সম্পাদকীয়

সংসদ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীলতা কাম্য

শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা আবশ্যক। বুধবার দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ : একাদশ জাতীয় সংসদ (প্রথম থেকে পঞ্চম অধিবেশন)’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, একাদশ সংসদ আইন প্রণয়ন, সরকারের জবাবদিহি ও জনপ্রতিনিধিত্ব কোনো ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত ভূমিকা দৃশ্যমান নয়।

টিআইবির পর্যবেক্ষণের যে অংশটি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে তা হলো, আইন প্রণয়নের আলোচনায় সংসদ সদস্যদের ‘কম অংশগ্রহণ, অনাগ্রহ ও দক্ষতার ঘাটতি’। টিআইবি বলছে, অধিকাংশ সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যকর জবাবদিহি করার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও সংসদে সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না, এটি প্রত্যাশিত নয়।

সংসদে কোরাম সংকট একটি আলোচিত বিষয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেওয়া হলফনামায় নির্বাচিত সদস্যদের উল্লেখ করা প্রধান পেশা বিশ্লেষণ করে টিআইবি বলেছে, ৬১ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী, আইনজীবী প্রায় ১৩ শতাংশ, রাজনীতিক মাত্র পাঁচ শতাংশ এবং অন্যান্য পেশার সদস্য রয়েছেন ২১ শতাংশ।

আমরা জানি না, সংসদ সদস্যরা ‘সদস্য’ পদকে আয়ের উৎস হিসেবে নিয়েছেন কি না। কিন্তু সংসদে তাদের অনুপস্থিতি বেদনাদায়ক। ২০১৯ সালের পাঁচটি অধিবেশনে মোট ১৯ ঘণ্টা ২৬ মিনিট কোরাম সংকট ছিল, যা পাঁচটি অধিবেশনের প্রকৃত মোট ব্যয়িত সময়ের ১৭ দশমিক তিন শতাংশ। তাতে পাঁচটি অধিবেশনে প্রতি কার্যদিবসে গড় কোরাম সংকট ছিল ১৯ মিনিট। প্রথম থেকে পঞ্চম অধিবেশন পর্যন্ত কোরাম সংকটে ব্যয়িত মোট সময়ের অর্থমূল্য ২২ কোটি ২৮ লাখ ৬৩ হাজার ৬২৭ টাকা। অবশ্য  টিআইবি বলেছে, অধিবেশন পরিচালনার প্রতি মিনিটের প্রাক্কলিত অর্থমূল্য থেকে বাস্তব অর্থমূল্য আরও বাড়তে পারে। কারণ জাতীয় সংসদের অনুন্নয়ন ব্যয় ও বিদ্যুৎ বিল ছাড়াও সংসদ পরিচালনায় আরও কিছু সেবা খাত রয়েছে, যার ব্যয় এ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং সর্বশেষ অর্থবছরের বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ করতে না পারায় ওই বছরের হালনাগাদ তথ্যও সন্নিবেশিত করতে পারেনি।

সংসদ সদস্যদের কাছে আইন প্রণয়ন তেমন গুরুত্ব পায়নি বলেই প্রতীয়মান। পাঁচটি অধিবেশনে আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে ৯ শতাংশ সময় ব্যয় করা হয়েছে। বিল উত্থাপন এবং বিলের ওপর সদস্যদের আলোচনা ও মন্ত্রীর বক্তব্যসহ একটি বিল পাস করতে সংসদে গড়ে প্রায় ৩২ মিনিট সময় ব্যয় হয়েছে। অধিকাংশ সদস্যের ভূমিকা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

গণতন্ত্র, সুশাসন ও সরকারকে যথানিয়মে কার্যকর রাখতে সংসদ সদস্যদের জাতীয় সংসদে উপস্থিত থাকা এবং আইনপ্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখা আবশ্যক। রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহৎ কল্যাণার্থে সংসদ সদস্যরা তাদের শপথের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..