা গেছে, দেশের উন্নত ঋণ সংস্কৃতি গড়ে তোলা ও ভালো ঋণগ্রহীতাদের নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ২০১৫ সালে আদায় হওয়া সুদের ওপর ১০ শতাংশ রিবেট দেওয়ার বিধান জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু মাত্র ছয়টি ব্যাংক পাঁচ কোটি ৬০ লাখ টাকা রিবেট দিয়েছে এবং ১৬টি ব্যাংক রিবেট দেওয়ার জন্য ৫৭ কোটি টাকা প্রভিশন সংরক্ষণ করেছে। বাকি ৩৪টি ব্যাংক এখনও রিবেট দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ভালো গ্রাহকদের রিবেট দিতে ব্যাংকার্স সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।