মত-বিশ্লেষণ

সচেতনতা ও পূর্বপরিকল্পনা কমাতে পারে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি

মো. আরাফাত রহমান : ভূমিকম্প শব্দটি দ্বারা যেকোনো ধরনের ভূকম্পনজনিত ঘটনাকে বোঝায় সেটা প্রাকৃতিক অথবা মনুষ্য সৃষ্ট যাই হোক না কেন। বেশিরভাগ ভূমিকম্পের কারণ হলো ভূগর্ভে ফাটল ও স্তরচ্যুতি হওয়া; কিন্তু সেটা অন্যান্য কারণ, যেমন অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস, খনিতে বিস্ফোরণ বা ভূগর্ভস্থ নিউক্লিয়ার গবেষণায় ঘটানো পারমাণবিক পরীক্ষা থেকেও হতে পারে। ভূমিকম্পের প্রাথমিক ফাটলকে বলে ফোকাস বা হাইপোসেন্টার। ভূ-অভ্যন্তরে শিলায় পীড়নের জন্য যে শক্তির সঞ্চয় ঘটে, সেই শক্তির হঠাৎ মুক্তি ঘটলে ভূপৃষ্ঠ ক্ষণিকের জন্য কেঁপে ওঠে এবং ভূত্বকের কিছু অংশ আন্দোলিত হয়। এরূপ আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনই ভূমিকম্প।

ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে দু-এক মিনিট স্থায়ী হয়। মাঝে মাঝে কম্পন এত দুর্বল হয় যে, তা অনুভব করা যায় না। কিন্তু শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি ও ধন-সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখান থেকে ভূকম্প-তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বলে। এই কেন্দ্র থেকে কম্পন ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গের মাধ্যমে সব দিকে ছড়িয়ে পড়ে। শিলার পীড়ন-ক্ষমতা সহ্যসীমার বাইরে চলে গেলে শিলায় ফাটল ধরে। তাই প্রায়ই ভূমিকম্পের কেন্দ্র চ্যুতিরেখা অংশে অবস্থান করে। সাধারণত ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৬ কিলোমিটারের মধ্যে এই কেন্দ্র অবস্থান করে। তবে ৭০০ কিলোমিটার গভীরে গুরুমণ্ডল থেকেও ভূকম্পন উত্থিত হতে পারে।

বিভিন্ন কারণে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়ে থাকে। আমাদের ভূপৃষ্ঠ অনেকগুলো প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত। এই প্লেটগুলো একটি আরেকটির থেকে আলাদা থাকে ফল্ট বা ফাটল দ্বারা। প্লেটগুলোর নিচেই থাকে ভূ-অভ্যন্তরের সব গলিত পদার্থ। কোনো প্রাকৃতিক কারণে এই গলিত পদার্থগুলোর স্থানচ্যুতি ঘটলে প্লেটগুলোরও কিছুটা স্থানচ্যুতি ঘটে। এ কারণে একটি প্লেটের কোনো অংশ অপর প্লেটের তলায় ঢুকে যায়, যার ফলে ভূমিতে কম্পন সৃষ্টি হয়। আর এই কম্পনই ভূমিকম্প রূপে আমাদের নিকট আবির্ভূত হয়। কখনও কখনও আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ও গলিত লাভা উৎক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হতে পারে। কখনও পাহাড় কিংবা উঁচু স্থান থেকে বৃহৎ পরিসরে শিলাচ্যুতিজনিত কারণে ভূমিকম্প হতে পারে। ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হয়ে পড়লে ফাটল ও ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে ভূমিকম্প হয়। ভূগর্ভে বাষ্প ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পেলে তা ভূত্বকের নিম্নভাগ ধাক্কা দেয়, ফলে প্রচণ্ড ভূকম্পন অনুভূত হয়। কখনও প্রকাণ্ড হিমবাহ পর্বতগাত্র থেকে হঠাৎ নিচে পতিত হয়েও ভূমিকম্প হয়।

ভারত ও মিয়ানমারের ভূ-অভ্যন্তরের দুটি ভূচ্যুতির প্রভাবে বাংলাদেশ আন্দোলিত হয়। ভারতীয়, ইউরেশীয় ও মিয়ানমারের টেকটনিক প্লেটের মধ্যে বাংলাদেশ অবস্থান করছে। ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেট দুটি দীর্ঘদিন হিমালয়ের পাদদেশে আটকে পড়ে আছে এবং অপেক্ষা করছে বড় ধরনের ভূকম্পনের। বাংলাদেশে আটটি ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি এলাকা বা ফল্ট জোন সচল অবস্থায় রয়েছে, যথা বগুড়া চ্যুতি এলাকা, রাজশাহীর তানোর চ্যুতি এলাকা, ত্রিপুরা চ্যুতি এলাকা, সীতাকুণ্ড টেকনাফ চ্যুতি এলাকা, হালুয়াঘাট চ্যুতির ডাওকী চ্যুতি এলাকা, ডুবরি চ্যুতি এলাকা, চট্টগ্রাম চ্যুতি এলাকা, সিলেটের শাহজীবাজার চ্যুতি এলাকা এবং রাঙামাটির বরকলে রাঙামাটি চ্যুতি এলাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লেমন্ট-ডোহের্টি আর্থ অবজারভেটরির ভূতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন বাংলাদেশের নিচে জমে ওঠা টেকটনিক প্লেটে চাপ জমে উঠছে কম করে বিগত ৪০০ বছর ধরে। এই চাপ যখন মুক্ত হবে, তখন সৃষ্ট ভূমিকম্পের মাত্রা দাঁড়াবে প্রায় আট দশমিক দুই রিখটার, এমনকি তা ৯ রিখটারেও পৌঁছাতে পারে। প্রায় ১৪ কোটি মানুষ এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে সাত দশমিক ছয় মাত্রার ভূমিকম্প হয় এবং ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে হয় ছয় মাত্রার ভূমিকম্প। এমনকি বুয়েটের মানমন্দিরে ২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত চার বছরে রিখটার স্কেলে চার মাত্রার ৮৬টি ভূ-কম্পন নথিভুক্ত করা হয়। এই সময়ের মধ্যে পাঁচ মাত্রার চারটি ভূকম্পনও ধরা পড়ে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানমন্দিরে ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কমপক্ষে ৯০টি ভূকম্পন নথিভুক্ত করা হয়, যার মধ্যে ৯টিরই রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল পাঁচের ওপরে এবং সেগুলোর ৯৫ শতাংশেরই উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা শহরের ৬০০ কিলোমিটারের মধ্যে। অতীতের এসব রেকর্ড থেকে দেখা যায় ভূমিকম্পের মাত্রা না বাড়লেও ১৯৬০ সালের পর থেকে ভূমিকম্প সংঘটনের হার বেড়েছে, অর্থাৎ ঘন ঘন স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে। মতবিরোধ থাকলেও অনেক ভূতাত্ত্বিক ছোট ছোট ভূমিকম্প সংঘটন বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বলে উল্লেখ করেন। অতীতের এসব রেকর্ডকে প্রাধান্য দিয়ে গবেষকরা জানিয়েছেন, কোনো সময় বাংলাদেশে রিখটার স্কেলে আট মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে।

সরকারি তথ্যসূত্রমতে, ঢাকায় রাতের বেলায় সাত থেকে সাত দশমিক পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প হলে লক্ষাধিক লোক হতাহত হবে। দিনের বেলায় হলে হতাহতের সংখ্যা হবে কিছুটা কম। ঢাকা সিটি করপোরেশন অঞ্চলের তিন লাখ ২৬ হাজার ভবনের ওপর পরিচালিত সমীক্ষা থেকে দেখা গেছে, এমন তীব্রতার ভূমিকম্পে প্রায় ৭২ হাজার ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, আরও ৮৫ হাজার  ভবন মাঝারি ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুধু দালান ভাঙার কারণে ক্ষয়ক্ষতি হবে ছয় থেকে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য সম্পদ। এমনকি জাতিসংঘ পরিচালিত ‘রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুলস ফর ডায়াগনোসিস অব আরবান এরিয়াস এগেইন্সট সিসেমিক ডিজাস্টার’ জরিপে ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্বের ২০টি শহরের মধ্যে ঢাকাও অন্যতম।

যদিও ভূমিকম্পের সময় সুরক্ষার কোনো গ্যারান্টি নেই, আগাম পরিকল্পনার সঙ্গে সম্ভাব্য বিপদগুলো চিহ্নিতকরণ জীবন বাঁচাতে পারে এবং আঘাত ও সম্পত্তির ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে:

১. বাড়িতে সম্ভাব্য বিপদগুলো পরীক্ষা করা: যেমন দেয়ালে সঠিকভাবে তাক লাগানো, বড় বা ভারী জিনিস নিচের তাকে রাখা, ব্রেকেবল আইটেম যেমন বোতলজাত খাবার, কাচপাত্র বন্ধ ক্যাবিনেটে সংরক্ষণ করা, ছবি ও আয়নার মতো ভারী জিনিস বিছানা, সোফা ও যেকোনো বসার জায়গা থেকে দূরে ঝুলিয়ে রাখা, ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ মেরামত করা, সিলিংয়ে কোনো গভীর ফাটল থাকলে মেরামত করা, কাঠামোগত ত্রুটি থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া এবং কীটনাশক এবং জ্বলনযোগ্য পণ্য নিচের তাক ও বদ্ধ ক্যাবিনেটে নিরাপদে সংরক্ষণ করা।

২. বাড়ির ভেতরে ও বাইরে নিরাপদ স্থান শনাক্ত করা: ভারী ডেস্ক বা টেবিলের মতো আসবাবের নিচে, কোনো অভ্যন্তরীণ প্রাচীরের বিপরীতে, যেখান থেকে জানালার কাচ, আয়না ও ছবি ভেঙে চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে বা ভারী বুককেস ও অন্যান্য ভারী আসবাব পড়ে যেতে পারে, সেখান থেকে দূরে কোনো স্থান; ভবন, গাছ, টেলিফোন ও বৈদ্যুতিক লাইন, ওভারপাস ও এক্সপ্রেসওয়ে থেকে দূরে খোলা জায়গা এবং দেয়ালের খুঁটি ও বিম যা নিরাপদ জায়গা হিসাবে কাজ করতে পারে।

৩. নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের শেখানো: জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করা, সম্পত্তি কীভাবে ভূমিকম্প থেকে রক্ষা করা যায় সেগুলো জানা, কীভাবে ও কখন পুলিশ, বা ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এবং কোনো রেডিও স্টেশনকে জরুরি তথ্যের জন্য ফোন করতে হবে, তা বাচ্চাদের শেখানো এবং কীভাবে ও কখন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বন্ধ করতে হয়, তা পরিবারের সকল সদস্যকে শেখানো।

৪. প্রয়োজনীয় উপকরণ কাছে রাখা: টর্চলাইট ও অতিরিক্ত ব্যাটারি, পোর্টেবল ব্যাটারিচালিত রেডিও, প্রাথমিক চিকিৎসা কিট ও ম্যানুয়াল, জরুরি খাবার ও পানি, কম্বল, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অর্থ।

৫. জরুরি যোগাযোগ পরিকল্পনা তৈরি করা: ভূমিকম্পের সময় পরিবারের সদস্যরা একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের পরে পুনরায় একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করা, বাইরে থাকা কোনো আত্মীয় বা বন্ধুকে পরিবারের যোগাযোগকেন্দ্র ব্যবহার করা, নিশ্চিত হওয়া যে পরিবারের প্রত্যেকে পরিচিত ব্যক্তিটির নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর জানে এবং ভূমিকম্পের সময় পরিবারের সদস্যরা পৃথক হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে পুনরায় একত্রিত হওয়ার জন্য একটি সুপরিচিত জায়গা নির্ধারণ করে রাখা।

৬. এলাকার মানুষকে প্রস্তুত হতে সহায়তা করা: ভূমিকম্প-সম্পর্কিত জরুরি তথ্যসহ স্থানীয় পত্রিকায় একটি বিশেষ বিভাগ প্রকাশ করা, স্থানীয় জরুরি পরিষেবা অফিস ও হাসপাতালগুলোর ফোন নম্বর মুদ্রণের মাধ্যমে তথ্যটি প্রচারকরণ, ভূমিকম্পের সময় কী করা উচিত সে সম্পর্কে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করতে স্থানীয় জরুরি পরিষেবাগুলোর সঙ্গে কাজ করা, ভূমিকম্প ড্রিল পরিচালনা করার বিষয়ে পরামর্শ প্রদান। ভূমিকম্পের সময় যতটা সম্ভব নিরাপদ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে যে কয়েকটি ভূমিকম্প এলে একটি বৃহত্তর ভূমিকম্প হতে পারে। ভূমিকম্প বন্ধ হওয়া অবধি বাড়ির ভেতরে থাকতে হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রস্থান করতে হবে।

ঘরের ভেতরে থাকলে মাটিতে, টেবিলে বা অন্যান্য শক্ত আসবাবের নিচে শুয়ে পড়া, কাছে যদি কোনো টেবিল বা ডেস্ক না থাকে তবে মুখ ও মাথা হাত দিয়ে ঢেকে রাখা; দরজা ও দেয়ালের বাইরের অংশ এবং যেসব জিনিস ভেঙে পড়তে পারে, যেমন আলোকসজ্জা বা আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকা; ভূমিকম্পের সময় মাথা বালিশ দিয়ে চেপে ধরে রক্ষা করা; যদি ভারী কোনো কিছুর নিচে পড়ার সম্ভাবনা থাকে সেক্ষেত্রে নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া; আশ্রয়ের জন্য একটি প্রবেশদ্বার কেবল তখনই ব্যবহার করা, যদি এটি কাছাকাছি থাকে এবং যদি এটি দৃঢ়ভাবে সমর্থিত হয়, ভূমিকম্প বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ভেতরে থাকা। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ জখম ঘটে যখন ভবনের ভেতরে লোকেরা অন্য কোনো জায়গায় চলে যেতে চায়, বা ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। নিশ্চিত হতে হবে বিদ্যুৎ চলে গেলেও  স্প্রিংকলার সিস্টেম বা ফায়ার অ্যালার্ম যেন চালু হতে পারে এবং লিফট ব্যবহার না করা।

ঘরের বাইরে থাকলে বিল্ডিং, স্ট্রিটলাইট ও ইউটিলিটি তারের কাছ থেকে থেকে সরে যাওয়া, ভূমিকম্প বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত একেবারে খোলা জায়গায় অবস্থান করা, চলন্ত গাড়িতে থাকলে সুরক্ষার জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব থেমে যাওয়া এবং গাড়িতে থাকা; বিল্ডিং, গাছ, ওভারপাস ও ইউটিলিটি তারের কাছাকাছি বা তার নিচে না থামা; ভূমিকম্প বন্ধ হয়ে গেলে সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং ভূমিকম্পের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও সেতু এড়িয়ে চলা। ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে পড়লে ম্যাচ না জ্বালানো, রুমাল বা পোশাক দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা, পাইপ বা দেয়ালে আস্তে আস্তে শব্দ করা যাতে উদ্ধারকারীরা দ্রুত শনাক্ত করতে পারে অথবা যদি সঙ্গে থাকে তবে হুইসেল ব্যবহার করা এবং শুধু শেষ অবলম্বন হিসেবে চিৎকার করা, কারণ অতিরিক্ত চিৎকার শরীর ক্লান্ত করে দেয় এবং বিপজ্জনক পরিমাণে ধুলো নিঃশ্বাসের সঙ্গে দেহের ভেতরে নিয়ে যেতে পারে।

ভূমিকম্পের পরে আঘাত লেগেছে কি না, সেজন্য নিজেকে পরীক্ষা করা; আহত বা আটকে পড়া ব্যক্তিদের সহায়তা করা; গুরুতর আহত লোকদের যদি আরও আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা না থাকে তবে তাদের জোর করে সরানোর চেষ্টা না করা; ছোট অগ্নিকাণ্ডের সন্ধান পেলে নিভিয়ে আগুনের বিপত্তি দূর করা; পেট্রোল বা অন্যান্য জ্বলনীয় তরল তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার করা; সতর্কতার সঙ্গে কক্ষ ও দরজা খোলা। ভূমিকম্পের পরে আফটারশক বিল্ডিংয়ের আরও ক্ষতি করতে পারে। তাই আফটারশকস হওয়ার আগে বেরিয়ে আসা, প্রতিবেশীদের যাদের বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে তাদের সহায়তা করা, প্রবীণ ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অতিরিক্ত যত্ন নেয়া, জরুরি তথ্য ও নির্দেশাবলির জন্য পোর্টেবল ব্যাটারিচালিত রেডিও শোনা, ক্ষতিগ্রস্ত বিল্ডিংয়ের বাইরে থাকা, বিমা দাবির জন্য বাড়ির ক্ষয়-ক্ষতির ছবি তোলা, সর্বোপরি সাবধানতার সঙ্গে প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়া।

সহকারী কর্মকর্তা

ক্যারিয়ার অ্যান্ড প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস বিভাগ

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..