খবর দিনের খবর

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে স্বাস্থ্যের ডিজি উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

গতকাল সংসদ ভবনে কমিটির এ বৈঠকে কভিডকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাসহ নানা কেনাকাটা নিয়ে আলোচনা হয়। সংসদীয় কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আজকে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা ছিল। কিন্তু ডিজি বৈঠকে আসেননি। কমিটির সভাপতি এ নিয়ে ডিজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছেন। যদি ব্যবস্থা নেয়া না হয়, তবে বিষয়টি সংসদে অধিবেশনে উত্থাপন করা হতে পারে।’

কমিটির সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, ‘স্বাস্থ্যের ডিজি বৈঠকে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি কমিটির সভাপতি বিস্তারিত বলতে পারবেন।’

কেন অনুপস্থিত ছিলেন সে বিষয়ে খুরশীদ আলমের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।

শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, আ ফ ম রুহুল হক, আব্দুল আজিজ, সৈয়দা জাকিয়া নুর, রাহগির আলমাহি এরশাদ (শাদ এরশাদ) ও মো. আমিরুল আলম মিলন অংশ নেন।

বৈঠকে কভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর এ পর্যন্ত কত টাকার মাস্ক ও কিট কেনা হয়েছে, টিকা সংকট মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, টিকা কোন প্রক্রিয়ায় কেনা হচ্ছে, কভিড-১৯ মোকাবিলায় আইসিইউ ও অক্সিজেনের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাব্য সংকট থেকে উত্তরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা এখনও না পৌঁছানোয় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা।

কমিটির সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, ‘অনেকে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে যে, তারা প্রণোদনা পাননি। অনেক ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই মানুষগুলো মারা গেছেন। তাদের পরিবার নিঃস্ব। তারা প্রণোদনা ঠিকমতো না পাওয়ায় পরিবার কষ্টে থাকছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে বলেছি দ্রুত এই প্রণোদনা যাতে সংশ্লিষ্টদের পরিবারের কাছে পৌঁছায়।’

বৈঠকে অংশ নেয়া সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কমিটির কাছে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়টি আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয় নানা রকম আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা তুলেছে। কমিটি বলেছে, এসব জটিলতা দূর করাই মন্ত্রণালয়ের কাজ।

সরকারিভাবে টিকা উৎপাদনের চিন্তা কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, গত এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের গবেষক সানজান কে দাস স্বাস্থ্য সচিবের কাছে সরকারি পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে অবকাঠামো তৈরি করতে একটি প্রস্তাব পাঠান। সানজান দাসের টিকা তৈরির প্রযুক্তির আরএনডি ও প্রিক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে বলে কার্যপত্রে বলা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগসের বিদ্যমান কিছু অবকাঠামো ও নতুন কিছু যন্ত্রপাতি কিনলে টিকা উৎপাদন সম্ভব বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টির কারিগরি দিক পর্যালোচনার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বিবেচনা করছে।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দেশের সব জনগণকে টিকার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির গত বৈঠকে কভিডের টিকা তৈরির জন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ‘উৎসাহ’ দেয়ার সুপারিশ করা হয়।

ওই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় জানায়, তিনটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের টিকা তৈরির সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। এগুলো হলো ইনসেপ্টা লিমিটেড, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস ও হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এর মধ্যে ইনসেপ্টার কভিড-১৯ ভ্যাকসিন রেডি টু ফিল ও মাস্টার সিড উভয় প্রক্রিয়ার সক্ষমতা রয়েছে। পপুলারের মাস্টার সিড থেকে উৎপাদনের সক্ষমতা নেই। হেলথ কেয়ার টিকা এখনও কোনো টিকা উৎপাদনে যায়নি।

এদিকে বৈঠকে তথ্য বিভ্রান্তি এড়াতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যদান ও পর্যালোচনা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেয়ার লক্ষ্যে অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..