দিনের খবর মত-বিশ্লেষণ

সংবাদপত্র শিল্পে প্রণোদনা সময়ের দাবি

সকালবেলা এক কাপ চা অথবা কফির সঙ্গে সংবাদপত্র পড়ার মজাই আলাদা। সচেতন পাঠক  সংবাদপত্রের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবাদপত্রের আয় অর্ধেকের কোঠায় নেমে এসেছে। এতে এই শিল্পে জড়িতরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে সংবাদপত্র বিক্রি করেই সংসার চালান, সেই হকারদের অনেকেই করুণ অবস্থায় দিন যাপন করছেন।

বর্তমান অবস্থায় অনেকে বাসায় সংবাদপত্র রাখা বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা মনে করছেন সংবাদপত্রের মাধ্যমে করোনা ছড়াবে। বাসায় বা অফিসে সংবাদপত্র না রাখলেও আমরা কিন্তু সংবাদ দেখা বন্ধ করিনি। আমরা নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সংবাদের প্রতি, যার অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেসব খবর আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাই, সেগুলোর বেশিরভাগই সত্য নয়, বড়জোড় আংশিক সত্য হয়। দায়িত্বহীনভাবে যে কেউ সংবাদ সরবরাহ করতে পারেন, কিন্তু সংবাদপত্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তথ্যবহুল, নির্ভরযোগ্য সংবাদ, সংবাদ বিশ্লেষণের জন্য সংবাদপত্রের শরণ হতেই হবে।

সংবাদপত্র শিল্পে জড়িতরা কঠিন পরিশ্রম করে একেকটি সংবাদ সংগ্রহ করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সংবাদ সংগ্রহের জন্য ছুটে যান, যা কভিডকালেও থেমে নেই।

শিশু-কিশোররা অনেক সময় টিভি বা মোবাইল ফোনে সময় কাটায়, ভিডিও গেমস খেলে বা কার্টুন দেখে। আর এখন তো সব শিশুরই স্কুল বন্ধ। তারা বাসায় একদম বিরক্তিকর সময় কাটাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে টিভি দেখা ও গেমস খেলায় শিশুদের চিন্তাশক্তি হ্রাস পায়, সৃজনশীলতা। মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাদের হাতে সংবাদপত্র তুলে দিলে নতুন কিছু জানতে পারবে। প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্রেই সপ্তাহের একটি দিনে বাচ্চাদের জন্য বিশেষ আয়োজনে বিশেষ এক পাতা থাকে। সেই পাতাজুড়ে থাকে তাদের জন্য গল্প-কবিতা-চিত্রাঙ্কন-কৌতুকের ব্যবস্থা।

আমরা এখন অনেকে অনলাইন সংবাদ পড়ছি। অনেক সংবাদপত্র অনলাইন সংস্করণ রাখছে, কিন্তু ছাপার কপি কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে মুদ্রণশিল্পের সঙ্গে জড়িতরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে, সরকারকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। এর সঙ্গে জড়িতরা যেন ঠিকভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, তাদের আয়-রোজগার যেন ঠিক থাকে। সরকার সংবাদপত্রকে ভর্তুকি দিতে পারে, যেমন পোশাক শিল্পকে সাহায্য করেছে।

মাসুমা সিদ্দিকা 

কল্যাণপুর, ঢাকা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..